সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 155
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জের
তাড়াশে হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি রাস্তায় ঘুরছে বিশালদেহী হাতি। সেই হাতির পিঠে বসা মাহুত।
মাহুতের নির্দেশেই এক পথচারী থেকে আরেক পথচারী ও এক দোকান থেকে আরেক দোকানের সামনে
যাচ্ছে হাতিটি। এরপর শুঁড় সোজা এগিয়ে দিচ্ছে কাছে। শুঁড়ের মাথায় টাকা গুঁজে না দেওয়া
পর্যন্ত শুঁড় সরাচ্ছে না হাতিটি। এতে স্থানীয় পথচারী, গাড়িচালক ও ব্যবসায়ী অতিষ্ঠ তাদের
মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সিরাজগঞ্জের
তাড়াশ পৌরশহরের বিভিন্ন বাজারে এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। সরেজমিনে দেখা যায়,
হাতি দিয়ে টাকা তুলছেন মাহুত। সর্বনিম্ন ১০ টাকা থেকে শুরু করে পথচারী, গাড়ি ও দোকানির
ধরন অনুযায়ী ৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। তাড়াশ পৌরশহর বাজারের হাবিব ব্রাদার্স ঔষুধের
একটি দোকানে হাতি এসে শুঁড় এগিয়ে দিল। সঙ্গে সঙ্গে দোকানদার ১০ টাকা হাতিটির শুঁড়ে
গুঁজে দিলেন। টাকা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে ওই দোকানদার জানান, ‘টাকা না দিলে যাবে না। এ ছাড়া দেরি হলে
অনেক সময় ঝামেলা হয়। আমরা নিরুপায় হয়ে টাকা দেই।’
জলিল উদ্দিন নামে এক মোটরসাইকেল চালক জানান, এভাবে হাতি দিয়ে চাঁদা তুলতে সড়কে যানজট ও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। হাতি দিয়ে এভাবে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। টাকা নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে হাতির পিঠে বসে থাকা মাহুত জানান, ‘হাতির ভরণপোষণের জন্য সবাই খুশি হয়ে কিছু টাকা দেয়।’ টাকা নেওয়ার নিয়ম আছে কিনা জানতে চাইলে কোনো জবাব দেননি সেই মাহুত।
এ
বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান জানান, হাতি বা বন্যপ্রাণী
ব্যবহার করে সড়কে চাঁদাবাজি করার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেব।
এ
প্রসঙ্গে তাড়াশ থানার (ওসি) তদন্ত রুপু কর জানানা, চাঁদাবাজির খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পুলিশ
পাঠানো হয়েছে। মাহুতকে মুচলেকা নিয়ে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে তাদের নিজ এলাকায় ফিরে
যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
আকাশজমিন/আরআর