সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 182
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বারুহাস পশুর হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় এর কাছ থেকেই টাকা নেওয়া হচ্ছে। এজন্য রশিদে লেখা হচ্ছে না টাকার পরিমাণ। এতে হাটপ্রতি অবৈধভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন ইজারাদাররা।সরেজমিনে পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, রশিদে ক্রেতার নাম, ঠিকানা এবং কত টাকায় পশুটি কেনা হলো সেটি উল্লেখ করা আছে। তবে হাটে খাজনা বাবদ কত টাকা নেওয়া হলো সেটি উল্লেখ করা হচ্ছে না। কিন্তু ইজারাদাররা গরুর ক্ষেত্রে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং খাসির ক্ষেত্রে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা আদায় করছেন। এছাড়া বিক্রেতার কাছে আরও অতিরিক্ত ৫০ থেকে ১০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী গরু ও মহিষের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা এবং ছাগল ও ভেড়ার ক্ষেত্রে সব্বোর্চ ৬০ টাকা খাজনা আদায়ের নির্দেশনা রয়েছে। গুরদাসপুর উপজেলার শফিকুল ইসলাম বারুহাস পশুর হাট থেকে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা দিয়ে একটি কোরবানির গরু কিনেছেন। তার কাছে পশুর খাজনা বাবদ ৬০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে তার হাতে থাকা খাজনার রশিদে খাজনার টাকা উল্লেখ নেই।
বারুহাস হাটে কোরবানির পশু কিনতে আসা আরেক ক্রেতা বাবলু হক জানান, তারা (ইজারদাররা) যেটা চাচ্ছে সেটাই দিতে হচ্ছে। এখানে জনগণের কিছু করার নেই। প্রতিবাদ করলে খারাপ আচরণের শিকার হতে হবে। আনোয়ার হোসেন নামে আরেক ক্রেতা জানান, খাজনা বাবদ ৬০০ টাকা চেয়েছিল। আমি ৫০০ টাকা দিই। কিন্তু রশিদে খাজনার পরিমাণ লেখা না দেখে, পুনরায় খাজনার পরিমাণ লিখতে বলি। তখন খাজনা আদায়ে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি বলেন এটা (খাজনার পরিমাণ) রশিদে উল্লেখ করতে হবে না। আমার কাছে মনে হচ্ছে অবশ্যই খাজনার পরিমাণ লেখা উচিত। পাকাপোক্ত একটা কাগজ দেওয়া দরকার, যাতে পরে কোনো ঝামেলায় না পড়ি।
তাড়াশ উপজেলার বারুহাস কোরবানির হাটে গরু বিক্রি করতে আসা আমিনুর রহমান জানান, তিনি তিনটি গরু বিক্রি করার জন্য নিয়ে এসেছিলেন। তার মধ্যে দুটি গরু বিক্রি হয়ে গেছে। বিক্রিত দুটি গরুর খাজনা বাবদ ইজারাদাররা তার কাছে ৪০০ টাকা নিয়েছেন। বারুহাস পশুর হাটের খাজনা আদায়ের সঙ্গে জড়িতদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা কেউ ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তবে তারা জানান, রশিদে কেউ খাজনার টাকা উল্লেখ করে না। সরকারিভাবে কত টাকা খাজনা তারা সেটিও জানেন না। ইজারাদাররা যে পরিমাণ খাজনা আদায় করতে বলেছেন সেটি তারা আদায় করছেন।
এ বিষয় জানতে চাইলে হাটের ইজারাদার এস.এম এনামুল হক জানান, প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে তাড়াশ উপজেলার সকল হাটে যেভাবে খাজনা নেয়া হচ্ছে আমিও সেভাবেই খাজনা নিচ্ছি আপনারা যা পারেন তাই করেন গিয়ে। তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নূরল ইসলাম জানান, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত খাজনার অতিরিক্ত খাজনা আদায় করার এখতিয়ার কারও নেই। অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের বিষয়ে কেউ অভিযোগ দিলে যথাযত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও পশুর হাটগুলো মনিটরিং জোরদার করা হবে।
আকাশজমিন/আরআর