রবিউল হাসান ডব্লিউ, দশমিনা (পটুয়াখালী)
দশমিনা-বাউফল-গলাচিপা
সড়কে অবৈধভাবে দু'পাশ অটোরিশকা,মাহিন্দ্রা
ও মোটরসাইকেল বিভিন গাড়ির স্ট্যান্ড গরে উঠেছে। ফলে যানজটে নাকাল হচ্ছে পথচারী ও যাতায়াতকারীদের।
অবৈধ এ স্ট্যান্ডের ফলে চলমান এইচএসসি পরিক্ষার্থীসহ পথচারিদর চরম ভোগান্তি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজলার পুজাঁখালা-নলখোলা এলাকায় পূর্ব দিক থেকে দশমিনা, বরিশাল,ঢাকার প্রবেশ পথ এটি। পটুয়াখালী জেলা শহর থেক দশমিনা-গলাচিপা ও বাউফল উপজলা তিনটি সড়কের মাথা এসে নলখোলা এলাকায় মিশেছে। তাই এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এই মোড়ের সড়কটির দুই পাশ সারি সারি অটোরিশকা দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। পথচারীদের চলাচলের ফুটপাতেও অটোরিশকা রাখায়। সড়কের মাঝখানে অল্প জায়গা দশমিনা টু ঢাকা গামী বাস গাড়ি সহ যানবাহন চলাচল করতে হচ্ছে। এতে পথচারীদের কষ্টকর ভাবে রোড পারাপার করতে হয়।
সড়কের দুই পাশে অটোরিকশা দাঁড়িয়ে থাকায় পথচারীরা অনক ঝুঁঁকি নিয় মাঝখান দিয় চলাচল করেন। বড়কোনো গাড়ি এলেই তীব্র যানজটের সষ্টি হয়।এতে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে দেখা যায়। দশমিনা সদর মডল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি মডল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বেগম আরেফাতুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আব্দুর রসিদ তালুকদার সরকারি কলজ ও ডা. ডলি আকবর মহিলা কলজ, মাদ্রাসাসহ একাধিক কিন্ডারগার্ডেনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলার শুরু ও ছুটির সময় শিক্ষার্থীরা ব্যাপক দুর্ভাগের মধ্য থাকে। এসময় যানজটে তাঁদের প্রতিষ্ঠান থেকে বরিয়ে যানজটে মধ্যে আটকে থাকতে হয়।
দশমিনা
সরকারি মডল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন,পুরা সড়কটি দখল করে অবৈধ স্ট্যান্ড
গড়ে তোলা হয়েছে।পুজাঁখোলা মোড় থেকে শুরু করে নলখোলা শড়কের ফুটপাতে দুপাশে দাঁড় করিয়ে
রাখা হয় বিভিন ধরনর যানবাহন। পায়ে হঁটেও যাওয়ার উপায় থাকে না।সড়কের মাঝখানে একটু খালি
থাকে সেখান দিয় যানবাহন ও মানুষকে যাতায়াত করতে হয়। ফলে তীব্র যানজট লেগেই থাকে, সব
সময়। তাই এর দ্রুত এসমস্যার সমাধান করায় প্রশাসনর হস্তক্ষপ কামনা করি।
দশমিনা
সরকারি আব্দুর রশিদ তালুকদার কলেজের একাধিক চলমান এইচএসসি পরিক্ষার্থীরা জানান,উপজলার পুঁজাখোলা থেকে নলখোলা
পর্যন্ত এই সড়ক টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর তাতে প্রতিদিন এখানে যানজট লেগেই থাকে। আমাদের
কয়েক জনের দ্বিতীয় পরীক্ষার দিন দশমিনা সদরের চেয়ারম্যান মার্কেটের সামনের সড়কের
মোড়ে দীর্ঘক্ষণ যানজট থাকায় কয়েক মিনিট সময় বেশি লেগেছে। তাই যানজট নিরশনের জন্য
উপজেলা প্রশাসনর হস্তক্ষপ কামনা করছি।
দশমিনা
উপজেলা ছাত্রদলের মানবিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ আবুল বশার জানান, বরিশাল বিভাগের
দক্ষিণ অঞ্চলের অন্যতম ও গুরুত্বপূর্ণ ও সুশৃংঙ্খল উপজেলা আমাদের দশমিনা, কিন্তু ইদানিং
হঠাৎ করে আমরা দেখতে পাই নতুন নতুন কিছু বাস গাড়ি ও বড় ধরনের যানবহন এই অঞ্চলে প্রবেশ করায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি
হয়েছে। এছাড়াও দশমিনা বাজারের কয়েকজন অসাধু ব্যবসায়ীরা ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করায়
স্কুল ছাত্র ও পথচারীদের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে হাঁটাচলায় অনেক দুর্ভোগ হয়।
এর আগে আমরা একাধিকবার আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে যানজট নিরসনের জন্য সকল সদস্যরা মিলে
চেষ্টা করেছি তা কিছুটা লাঘব হলেও কয়েকদিন পর পুনরায় আবার একই যানজট দেখা গেছে। এ
ধরনের যানজট নিরসনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের
কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে আমি মনে করি। আর এ সময় উপজেলা প্রশাসন যানজট নিরসনের
জন্য যদি কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করে তাহলে আমরা তাদেরকে সাধুবাদ জানিয়ে দশমিনা ছাত্রদলের
মানবিক সংগঠনের সকল সদস্যরা তাদেরকে সর্বোচ্চ চেষ্টা ও সহযোগিতা করব।
দশমিনা
নলখোলা বন্ধরের মেসার্স শর্মী ট্রেডার্স এর স্বত্ত্বাধিকারী মোঃ জুয়েল আমিন জানান,আমাদের
এই বন্দরের সড়কটির ফুটপাত দখল করে অটারিশকা,মাহিন্দ্রা ও উল্কা শড়কে দাঁড়িয়ে থাকায়
যানজট লেগেই থাকে। এতে সড়ক পার হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। শহরের আশপাশ বিভিন্ন স্কুল প্রতিষ্ঠান
রয়েছে। প্রতিদিন ছোট বড় শিক্ষার্থীদের এ সড়ক পার হতে হয়। এছাড়াও দশমিনা থেকে বরিশাল,
ঢাকার জন্য প্রধান সড়ক এটি। তাই আমরা মনে করি এই সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর এ বিষয়ে
আমাদের সাবেক (ইউএনও) মহিউদ্দিন আল হেলাল সাহেব একাধিকবার অভিযান চালিয়ে কিছুটা সমাধান
করতে পারলেও পরে আবার পুনরায় একই অবস্থায় হয়ে গেছে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত
নলখোলা ও দশমিনা চেয়ারম্যান মার্কেটের সামনের মোড়ের সড়ক এই দুই স্থানে দুটি গোল চত্বর
করা এখন অতি জরুরী। তাই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট
কর্তপক্ষের হস্তক্ষপ কামনা করি।
অবৈধভাবে
সড়কের দুপাশে গাড়ি রাখার বিষয় স্বীকার করে দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)
আব্দুল আলিম জানান,আমরা এটা নিয়ে তৎপর আছি, এনিয়ে দ্রুত একটি অভিযান পরিচালনা করা
যায় কিনা সে বিষয় আমি ইউএনও মহোদয়ের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নিচ্ছি।
জেলা
প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন জানান,ফুটপাত দখলের বিষয়
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনওকে জানানো হয়েছে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে অভিযান পরিচালনা
করতে পারেনি, তাই আবহাওয়া ভালো হলে তিনি দুই-তিন
দিনের মধ্যে অভিযান পরিচালনা করবে।
আকাশজমিন/আরআর