ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

শিবগঞ্জে বিদ্যালয়ের মাঠের ভেতর দিয়ে পাকা রাস্তা, ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৮ জুলাই, ২০২৫ সময় : ৪:৫৫ পিএম

শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার চন্দনপুর ইউনাইটেড দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে মাঠের মাঝদিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে চলাচলের পাকা রাস্তা ও সীমানা প্রাচীর। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বিদ্যালয়টি। প্রায় সাড়ে ৫ বিঘা জমির উপর বিদ্যালয়টি দাড়িয়ে থাকলেও দেখলে মনে হবে একটি রুগ্ন জরাজীর্ণ বিদ্যালয়। ৫৯ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি বিদ্যালয়টিতে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এলাকার প্রভাবশালীরা জোর করে বিদ্যালয়ের মাঠের মাঝ দিয়ে প্রাচীর দিয়ে বিদ্যালয়টিকে শুধু ছোটই করেনি, প্রাচীরের সাথে একেবারে মাঠের মধ্যদিয়ে চলাচলের পাকা রাস্তা নির্মাণ করেছে। দখলকরে নিয়েছে মাঠটি। ফলে ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার আটমূল ইউনিয়নের চন্দনপুর ইউনাইটেড দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রায় সাড়ে ৫ বিঘা জমির উপর অবস্থিত। এ বিদ্যালয়ের পশ্চিমাংশে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ও আছে। বিদ্যালয় দুটোই চন্দনপুর গ্রামের মধ্যে অবস্থিত। একসময় বেশ সুনাম ছিলো বিদ্যালয়ের। বিদ্যালয়ের মাঠের মধ্য দিয়ে নির্মিত হয়েছে পাকা রাস্তা। সেখানে সারা দিন দাপিয়ে বেড়ায় মোটরসাইকেল, ট্রাক,  নসিমন, করিমন, অটো ভ্যানসহ নানান ধরনের পরিবহন। মাঠের মধ্যে খরের পালা, এলাকার মানুষের ধান শুকানো, গো-চারনসহ নানা কাজে ব্যবহার হয় খোলা মাঠটি। ফলে যে সমস্ত অভিভাবক নিরুপায় হয়ে এখানে সন্তান ভর্তি করান সারাক্ষণ আতঙ্কে থাকেন দুর্ঘটনার ভয়ে। ফলে আগের তুলনায় অর্ধেকেরো কম শিক্ষার্থী আছে বিদ্যালয়টিতে। মেয়েদের জন্য আলাদা ছোট্ট একটা টয়লেট থাকলেও ছাত্র ও শিক্ষকরা মিলে একটা টয়লেট ব্যবহার করেন। নেই সুপেয় পানির ব্যবস্থা। ৫৯ বছর ধরে একটা ভবন নিয়ে ধিক ধিক করে চলছে বিদ্যালয়টি। বিদ্যালয়ের নামে আছে প্রায় সাড়ে ৫ বিঘা ধানী জমি ও পুকুর। সেগুলো কোন উপকারেই আসেনি বিদ্যালয়টির। ওই জমি থেকে গত ২ বছরে পেয়েছে মাত্র তিন হাজার টাকা। জমি দাতা সদস্যরা নিজেরা বিদ্যালয়ের নামে জমি গুলো ভোগ-দখল করে থাকেন।

চন্দনপুর ইউনাইটেড দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোঃ মোস্তফা, রেজভী, আনজুম, আক্কাস, আবির সকলে জানান, বিদ্যালয়ের মধ্যে দিয়ে পাকা রাস্তা হওয়ার ফলে আমাদের সারাক্ষণ সতর্ক হয়ে চলতে হয়। এখান দিয়ে নসিমন, করিমন, দ্রুত গতির মোটরসাইকেলের কারণে স্কুলের ছাত্রছাত্রী এক রকম বন্দি অবস্থায় আছে। সব চাইতে খারাপ ব্যাপার হলো অ্যাসেম্বলির সময়ে যখন ছাত্রছাত্রীরা জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে তখন দুই পাশ থেকে মোটরসাইকেল আর নসিমন-করিমনের উচ্চ আওয়াজ আসে । আমাদের খুব সমস্যা হয়। মাঠের মধ্য দিয়ে রাস্তা হওয়ার কারনে আমরা আগের মতো আর খেলা-ধূলা করতে পারিনা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোজাহারুল হান্নান বলেন, তৎকালীন সভাপতির সদ ইচ্ছায় বিদ্যালয়ের মাঠের মধ্যদিয়ে পাকা সড়ক নির্মাণ হয়েছে। এতে আমার কোন সমস্যা নেই।

বিদ্যালয়ের শরিরচর্চা শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বিদ্যালয়টি ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে কোন উন্নয়ন হয়নি। আমরা খুব কষ্ট করে পাঠদান চালাচ্ছি। শিক্ষকদের জন্য আলাদা কোন টয়লেট নেই। ছাত্র শিক্ষক একই টয়লেট ব্যবহার করছি।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কৃষি) বাদশা আলগীর জানান, বিদ্যালয়ের মাঠের মাঝখান দিয়ে রাস্তাটা নিয়ে আমরা সমস্যায় আছি। রাস্তাটি যদি মাঠের দক্ষিন দিক দিয়ে হতো তাহলে বিদ্যালয়ের খুব উপকার হবে। বিদ্যালয়ের নামে সাড়ে ৫ বিঘা সম্পত্তি আছে। আমরা বিদ্যালয় থেকে জমির খাজনা পরিশোধ করলেও বিদ্যালয়টি জমি থেকে কোন সুফল পায়না। ঐ এলাকার ইজিবাইক চালক রবিউল বলেন, রাস্তা যে দিক দিয়ে থাকবে, সেই দিক দিয়েই যাবো। মাঠের পাশ দিয়ে রাস্তা থাকলে চলাচলের কোন সমস্যা হবে না।

একই এলাকার দুদু মিয়া বলেন, বিদ্যলয়ের  বাউন্ডারি ও রাস্তা দেওয়া হয়েছে মাঠের মধ্যে নিয়ে। যে কারণে স্কুলের পাশ দিয়ে অনেক জায়গা বেদখল হয়ে যাচ্ছে। স্কুলের মাঝ দিয়ে পাকা রাস্তা থাকায় শিক্ষার্থীদের খেলা-ধূলাসহ অনেক সমস্যা হয়। তিনি আরও বলেন, এই স্কুলে আমি নিজেও শিক্ষার্থী ছিলাম। তখন থেকে দেখে এসেছি স্কুলের অনেক সমস্যা। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনকে একাধিকবার মৌখিকভাবে অবগত করা হয়েছে। আশ্বাস পাওয়া যায়, সমাধান হয় না। এবিষয়ে বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে বিদ্যালয়ে নতুন কমিটি হয়েছে। বিষয়টি পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

শিবগঞ্জ  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, আবেদন পেয়েছি। বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। তাছাড়া  বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ও রাস্তা যাতে  মাঠের এক পাশদিয়ে হয় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এ ছাড়াও  অন্যান্য যে সমস্যাগুলো আছে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের  চেষ্টা করা হবে।

আকাশজমিন/আরআর

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর