গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
রাজবাড়ী
জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া অমর আলী মোল্লা পাড়ায় ঘরের সীমানা নিয়ে দুই সহোদর
ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্বে ঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে ভুক্তভোগীর আনুমানিক ১ লক্ষ টাকার
ক্ষতি সাধন হয়েছে। এঘটনায় থানায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী মোসাঃ মুসলিমা খাতুন (২৫) থানায়
৩ জনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা
হলেন, গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের অমর আলী মোল্লা পাড়ার বাসিন্দা মৃত ইসমাইল
খানের ছেলে মো. আতাউর খান (৫০), আতাউর রহমানের ছেলে মো. আসিফ খান (১৮ ও স্ত্রী শাহানা
বেগম (৪৫)।
থানা
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ছয় মাস আগে বিবাদীরা ভুক্তভোগী মো. আমিরুল খান,
তার স্ত্রী মুসলিমা খাতুন এবং বয়স্ক মাকে মারপিট করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। তখন থেকেই
তারা বর্তমানে গোয়ালন্দ পৌর জামতলা মাষ্টার পাড়া এলাকার তোতার বাড়িতে ভাড়া নিয়ে বসবাস
করছেন। স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিষয়ে দুই সহোদর ভাইয়ের মধ্যে বিজ্ঞ
আদালতে মামলা চলছে।
এ
বিষয়ে অভিযোগের বাদী ভুক্তভোগী মোসাঃ মুসলিমা খাতুন বলেন, আমার স্বামী চাকরির সুবাদে
ঢাকায় থাকেন। আমরা ভাড়া বাসা নিয়ে বসবাস করি। এজন্য আমরা আমাদের বাড়ীসহ জায়গা অন্যত্র
বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিলে এ সুযোগে বিবাদীরা গত ১৭ জুন মঙ্গলবার আনুমানিক বিকেল সাড়ে
৪ টার দিকে আমার বসত ঘরের টিনের বেড়া, দরজার তালাসহ ওয়াল ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে
মালামাল ভেঙে প্রায় ১ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করে। তিনি আরও বলেন, আমি লোক মারফত খবর
পেয়ে বাড়িতে গিয়ে দেখি আমার ঘরের টিন, দেয়াল, দরজা ভাঙা। এসময় বিবাদীরা আমাকে দেখা
মাত্রই তেড়ে এসে বলে এই বাড়িতে আসলে তোকে খুন করে ফেলবো। উপায়ান্তর না দেখে প্রাণ বাঁচাতে
আমি থানায় হাজির হয়ে অভিযোগ দায়ের করি।
১৮
জুন বুধবার সরেজমিনে গিয়ে ১ ও ২ বিবাদী আতাউর খান ও তার ছেলে আসিফ খানকে পাওয়া যায়নি।
৩ নং বিবাদী শাহানা বেগম বলেন, আমার স্বামীর সাথে আমার দেবরের জমি নিয়ে ঝামেলা চলছে।
গত বুধবার উপজেলায় জমি বিক্রিতে আমার স্বামী
বাধা দিলে বাদীর লোকজন তাকে মারধর করে, সেই রাগে তিনি বাড়িতে এসে তাদের ঘর-বাড়ি ভাঙচুর
করে।
এবিষয়ে
ভুক্তভোগীর বেশ কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, তাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে জমি-জমা নিয়ে বেশ কয়েক
মাস ধরে ঝামেলা চলছে। হঠাৎ গত মঙ্গলবার বিকেলে আতাউর খান এসে তার ছোট ভাই আমিরুল খানের
বাড়ি ভাঙচুর করছে।
এ
ব্যাপারে গোয়ালন্দ ঘাট থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম বলেন, এ
ব্যাপারে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার সত্যতা জেনে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা
গ্রহণ করা হবে।
আকাশজমিন/আরআর