ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

ঘাটাইলে জামাতার হাতে শাশুড়ি খুন


  • আপলোড সময় : সোমবার ৩০ জুন, ২০২৫ সময় : ৬:২৮ পিএম

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি॥

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার মানাজী (সিকদার বাড়ি) এলাকায় গত ২০ জুন হনুফা বেগম (৭০) নামের এক বৃদ্ধার খুনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ২১ জুন ছেলে হুমায়ুন সিকদার বাদী হয়ে ঘাটাইল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা সূত্রে জানা যায়, বাদী হুমায়ুন শিকদার দীর্ঘদিন যাবৎ ঘাটাইল এলাকায় পোল্ট্রি ব্যবসা করে আসছেন। ব্যবসার সুবাদে উপজেলা শহরে বাসা নিয়েই থাকেন তিনি। তার মা নিহত হনুফা বেগম (৭০) তার স্বামীর বসত ভিটা মানাজী (সিকদার বাড়ি)তে একাই বসবাস করতেন।

গত ২০ জুন আনুমানিক রাত  ১০ ঘটিকায় এশার নামাজ আদায় ও রাতের খাবার শেষে প্রতিদিনের মত ঘুমিয়ে পড়েন। ২১ জুন সকাল আনুমানিক ৯ ঘটিকায় প্রতিবেশীরা ডাকাডাকি করে কোন সাড়া না পেয়ে এক পর্যায়ে ঘরে প্রবেশ করে হনুফা বেগমকে বিছানায় নিথর অবস্থায় দেখতে পান এবং তার গলায় কালচে দাগ, বাম চোখের নিচে ও কপালে আঘাতের চিহ্ন দেখে তাকে হত্যা করা হয়েছে এমনটা সন্দেহ করা হয়। জানাজানি হলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে এবং মৃত-দেহ দেখতে পায় এবং নিহত হনুফার পরিহিত স্বর্ণালংকার সমূহ কানের দুল (৪ আনা), দুইটি বালা (১.৫ ভরি) ও একটি চেইন (৮ আনা), মোট ওজন ২ ভরি ৪ আনা এবং আনুমানিক মূল্য ৩,৬০,০০০/- টাকা নাই। পরে ঘাটাইল থানা পুলিশকে জানানো হলে সুরতহাল প্রতিবেদনের পর ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।

পরে ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশে, তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘাটাইল থানা পুলিশের চৌকস মেধাবী টিমের সহায়তায় ঘাটাইল উপজেলার ছামনা গ্রামের কাদের এর ছেলে আমিনুরকে অত্র মামলায় সন্দেহ করে। তারপর শুরু হয় রুদ্ধশ্বাস অনুসন্ধান ও অভিযান। তথ্য প্রযুক্তি অনুযায়ী তথ্যের ভিত্তিতে টাঙ্গাইল, ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, নেত্রকোনা অভিযান পরিচালনা করে অবশেষে সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যনগর থানাধীন মাটিয়ারবন্দ এলাকা  হতে আসামি আমিনুর ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর আমিনুর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানায়, ঘাটাইল উপজেলার পুরলীহাসন গ্রামের মৃত মকবুল এর ছেলে শাহজাহান নিহত হনুফা বেগম এর মেয়ের জামাই ও আমিনুর একত্রে হনুফা বেগমকে গলায় ওড়না পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। গ্রেফতার আমিনুর এর নিকট হতে নিহত হনুফা বেগম এর ব্যবহৃত স্বর্ণের চেইন ও কানের দুল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঘাটাইল থানা পুলিশ। অপর আসামি শাহজাহানকে ঘাটাইলের আমিন বাজার এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত হনুফা বেগম সৌখিন মানুষ ছিলেন। তিনি সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতেন। তিনি সব সময় প্রায় ৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার পরিহিত অবস্থায় থাকতেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর মো. রাজু আহমেদ জানান, তাদের টাকার প্রয়োজন হওয়ায় ঘাতক শাহজাহান এর সাথে আমিনুর ঘটনার ৩ দিন আগে থেকে পরিকল্পনা করে। যেহেতু শাহজাহান মিয়ার শাশুড়ী বাড়িতে একা থাকেন, তাই তার নিকট থেকে স্বর্ণালঙ্কার কেড়ে নেয়া সহজ হবে এবং সেটা বিক্রি করে টাকার চাহিদা মেটাতে পারবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯ জুন রাতে হনুফা বেগম এর ঘরে গিয়ে তার নিকট থেকে স্বর্ণালঙ্কার কেড়ে নেয়ার পরিকল্পনা করলেও সেদিন বৃষ্টি থাকায় তারা দু'জন যেতে পারেনি।

পরিকল্পনানুযায়ী ২০ জুন দিবাগত রাত অনুমান ২ ঘটিকায় নিহত হনুফা বেগম এর বাড়ির সামনে গিয়ে আমিনুর ও শাহজাহান নিহত হনুফাকে ফোন দিয়ে দরজা খুলে দিতে বলে। শাহজাহান নিহতের মেয়ের জামাই হওয়ায় হনুফা বেগম দরজা খুলে দেয়। এক পর্যায়ে শাহজাহান ও  আমিনুর নিহতের পরিহিত গলার ওড়না গলায় পেঁচিয়ে ঘরের মেজেতে ফেলে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের চাহিদা অনুযায়ী নিহত হনুফা বেগম এর পরিহিত স্বর্ণালংকার খুলে নিয়ে আমিনুর ও শাহজাহান হনুফাকে মাটি থেকে ওপরে তুলে খাটে শুয়িয়ে রেখে পালিয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, রুদ্ধশ্বাস অভিযানে ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সজল খান, এসআই মো. রাজু আহমেদ, এসআই সানাউল ইসলাম, কনস্টেবল মো. মালেক ও মো. জাহিদ এর সমন্বয়ে টিম গঠন করে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।

আকাশজমিন/আরআর

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর