শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ
বগুড়ার
শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে বুধবার (৯জুলাই) উপজেলার সচিয়ানী
গ্রামে পরিবেশ বিরোধী আকাশমনি ও ইউক্যালিপটাস গাছের চারা বিনষ্ট করেন উপজেলা নির্বাহী
কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান।
এ
বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, আকাশমনি ও ইউক্যালিপটাস গাছ অন্যান্য
গাছের তুলনায় অতিরিক্ত পানি শোষণ করে এবং পাতা মাটিতে পচনের ফলে মাটির (পিএইচ) কমিয়ে
দেয়। ফলে মাটির এসিডক হয়। ফলে ফসল সঠিক ভাবে বেড়ে উঠতে পারে না।
তিনি
আরো বলেন, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক উল্লেখিত গাছের চারা উৎপাদন রোপন ও বিক্রি করা
যাবে না। বিক্রি করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি নার্সারি মালিকদের নার্সারি
গাইড লাইন ২০০৮ মেনে চলার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।
ইউক্যালিপটাস গাছের অপকারিতা
ইউক্যালিপ্টাস
গাছ আশপাশের প্রায় ১০ ফুট এলাকার ও ভূগর্ভের প্রায় ৫০ফুট নিচের পানি শোষণ করে আকাশে
উঠিয়ে দেয়। এই গাছ রাতদিন ২৪ ঘণ্টাই জল শোষণ করে বাতাসে ছাড়ে। এর ফলে মাটিতে জলের
ঘাটতি দেখা দেয়। তাই এই গাছ শুষ্ক বা মৌসুমী জলবায়ু যুক্ত পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
এই গাছের আশপাশে অন্য প্রজাতির গাছ জন্মাতে পারে না কারন এই গাছের পাতায় প্রচুর টক্সিন
থাকে যা গাছের গোড়ায় পড়ে আশেপাশের মাটিকে বিষাক্ত করে তোলে। এ গাছ মাটিকে শুষ্ক
করার ফলে মাটিতে অবস্থিত মিনারেলগুলো আয়ন অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসে যার ফলে দেশীয়
গাছের বাঁচার ক্ষমতা কমে যায়। কারন দেশীয় যে গাছগুলি আমরা দেখি সেগুলি মাটির মিনারেলগুলোকে
আয়ন হিসাবে গ্রহণ করে। মাটিতে মিনারেল গুলো আয়ন হিসাবে থাকলে আমরা তাকে উর্বর জমি
বলি। ইউক্যালিপ্টাস গাছ কেটে ফেললেও মাটির উর্বরতা ফিরে আসতে দীর্ঘ সময় লাগে। ইউক্যালিপ্টাস
গাছ বর্জন করা উচিত।
ইউক্যালিপটাস গাছের উপকারীতা
ইউক্যালিপটাস
কচি পাতা রৌদ্রে শুকিয়ে গুড়া করে রাখা দরকার। ঠান্ডা কাশি সর্দি জ্বর হলে উক্ত গুঁড়া
এক চামচ করে চা বানিয়ে প্রতিদিন দুইবার খাওয়া দরকার। ঠান্ডা কাশি সর্দি জ্বর রোগের
নিরাময় হয়। ইউক্যালিপটাস গাছের পাতায় যে টক্সিনগুলি থাকে সেগুলি থেকে মশা বা বিভিন্ন
কীট-পতঙ্গ নাশক তৈরি হয়। যা একদিকে উপকার করে অন্যদিকে এই তেলের ধোঁয়া মানুষের ক্যানসারের
ঝুঁকি বাড়ায়।
আকাশজমিন/আরআর