এম.আর রুবেল, ভৈরব
ঢাকা-সিলেট
মহাসড়ককের পাশে ভৈরব থানার একটি পুকুরে প্যাঁক্ প্যাঁক্ করে সাঁতার কাটছে হাজারো হাঁস।
১জুলাই, মঙ্গলবার দুপুরে পিকআপ থেকে নামিয়ে হাঁসগুলোকে ছাড়া হচ্ছে থানার পুকুরে। এ
ঘটনা দেখতে পথচারীরাও চলার পথে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে
রাস্তার পাশে। কিন্তু কেন থানার এ পুকুরে হাঁস ছাড়া হচ্ছে সবার মাঝে একটাই কৌতুহল।
শহিদ
মিয়া নামে পথচারীদের একজন পুলিশের কাছ থেকে আস্তে করে শুনেছেন হাঁস গুলো ডাকাতি হয়েছিল। হাঁসও ডাকাতি হয়, বিশ্বাসই করতে পারছেননা তিনি।
এক মুখ থেকে অন্য মুখে ছড়িয়ে পড়ে হাঁস ডাকাতির ঘটনা। এবিষয়ে জানতে সাংবাদিকরা জড়ো হয়
থানার সামনে। পাশের পুকুরে ছাড়া হাঁসগুলো ছবি
তুলায় ব্যস্ত স্থানীয় সংবাদকর্মীরা। ততক্ষণে মানুষের ভীড় বাড়ে। থানার গেইটের সামনে
রাখা পিকআপের লোকজনও উপস্থিত সেখানে।
তখন
পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানাযায়,
গত ২৯জুন রাত সাড়ে তিনটার দিকে লক্ষ্মীপুর রোডের কাঁশবন এলাকায় একটি মাইক্রোবাস রাস্তায়
আড়াআড়ি ভাবে রেখে ৫/৬জন যুবক পিকাপে থাকা ১৪০৫টি হাঁসসহ ঢাকা-মেট্রো-ন-২০-৯৪৬৯ নাম্বারের
পিকআপটি অস্ত্রের মুখে ডাকাতি করে নিয়ে যায়। পিক-আপের চালক টিটু মিয়া (২৫) ও হেলপার
মোঃ রিপন মিয়া তার মালিককে ঘটনাটি জানান।
পরে
এঘটনাটি ভৈরব থানার ওসিকে অবগত করে পিক-আপের মালিক আবদুল হান্নান মিয়া (৬০) একটি লিখিত
অভিযোগ দেন। পরে পুলিশ হাঁস ও পিকআপ উদ্ধারসহ ডাকাত দলকে গ্রেফতার করতে কাজ শুরু করেন।
ঘটনার দুইদিন পর শহরের বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে তিনজনকে আটক করেন এবং তাদের তথ্যমতে হাঁসগুলো উদ্ধার
করেন। তবে এখনো পিকআপটি উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
আজ
বুধবার তাদেরকে কিশোরগঞ্জ জেল হাজতে পাঠায় পুলিশ।
আটককৃতরা হলো-বাজিতপুর উপজেলার রুবেল মিয়া, ভৈরব উপজেলার শুম্ভপুরে গ্রামের
আপন মিয়া ও বাপ্পী মিয়া।
অভিযোগে
জানাযায়, ২৮ জুন, সন্ধ্যায় নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার শিবপুর এলাকা থেকে রোকন
মিয়ার ১৪০৫টি হাঁস পিকআপে লোড করে ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলায় যাওয়ার জন্য রওনা করেন।
রাত সাড়ে দশটার দিকে কুলিয়ারচরের ছয়সূতি এলাকায় পৌছাইলে পিকআপটির যান্ত্রিক সমস্যা
হয়। তা মেরামত করে ২৯ জুন রাত সোয়া তিনটায় ভৈরব শহরের লক্ষীপুর রোডের কাঁশবন রেস্টুরেন্টের
সামনে ৫/৬জন যুবক রাস্তা আটকিয়ে হাঁস ভর্তি পিক-আপ দেশীয় অস্ত্রের মুখে নিয়ে যায় এবং
ড্রাইভারের একটি স্মার্টফোন ও নগদ ৬৫০০/টাকা নেয়ার পর ড্রাইভার ও হেলপারকে ধাক্কা দিয়া
রাস্তার পাশে ফেলে দেয়। হাঁস গুলোর বাজার মুল্য
৩,৩০,০০০/- (তিন লক্ষ ত্রিশ হাজার) টাকা। ডাকাতের মুখমণ্ডল গামছা দিয়ে বাধা
ছিলো তখন।
এ
বিষয়ে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার ফুহাদ রুহানি বলেন, ডাকাতির ঘটনার পর
ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ অভিযানে নামে এবং তিনজনকে আটক করে। পরবর্তীতে
আটককৃতদেরকে আরো জিজ্ঞেসাবাদে কে কে ঘটনায় জড়িত আছে খুঁজে বের করা হবে। বর্তামানে আসামীদের
কিশোরগঞ্জ কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে।
আকাশজমিন/আরআর