নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনার
পূর্বধলা উপজেলার জালশুকা বাজারের পাঁচটি রবিদাস পরিবারের ওপর হামলা, বসতভিটা
থেকে উচ্ছেদ, ভাঙচুর, লুটপাট ও আহত করার
ঘটনার প্রতিকার চেয়ে সাংবাদিক সম্মেলন
করেছে বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত
জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন (বিডিইআরএম) ও নাগরিক উদ্যোগ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে
এ সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সাংবাদিক
সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিডিইআরএম’র কেন্দ্রীয় সাধারণ
সম্পাদক শিপন কুমার রবিদাস।
জেলা শাখার সভাপতি নন্দলাল রবিদাসের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন:
বাংলাদেশ রবিদাস ফোরামের (বিআরএফ) কেন্দ্রীয় নেতা রবিন রবিদাস,
বাংলাদেশ রবিদাস ছাত্র ফোরামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস স্বাধীন চন্দ্র
রবিদাস, ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্য সুনীল রবিদাস, অনিল রবিদাস, জয়ন্তী
রবিদাস, রিপন রবিদাস ও
কাজল রবিদাস প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্যে বক্তারা বলেন, ওই পাঁচটি পরিবারের ২২ জন সদস্য প্রায় ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে পূর্বধলা উপজেলার বিশকাকুনী ইউনিয়নের জালশুকা বাজার সংলগ্ন রেললাইনের পাশে সরকারি খাসজমিতে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু একটি প্রভাবশালী পক্ষ নিজেদের ওই জমিটি তাদের নিজেদের দাবি করলেও ভূমি অফিস সূত্রে যথাযথ প্রমাণ মিলেনি। গত ৬ জুন প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সুনীল রবিদাস, তার স্ত্রী জয়ন্তী রানী রবিদাস এবং পুত্র রিপন রবিদাসকে আঘাত করে মারাত্মকভাবে জখম করে।
পরে
তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। ২য় দফায়
৮ জুন বিকেলে তারা
ফের হামলা করে ৩টি ঘর
ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেয় এবং কোরবানীর
পশুর চামড়া কেনার জন্য ধার করা
টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটপাট
করে। এ ঘটনায় প্রতিকার
চেয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন ভূক্তভোগী অনিল
রবিদাস। মামলা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে
১০ জুন দুপুরে আবার
৩য় দফায় হামলা করে
অবশিষ্ট ২টি ঘরও ভেঙ্গে
দেয়। ফলে পাঁচটি পরিবারই
আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে।
বক্তারা
বলেন, সমাজের অত্যন্ত পিছিয়েপড়া দলিত (রবিদাস) জনগোষ্ঠীর ওপর এই হামলা,
ভাঙচুর, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকির
ঘটনাটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামিল এবং দেশের সংবিধান,
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচারের
মৌলিক নীতির পরিপন্থী। তারা পরিবারগুলোর অধিকার
রক্ষার্থে এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ
থেকে ঘটনাস্থলেই জমি বন্দোবস্ত ও
আবাসন নির্মাণ, আর্থিক সহায়তা ও নিরাপত্তা প্রদান
এবং হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। #
আকাশজমিন/আরাআর