মাদারীপুর প্রতিনিধি:
মাদারীপুরের
রাজৈরে ইতালি প্রবাসী হালিম খানকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তার দ্বিতীয় শশুরের বসতবাড়িতে
আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। বুধবার দুপুরের দিকে রাজৈর উপজেলার বদরপাশা
ইউনিয়নের দারাদিয়া গ্রামের সোমেদ চৌকিদারের বসতবাড়িতে এ ঘটনা হয়।
পুলিশ
ও স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, সোমবার (২৩ জুন) রাতে সোমেদ চৌকিদারের বাড়িতে তার মেয়ে
রেশমা বেগমের স্বামী ইতালি প্রবাসী হালিম খানকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে মরদেহ রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে পালিয়ে যায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এই
ঘটনার জেরে বিক্ষুব্ধরা হালিম খানের ২য় শ্বশুরবাড়ি আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার
সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
উল্লেখ্য,
জেলার রাজৈরে ইশিবপুর ইউনিয়নের গোয়ালদি গ্রামের কলম খানের ছেলে ইতালি প্রবাসী হালিম
খানের সাথে ২০১৮ সালে মোবাইলে প্রেমের সম্পর্ক হয় পাশের দারাদিয়া গ্রামের ছোমেদ চোকিদারের
মেয়ে রেশমা আক্তারের সাথে। ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে তাদের বিয়ে হয়। এরপর ইতালি চলে
যায় হালিম। সেখানে গিয়ে শ্বশুরবাবাড়ির লোকজনের নামে টাকা পাঠায় সে। সেই টাকা দিয়ে শ্যালক
সবুজ চোকিদার একটি মোটরসাইকেল কিনেন। তিন মাস আগে ছুটিতে দেশে আসেন হালিম। পরে মোটরাসাইকেল
কেনা টাকা ফেরত চায়। এ নিয়ে শুরু হয় শ্বশুর বাড়ির লোকজনের সাথে বিরোধ। সবশেষ সোমবার
রাতে বাড়ি থেকে হালিমকে শ্বশুর বাড়ি ডেকে নিয়ে যায় শ্যালক সবুজ। পরে রাতেই হালিমকে
পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি ভিন্নখাতে নিতে হালিমের লাশ রাজৈর উপজেলা
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফেলে রেখে যায় শ্বশুর বাড়ির লোকজন। পরে নিহতের লাশ ময়না তদেন্তর
জন্য ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।
স্বজনরা
জানায়, ২০০৬ সালের ২১ ফেব্র“য়ারিতে পারিবারিকভাবে নতুন বাসস্ট্যান্ড
এলাকার আলি হায়দারের মেয়ে জবেদা সুলতানাকে বিয়ে করেন ইতালি প্রবাসী হালিম। পরে পারিবারিক
বিরোধে ২০১৮ সালের জুনে দুজনের ডিভোর্স হয়। নিহত হালিমের প্রথম ঘরে ১৩ বছরের মেয়ে ও
৭ বছরের ছেলে রয়েছে।
মাদারীপুরের
রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান জানান, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থালে
গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ইতালি প্রবাসীকে হত্যার ঘটনার জেরে পরবর্তীতে
এই ঘটনা ঘটে। প্রবাসীকে হত্যায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোন আসামি গ্রেফতার
করা সম্ভব হয়নি। এদিকে আর কোন ধরণের বিশৃঙ্খলা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশ তৎপর রয়েছে।’
আকাশজমিন/আরআর