সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 139
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা বিভিন্ন হাটে বাজারে অবৈধ কারেন্ট জাল বিক্রি হচ্ছে প্রকাশ্যেই। সম্প্রতি বৃষ্টি ও জোয়ারে এলাকার নদী ও খালে পানি চলে আসছে সেই সাথে মাছও আসছে। এই সকল মাছ কে টার্গেট করে শিকারিরা ব্যপক ভাবে কারেন্ট জাল কিনছেন। অবৈধ এই কারেন্ট জাল বিক্রি হচ্ছে প্রকাশ্যেই। মাছের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এই কারেন্ট জাল আইনে নিষিদ্ধ, কিন্তু সেই আইন কেউ মানছে না।
কারেন্ট জাল বিশেষ এক ধরনের জাল, যার বৈজ্ঞানিক নাম 'মনোফিলামেন্ট ফিশিং নেট।' এই জালের সুতা অতিসুক্ষ যা জলাশয়ের ভিতরে মাছেরা দেখতে পায় না এবং বিদ্যুতের মতো আকর্ষিত হয়ে মাছ ফাঁসে আটকে যায়। এজন্য এর নাম 'কারেন্ট জাল'। সরেজমিনে, উপজেলা বিভিন্ন হাট বাজার ঘুরে দেখা যায়, দোকানিরা প্রকাশ্যে এসকল অবৈধ কারেন্ট জাল বিক্রি করছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বিক্রেতা জানান, প্রতিকেজি কারেন্ট জাল প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব জালের বেশির ভাগ উৎপাদিত হয় উল্লাপাড়ায়। উল্লাপাড়া সহ বিভিন্ন বাজার হতে তারা কারেন্ট জাল কিনে আনেন বিক্রি করার জন্য।প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানান, উপজেলার বিভিন্ন বাজারে এই অবৈধ জাল বিক্রি হচ্ছে। কারেন্ট জালে ছোট-বড় সকল মাছ ধরা পড়ে। তার কিছু অংশ যাচ্ছে বাজারে, বাকি মাছ যাচ্ছে শিকারিদের পেটে। সরকারি নিয়মে ৯ সেন্টিমিটারের ছোট মাছ ধরা নিষেধ। কিন্তু এখানে কোনো নিময়ই মানা হয় না। এমন কি এসব জাল দিয়ে জেলেরা দেশি প্রজাতির ডিমওয়ালা মাছ নিধন করছেন।
বর্ষার শুরু থেকে এসব জাল দিয়ে মাছ ধরা শুরু হয়। বন্যায় পানি বৃদ্ধির পর মাছ ধরার পরিমাণ আরোও বেড়ে যায়। মাছ শিকারিরা নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ শিকার করে নিজেদের অজান্তেই মৎস্য সম্পদকে হুমকির মুখে ফেলছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্রেতা দাবি করেন, বাজারে কারেন্ট জালের সহজলভ্যতা বন্ধ করতে হবে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালে সরকারের জারি করা মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইনের ৪ (১) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি কারেন্ট জালের উৎপাদন, বুনন, আমদানি, বাজারজাতকরণ, সংরক্ষণ, বহন ও ব্যবহার করতে পারবেন না। আইন ভঙ্গকারীকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা বা এক থেকে দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এছাড়া, মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৮৫ এর বিধি-১২ এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার মাছ ধরার ক্ষেত্রে, ৪.৫ সেন্টিমিটার বা তার কম ব্যাস বা দৈর্ঘ্যরে ফাঁস বিশিষ্ট জাল বা অনুরূপ ফাঁস বিশিষ্ট অন্য যেকোনো জালের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে।
তাড়াশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার মো. মশগুল আজাদ জানান, কারেন্ট জাল বিক্রির বিষয়টি তিনি শুনেছেন। কারেন্ট জাল জব্দ ও ধ্বংসের জন্য প্রতিটি হাট ও বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হবে। প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান জানান, অবৈধ কারেন্ট জাল ব্যবসায়ী ও বিক্রি কারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আকাশজমিন/আরআর