গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর
গোয়ালন্দে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র এক অটো চালককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীর
পিতা গোয়ালন্দ ঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। ভুক্তভোগী অটো চালক চিকিৎসাধীন অবস্থায়
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন, গোয়ালন্দ
ঘাট থানাধীন দেবগ্রাম ইউপির তেনাপঁচা গ্রামের মো. আকবর শেখের ছেলে জালাল শেখ (৫০),
একই গ্রামের হানি শেখের ছেলে মতি শেখ (৩৫)সহ অজ্ঞাত আরও ৪/৫ রয়েছে।
থানা
ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুলাই বেলা ১১ টার দিকে গোয়ালন্দ ঘাট থানাধীন তেনাপঁচা
নামক এলাকায় হাসের বাচ্চার ধান খাওয়াকে কেন্দ্র করে তেনাপঁচা গ্রামের বাসিন্দা অভিযোগের
বাদী মৃত জব্বার খন্দকারের ছেলে আঃ খালেক খন্দকারের সাথে উপরোক্ত বিবাদীদের মধ্যে কথা
কাটাকাটির এক পর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গোয়ালন্দ ঘাট থানায় অভিযোগ করলে
থানা থেকে মামলাটি রুজু হয়। বিবাদী পক্ষ হতে আর একটি মামলা করার কারণে দুপক্ষের মধ্যে
বিরোধের সৃষ্টি হয়। বাদী পক্ষের মামলা করাকে কেন্দ্র করে গত ১৬ জুলাই বিকেল সাড়ে ৪
টার দিকে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যবহার করে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস
স্টেশনের কাছাকাছি নিয়ে বাদীর ছেলে পেশায় অটোচালক মো. সুজন খন্দকারকে মারধর শুরু করে।
অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জন লাঠি দিয়ে এলোপাথাড়ি পিটাতে থাকে। পিটানোর এক পর্যায়ে ১ নং বিবাদী
জালাল শেখ সুজনকে হত্যার উদ্দেশ্যে রামদা নিয়ে এগিয়ে আসলে ভুক্তভোগী জীবন বাঁচাতে
রাস্তার নিচে পানিতে লাফ দেয়। অপর বিবাদী মতি শেখ ভুক্তভোগীকে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে বিভিন্ন
স্থানে জখম করে।
এ
ব্যাপারে অভিযোগের বাদী, ভুক্তভোগীর পিতা মো. খালেক খন্দকার বলেন, জালাল শেখ ও মতি
শেখসহ ৪/৫ জন মিলে আমার ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যে ডেকে নিয়ে মারধর করে। মারধরের এক
সময় রাস্তায় যাতায়াতরত লোকজন ধরে আমার ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। আমরা লোক মারফত শোনার
পরে হাসপাতালে গেলে অবস্থা খারাপ দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক আমার ছেলেকে ভর্তি রাখতে পরামর্শ
দেয়। তিনি আরও বলেন, এখনো বিবাদীরা আমাদের বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি দেখাচ্ছেন এজন্য নিরাপত্তার
স্বার্থে আমি থানায় অভিযোগ করি।
গোয়ালন্দ
ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম জানান, আমরা একটি লিখিত অভিযোগ
পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আকাশজমিন/আরআর