উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি : / : 228
উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি:
রাজশাহীর প্রায় শতবর্ষি রেলওয়ে স্টেশন নন্দনগাছিতে আন্ত:নগর সব ট্রেনের স্টপেজ দাবিতে রেলপথ অবরোধ করেন স্থানীয়রা। বুধবার ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত নন্দনগাছিতে রেলপথ অবরোধ করে রাখা হয়। এতে রাজশাহী থেকে ছেড়ে যাওয়া বিভিন্ন গন্তব্যের কয়েকটি ট্রেন আটকা পড়ে।
সকালে রাজশাহী থেকে খুলনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেন সবার প্রথমে আটকা পড়ে। এরপর ঢাকাগামী মধুমতি এক্সপ্রেস ও চিলাহাটিগামী তিতুমীর এক্সপ্রেস আরেকটি স্টেশনে রাখা হয়। আর ঢাকাগামী বনলতা ও সিল্কসিটি এক্সপ্রেস রাজশাহী স্টেশনে থেকে যায়। আন্দোলন প্রত্যাহার করা হলে ট্রেনগুলো ছেড়ে যায়। অবরোধের ফলে কার্যত: রাজশাহী থেকে সারাদেশের সঙ্গে তিন ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঈদের ছুটি শেষে ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্ত্যব্যে ফেরা মানুষ এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
জানা গেছে, পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভোরে নন্দনগাছি স্টেশনের দুই পাশে লাল কাপড় টানিয়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেন স্থানীয়রা। এরপর তারা সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। আন্দোলনকারীরা স্টেশন সংস্কার ও আন্ত:নগর ট্রেন থামানোর দাবি-সম্পর্কিত বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন তুলে ধরেন।
তাদের দাবি, নন্দনগাছি স্টেশনে সিল্কসিটি এক্সপ্রেস, সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস, বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ও ঢালারচর এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতি দিতে হবে এবং স্টেশন সংস্কার করতে হবে। এই দাবি না মানা হলে আবারও ২০ জুন রেলপথ অবরোধের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বুধবার প্রায় তিনঘণ্টা অবরোধ থাকার পর রেলওয়ের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা নন্দনগাছি এসে অবরোধ তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানান। পরে সেখানে আসেন রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ। তিনি সবাইকে রেলপথ থেকে উঠে যাওয়ার অনুরোধ জানান। কিছুক্ষণ পর তারা রেলপথ ছেড়ে দেন।এর আগে একই দাবিতে গেল ১ মে আন্তঃনগর ট্রেন থামিয়ে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। সেদিন রাজশাহী ও চিলাহাটির মধ্যে চলাচল করা বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ও লোকাল মেইল ট্রেন থামিয়ে বিক্ষোভ করা হয়।
রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক আহম্মদ হোসেন মাসুম বলেন, নন্দনগাছি রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন থামানোর জন্য স্থানীয়রা দীর্ঘদিন থেকে আন্দোলন করছে। এর আগেও তারা অবরোধ করেছিলেন। বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, ১৯২৯ সালে উপজেলার নন্দনগাছী স্টেশনটি স্থাপিত হয়। তবে শতবর্ষী স্টেশনটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় ২০১৫ সালের শেষের দিকে। বন্ধের আগে ১২ জন জনবল থাকলেও বর্তমানে শুধু পোর্টারম্যান পদে একজন কর্মরত আছেন। এখানে দুটি লোকাল ট্রেন থামে। পুরো স্টেশনের প্লাটফর্মে ছাউনি আছে। স্টপেজ না থাকলেও অনেক সময় ক্রসিং এর জন্য দাঁড়ায় ট্রেন।
আকাশজমিন/আর্