কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি :
গোপালগঞ্জে
কোটালীপাড়া উপজেলায় কর্তব্যরত চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় সোহেল হাওলাদার নামে ১জনকে
আটক করেছে পুলিশ। সোহেল হাওলাদার উপজেলার ফেরধরা গ্রামের আজিজ হাওলাদারের ছেলে। গত
মঙ্গলবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ঘটনা
ঘটে।
জানাগেছে,
গত বৃহস্পতিবার (২৯ মে) সোহেল হাওলাদার তার অসুস্থ্য গর্ভবতী স্ত্রী ছাদিয়া খানমকে
নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির পরে সেখানে
কোন চিকিৎসক না থাকায় ডেলিভারি করাতে দেরি হয়। পরবর্তীতে ডেলিভারির পরে সোহেল হালদারের
স্ত্রীর ছাদিয়া খানমের মৃত বাচ্চা প্রসব করে। চিকিৎসক আসতে দেরি করায় সোহেল হালদারের
স্ত্রীর মৃত বাচ্চা প্রসব করে এমন অভিযোগে এনে সোহেল হাওলাদার আজ মঙ্গলবার উপজেলা স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা: অনুপম বাড়ৈ লিটুকে জরুরী বিভাগের রুমের দরজা আটকিয়ে
মারধোর করে। মারধরের পরে কোটালীপাড়া থানা পুলিশ এসে সোহেল হাওলাদারকে আটক করে।
উপজেলা
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা: অনুপম বাড়ৈ লিটু বলেন, আমি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের
জরুরী বিভাগে ডিউটিরত অবস্থায় ছিলাম। হঠাৎ একজন অপরিচিত লোক এসে রুমের দরজা বন্ধ করে
আমাকে মারধোর করতে থাকে। আমাকে মারধরের শব্দ পেয়ে আমার স্টাফরা দরজা ভেঙে আমাকে উদ্ধার
করে। শুনেছি সোহেল হাওলাদার কয়েক দিন আগে তার গর্ভবতী স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন।
আলট্রাসনোগ্রাম করে দেখা গেছে হাসপাতালে আনার ৪ দিন আগে তার বাচ্চা মারাগেছে। এই রোগীকে
আমি চিনি না এবং তাকে চিকিৎসাও করায়নি।
সোহেল
হাওলাদারের স্ত্রী ছাদিয়া খানম বলেন, আমি অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে গিয়েছিলাম। সেখানে
গিয়ে কোন ডাক্তার পাইনি। ডাক্তার আসতে দেরি করায় আমার বাচ্চা মারা গেছে। তাই এই কারণে
আমার স্বামী সোহেল হাওলাদার ডাক্তারকে মারধর করতে পারে।
উপজেলা
পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার কুমার মৃদুল দাস বলেন, একজন লোক এসে জরুরী বিভাগের
কর্তব্যরত চিকিৎসক অনুপম বাড়ৈ লিটুকে মারধর করে। মারধরের পরে কোটালীপাড়া থানা থেকে
পুলিশ এসে তাকে আটক করে নিয়ে যায়। আমরা প্রচলিত আইনি তার বিরুদ্ধে মামলা করবো।
কোটালীপাড়া
থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা:
অনুপম বাড়ৈ লিটুকে মাধরের ঘটনায় সোহেল হালদার নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে
মামলা দারের প্রস্তুতি চলছে।
আকাশজমিন/আরআর