সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 164
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার ১ নম্বর সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নের ১, ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোছাঃ মনোয়ারার বিরুদ্ধে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে কার্ড দেওয়ার কথা বলে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ভিজিডি, বিধবা ও টিসিবি কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তিনি বহু মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, সদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের খামার গ্রামের বাসিন্দা সাবিনার কাছ থেকে ভিজিডি কার্ডের নামে ২ হাজার টাকা নিয়েছেন মনোয়ারা। সাবিনার স্বামী একজন প্রতিবন্ধী। একই গ্রামের ফাতেমা ও নাজমুলের কাছ থেকেও ভিজিডি কার্ডের আশ্বাস দিয়ে ২ হাজার টাকা আদায় করেছেন তিনি।
বেতিল ১ নম্বর ওয়ার্ডের লতার কাছ থেকে টিসিবি কার্ড বাবদ ১ হাজার
টাকা, এনায়েতপুর গ্রামের রাবেয়ার কাছ থেকে বিধবা কার্ড বাবদ ২ হাজার টাকা এবং তার
নাতনি আয়েশার প্রতিবন্ধী কার্ড বাবদ আরও ২ হাজার টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও মোছাঃ রাজ্জু খাতুনের কাছ থেকে বিধবা কার্ডের জন্য ৩ হাজার টাকা নেয়ার অভিযোগ
করেন ভুক্তভোগীরা।
এমনকি
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারীর কাছ থেকে টিসিবি
কার্ড ও টিউবল বাবদ ২ হাজার টাকা এবং এক বৃদ্ধার কাছ থেকে টিসিবি ও ভিজিডি কার্ডের
নামে ১৭০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠে এসেছে। প্রায় এক বছর পার হলেও কেউ এখনো কোনো কার্ড
বা অর্থ ফেরত পাননি।
ভুক্তভোগী
সাবিনা বলেন, “আমার স্বামী একজন প্রতিবন্ধী, খুব কষ্টে আমাদের সংসার। মনোয়ারা নিজে
বাড়িতে এসে ভিজিডি কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ২ হাজার টাকা নিয়েছেন কিন্তু কোন
কার্ড করে দিচ্ছে না। এখন টাকা ফেরত চাইলে নানা তালবাহানা করেন।”
নাজমুল
নামে আরেক ভুক্তভোগী বলেন, “মনোয়ারা একসময় মাটি কেটে খেতেন, সাধারণ মানুষের মতো জীবন
যাপন করতেন। তাই আমরা ভেবেছিলাম তিনি নির্বাচিত হলে গরিবদের পাশে থাকবেন। কিন্তু এখন
তিনিই গরিবদের টাকা আত্মসাৎ করছেন।
অভিযোগের
ভিত্তিতে ইউপি সদস্য মনোয়ারার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভিজিডি কার্ড বাবদ কোন
টাকা নেওয়া হয় নাই। শুধু বিধবা ও টিসিবি
কার্ড বাবদ ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা যাতায়াত বাবদ খরচ নিয়েছে মাত্র, আমি কারো কাছ থেকে
মোটা অংকের কোন টাকা নেই নাই। এনায়েতপুরে রাবেয়ার কাছ থেকে ১৫০০ শত টাকা নিয়ে ছিলাম,
সে টাকা আমি গতকাল ফেরত দিয়েছি। বাকি ব্যক্তিরা যদি টাকা ফেরত চায় তাহলে আমি সেই
টাকা ফেরত দিয়ে দিবো এবং তাদের কে কার্ড করে দিবো।
এ
বিষয়ে ১ নম্বর সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক তানভীর হাসান মুজুমদার বলেন,
“বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ
বিষয়ে জানতে চাইলে চৌহালী উপজেলার ইউএনও মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি তদন্ত
করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আকাশজমিন/আরআর