ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

শেরপুরে গত ৬ মাসে ১২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১০৪ জন হতাহত


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৩ জুলাই, ২০২৫ সময় : ৯:০৭ পিএম

শেরপুর প্রতিনিধি:

শেরপুর সদর উপজেলাসহ ৫টি উপজেলায় ১২টি সড়ক দুর্ঘটনায় নারী পুরুষ ও শিশুসহ মোট ১০৪ জন হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এসব হতাহতের মধ্যে ২৬ জন নিহত ও অন্তত ৭৮ জন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনা সমূহের মধ্যে গত বছরের শেষ দিন তথা ৩১ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ২৪ মার্চ পর্যন্ত ৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় নারী পুরুষ ও শিশুসহ ২০ জন নিহত এবং ৫৬ জন ব্যক্তি আহত হয়েছেন।এরপরে এপ্রিল ও মে মাসে শেরপুর জেলায় সড়ক দুর্ঘটনার কোন তথ্য গণমাধ্যমে পাওয়া যায়নি। তবে ৪ জুন থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত ৪টি দুর্ঘটনায় নারী পুরুষ ও শিশুসহ ৬ জন নিহত এবং ২২ জন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের তথ্য মতে, ৩১ ডিসেম্বর সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত ও ২ জন ব্যক্তি আহত, জানুয়ারি মাসে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত ও ২ জন আহত, ফেব্রুয়ারি মাসে ৪টি দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত ও ২৬ জন আহত, মার্চ মাসে ২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত ও ২৬ জন আহত হয়েছেন। এরপরে ২ মাস সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধ থাকলেও পুনরায় জুন মাসে ৩টি দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত এবং নারী পুরুষ ও শিশুসহ ১৭ জন আহত এবং সর্বশেষ ৭ জুলাই সোমবার নকলায় যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে ১ শিশু নিহত ও শিশুটির বাবা-মাসহ ৫ জন গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।

অনেকে আশঙ্কা করে জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবছর সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের পরিমাণ অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। এভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় বাড়তে থাকলে হতাহতের মহামারি আকার ধারন করতে পারে। তারা এসব দুর্ঘটনার জন্য অদক্ষ চালক ও যত্রতত্র নিষিদ্ধ পরিবহনকে দায়ী করছেন। তারা হতাশার সহিত জানান, মহাসড়কে কিংবা আঞ্চলিক সড়কে ভারী যানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেপরোয়াভাবে চলছে ছোট ও মাঝারি অবৈধ পরিবহণ।

জেলার প্রতিটি সড়ক মহাসড়ক গুলো যেন ইঞ্জিন ও ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সা, সিএনজি চালিত থ্রি-হুইলার, মাহেন্দ্র্র যানবাহন, ইঞ্জিন চালিত ভটভটিসহ ছোট ও মাঝারি আকারের নিষিদ্ধ পরিবহনের দখলে চলে গেছে। এসব পরিবহনের প্রায় সকল চালক প্রশিক্ষণ বিহীন, অদক্ষ ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক। তারা কোন প্রকার বিধি নিষেধ নামেনে বাধাহীন ভাবে অবাধে পরিবহনের চালক হয়ে যাওয়ায় দিন দিন দুর্ঘটনার হার বেড়েই চলছে। এছাড়া দূরপাল্লার পরিবহন গুলো শেরপুরের তথা গন্তব্যের কাছাকাছি এসে সুপারভাইজার বা হেলপারদের চালকের আসনে বসিয়ে দেওয়ার প্রবণতা চালকদের মধ্যে দেখা গেছে। ফলে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে বলেও তারা মন্তব্য করেন।

এমতাবস্থায় সড়ক মহাসড়কে যেন ইঞ্জিন ও ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সা, সিএনজি চালিত থ্রি-হুইলার, মাহেন্দ্র্র যানবাহন, ইঞ্জিন চালিত ভটভটিসহ ছোট ও মাঝারি আকারের নিষিদ্ধ পরিবহণ অবাধে চলাচল করতে না পারে সেদিকে সড়ক ও পরিবহণ মালিক ও ট্রাফিক পুলিশের সুনজর কামনা করছেন সর্বসাধরণ। এছাড়া নেশাগ্রস্থ বা চোখে ঘুম নিয়ে কোন কোন চালক যেন গাড়ি নিয়ে রাস্তায় উঠতে পারেন সেদিকে তীক্ষè নজর রাখার দাবী জানান তারা।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বরাতে এক তথ্যে জানা গেছে, ২০২৪ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় সারাদেশে ৮ হাজার ৫৪৩ জন নিহত ও ১২ হাজার ৬০৮ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। যা ২০২৩ সালের তুলনায় সড়ক দুর্ঘটনা ১.৫৪ শতাংশ বেড়েছে। এতে নিহতের সংখ্যা ৭.৫০ শতাংশ ও আহতের সংখ্যা ১৭.৭৩ শতাংশ বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যএক তথ্যে জানা গেছে, ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে কিংবা আঞ্চলিক সড়কে ভারী যানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেপরোয়াভাবে চলছে অবৈধ থ্রি-হুইলার, সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও মাহেন্দ্র্র যানবাহন। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। ময়মনসিংহে  গত ৬ মাসে ১৪০টি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ২২২ জন মানুষ, আহত হয়েছেন আরও ১৪২ জন। আর গত জুন মাসেই ৩০টি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৬৬ জন, আহত হয়েছেন ৪৩ জন ব্যক্তি।

ময়মনসিংহ বিআরটিএ কার্যালয়ের তথ্য মতে, ঢাকার সাথে সড়ক পথে যোগাযোগ রক্ষাকারী শেরপুরসহ ময়মনসিংহরে উত্তরের জেলাগুলোর পরিবহনের মাধ্যমে চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে ময়মনসিংহে ১৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় নারী পুরুষ ও শিশুসহ ৪৪ জন মারা গেছেন এবং আহত হয়েছেন ১১ জন। ফেব্রুয়ারি মাসে ৩১টি দুর্ঘটনায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ২৮ জন মারা গেছেন এবং আহত হয়েছেন ২৯ জন।

মার্চ মাসে ১৫টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন ব্যক্তি মারা গেছেন এবং আহত হয়েছেন ১৫ জন। এপ্রিলে ২৮টি দুর্ঘটনায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ৩৯ জন মারা গেছেন এবং আহত হয়েছেন ২৯ জন ব্যক্তি। মে মাসে ১৯টি দুর্ঘটনায় ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১৫ জন। আর জুন মাসে ৩০টি দুর্ঘটনায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ৬৬ জন ব্যক্তি মারা গেছেন এবং আহত হয়েছেন আরো ৪৩ জন।

আকাশজমিন/আরআর 



এ সম্পর্কিত আরো খবর