কিশোরগঞ্জ ব্যুরোঃ
কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী গুরুই পালপাড়া গ্রামের বীরঙ্গনা সকিনা ওরফে ঘটকি বেগম (৯৩) আর নেই! তিনি মঙ্গলবার (১৭ জুন) ভোরে জেলার বাজিতপুর উপজেলার হিলচিয়া ইউনিয়নের বড়মাইপাড়া গ্রামে তাঁর এক আত্মীয়ের বাসায় এ বীরমুক্তিযোদ্ধা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন,হিলচিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাজহারুল হক নাহিদ।
মুক্তিযুদ্ধে
বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তিনি মহিলা
ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়
থেকে তিনি সম্মাননা পান।
নিঃসন্তান এই বীরঙ্গনার মুক্তিযোদ্ধা
গেজেট নং-৫৩৯ এবং
মুক্তিবার্তান নং-০১১৭০৪০২০৯।
তিনি জীবৎদ্দশায় স্মৃতি কাতর হয়ে দৈনিক
আকাশ জমিন পত্রিকার কিশোরগঞ্জ
ব্যুরো প্রধানকে বলেছিলেন, একাত্তরের মুক্তিসংগ্রাম চলাকালীন সময়ে আমি নিয়মিত
মুক্তিযোদ্ধাদের গোয়েন্দা হিসেবে কাজ করেছি। পাকবাহিনী
ও রাজাকারদের অবস্থান ও গতিবিধির খবরাখবর
মুক্তিযোদ্ধাদের জানাতাম।
সময়
মাস মনে নেই যুদ্ধকালীণ
সময়ে একদিন
সকালে তথ্য
সংগ্রহের জন্য বাজিতপুর উপজেলার
সরারচর তেজখালি পুলের কাছে যেতেই পাকবাহিনী
আমাকে বলে ‘কাহাসে আয়া
তোম লোক’। এর
প্রতি উত্তরে বীরঙ্গনা সকিনা বলেন, ‘ঘুমনেকি লিয়ে আয়া’ তখন
পাক বাহিনী সদস্যরা বলেন,খাটো বাঙ্গাল
উর্দ্দু বলতাহে। এরপর আমাকে আটক
করে সরারচর শিবনাথ বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়ে
যান। পাক সেনার আমার
উপর পাশবিক নির্যাতন চালায়।
পরে
বিকেলের দিকে আমাকে ছেড়ে
দেয়। দেশের জন্য আমি নিজ
সম্ভ্রম হারালাম। বিনিময়ে একটি স্বাধীন দেশের
জন্ম হলো। দেশ স্বাধীন
হওয়ার আগে নিকলী যেতে
চেত্রার আখড়ার কাছে আমার নিজ
রামদা দিয়ে কুপিয়ে ৪/৫জন রাজাকারদের মেরেছি।
বর্তমান সে দা-টি
ঢাকার সেগুনবাগিছায় অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা যাদুঘরে সংরক্ষন ও প্রদর্শনের জন্য
রাখা হয়েছে।
আকাশজমিন/আরআর