মোহনগঞ্জ (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি:
চিকিৎসক ঘাটতিসহ তীব্র জনবল সংকটে ভুগছে নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। দীর্ঘদিন ধরে বিঘ্নিত হচ্ছে এর সেবা কার্যক্রম। ডাক্তার, নার্স,মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট, ফিল্ড স্টাফসহ বিভিন্ন পদ শূন্য। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসা সেবা দেয়া কঠিন, বলছেন চিকিৎসকরা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও নার্স কর্মচারী সংকটে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না।
২০২৩ সালে ৫০ শয্যার এই হাসাপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও সেবা পাচ্ছে না স্থানীরা। এই হাসপাতালটি পার্শ্ববতী উপজেলা-সহ প্রায় ৮ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার ভরসাস্থল। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জানা গেছে, ১০০ শয্য এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ২১ জন স্বাস্থ্য কর্মকর্তার পদ থাকলেও আবাসিক কর্মকর্তাসহ কর্মরত আছেন মাত্র ৪ জন। পর্যায়ক্রমে তাদের দিয়ে জরুরি ও অন্তঃবিভাগের কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এর মধ্যে ২০১৪ সালে থেকে অনুপস্থিত রয়েছেন ২ জন চিকিৎসক, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত ছাত্রদের চিকিৎসার জন্য এসেসমেন্টে অন্যন্ত্রে রয়েছেন ১ জন। নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে রয়েছেন ১ জন। এদিকে চিকিৎসক সংকটে ছোট ছোট সমস্যাতেও রোগীদের রেফার্ড করা হচ্ছে নেত্রকোণা কিংবা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। চিকিৎসক না থাকায় বিপুলসংখ্যক রোগীকে কতৃপক্ষ দায় এড়াতে অন্যত্রে রেফার্ড করছেন। বুধবার সরেজমিনে হাসপাতালটি ঘুরে দেখা যায়, বহির্বিভাগে নারী, শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের রোগীদের দীর্ঘ লাইন। লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার পর চিকিৎসক দেখাতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন অনেকেই।
হাসপাতাল
নার্স ও স্থানীয় সূত্রে, মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি হাওর বেষ্টিত খালিয়াজুরী,মদন,
বারহাট্রা, কারমাকান্দা, ধর্মপাশা, মধ্যনগর, জামালগঞ্জ, তাহেরপুর, সাছনাসহ অদূরে মোহনগঞ্জ
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির অবস্থান হওয়ায় এই হাসপাতালটির গুরুত্ব অনেক বেশি। ছোট-বড় দুর্ঘটনায়
দ্রুত চিকিৎসার জন্য আহতদের এই হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় তাদের
পাঠানো হয় নেত্রকোণা কিংবা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেসহ বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে।
এতে পথেই অনেক সময় রোগীর মৃত্যু ঘটে।
আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডা: জান্নাতুন নেছা ও ডেন্টাল সার্জন মাহবুবা আক্তার আঁখি বলেন,এসব ঘাটতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে অনেকেই নিরুপায় হয়ে জেলা কিংবা প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এতে ব্যয় ও ভোগান্তি দুইটাই বাড়ছে।
জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মোঃ মোমেনুল ইসলাম বলেন, এই সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা প্রদান কঠিন হয়ে পড়েছে। আবাসিক চিকিৎসক কর্মকর্তাসহ হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট রয়েছে। পোস্ট হিসাবে ২৮ জন। ২১ জন চিকিৎসকের মধ্যে সব মিলিয়ে ৪ জন আছে। তাদের দিয়ে জরুরি ও অন্তঃবিভাগের কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত ছাত্রদের চিকিৎসার জন্য এসেসমেন্টে অন্যত্র রয়েছেন ১ জন। নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে আছেন ১ জন। সবগুলো সার্পোট থাকলে আরও ভাল চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হতো। যেমন: ডাক্তার, নার্স, স্টাফ যদি যথাযথ পরিমাণে থাকতো। তাহলে যে সমস্ত সুযোগ সুবিধা আছে তা প্রয়োগ করে। চিকিৎসা সেবার মান আরও বৃদ্ধি করা যেতো। হাসপাতালটিতে স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা না গেলে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ার শংকা স্থানীয়দের।
আকাশজমিন/আরআর