রূপগঞ্জ( নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
ত্রয়োদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) গুরুত্বপূর্ণ আসনে বিএনপির
একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী এবং জামায়াতের একক
প্রার্থী ।সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা তাদের উপস্থিতি জানান দিতে তৎপর হয়ে উঠেছেন।এলাকায় লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি ব্যানার,ফেস্টুনের মাধ্যমে
একরকম প্রচার -প্রচারণায় নেমে পড়েছেন।দলীয় কর্মীদেরকে সাথে নিয়ে উঠান বৈঠক, সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পারকরছেন।
পাশাপাশি বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচি ও জাতীয় অনুষ্ঠানে সমর্থকদের উপস্থিতি বাড়াতে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করছেন। ঢাকা- ডেমরা,ও ঢাকা-মস্তলের পাশেই রূপগঞ্জ উপজেলার অবস্থান। ২ টি পৌরসভা ও ৭ টি ইউনিয়নে চার লক্ষাধিক ভোটার রূপগঞ্জের নির্বাচনি আসনে রয়েছে ছোট,বড় ও মাঝারি কয়েক হাজার শিল্প প্রতিষ্ঠান। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে পূর্বাচল উপশহর এ আসনের অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছে।
জাতীয় পার্টি থেকে সুলতান উদ্দিন ভুইয়া ১৯৮৪ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য মরহুম আব্দুল মতিন চৌধুরী ১৯৭৯ সালে প্রথম এবং পরে ১৯৯১ সালে রূপগঞ্জ থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল (অব.) কে এম সফিউল্লাহ জয়লাভ করেন। পরে ২০০১ সালের নির্বাচনে আবারো আব্দুল মতিন চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোলাম দস্গগীর গাজী ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্রাচনে বিএনপি জামায়াত ভোট বর্জন করলে বিনা ভোটের নির্বাচনে সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী।২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের রাতের ভোটে গোলামদস্তগীর গাজী। ফ্যাসিবাদের সুযোগ নিয়ে তার সময়ে রূপগঞ্জের জায়গা-জমি ভুমিদস্যুদের হাতে চলে যায়। তা পরে শতাধিক হাউজিং কোম্পানি গড়ে উঠে। অসহায় কৃষক বাধ্য হয়ে পানির দামে জমি বিক্রি করতে বাধ্য হয়।
জুলাই - আগষ্টের বিপ্লবের পর বর্তমান পরিস্হিস্তিতে আওয়ামী লীগ প্রকাশ্য রাজনীতি থেকে এক প্রকার হারিয়ে যাওয়ায় বিএনপিকে এই আসনে জামায়াতের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। তবে বর্তমানে দলের মনোনয়ন নিয়ে বিএনপিতে বিভাজন স্পষ্ট হলেও প্রার্থী চূড়ান্ত হলে সবাই মিলে মাঠে একত্রিত হয়ে কাজ করবে বলে মনে করছে দলের নেতাকর্মীরা। জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর পরিচিতি আগের তুলনায় অনেক ভালো।
এ সংসদীয় আসনে বিএনপি থেকে আগামী নির্বাচন মনোনয়নপ্রত্যাশী বয়েছেন ৫ জন নেতা। এদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন, ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, বিজিএমইএ'র সাবেক সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুক্তিযোদ্ধা কাজী মনিরুজ্জামান। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহবায়ক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া (দিপু), জেলা আহবায়ক কমিটির অন্যতম যুগ্ম আহবায়ক ও দাউদপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শরিফ আহমেদ টুটুল এবং রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন,কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক নির্বাহী কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন, অপরদিকে সারা দেশের মতো রূপগঞ্জে ও জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মোল্লা।
তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে দলীয় কর্মকান্ডের পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করে আসছে। ইসলামি আন্দোলনের বাংলাদেশের মুফতি আব্দুল হাশেমী এছাড়া ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপি থেকে বহিঃকৃত ও বিআরটিসির সাবেক চেয়ারম্যান এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের নাম শোনা যাচ্ছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় শূরা মজলিসও কর্মপরিষদ সদস্য আনোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, জামায়াতে ইসলামী মানুষকে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। রূপগঞ্জের জনগণ আগামী নির্বাচনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে চায়। জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে, রূপগঞ্জ কে ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ, মাদক ও দূর্নীতি মুক্ত করে গড়ে তোলা হবে। বিজিএমইর সাবেক সভাপতি বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী মনিরুজ্জামান ১৬ বছর আওয়ামী
ফ্যাসিস্টের দুই শতাধিক হামলা- মামলা মোকাবিলা করেছি। রূপগঞ্জে বিএনপির হারানো গৌরব এবং দলের ভাবমূর্তি ফিরাতে কাজ করে যাচ্ছি, আগামীতে করব। আশা করি বিএনপির ঘাঁটি রূপগঞ্জের মানুষ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিএনপি প্রার্থীকে বিজয়ী করবে।
অনেকটা সুবিধাজনক অবস্হানে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আহবায়ক কমিটির ১ নম্বর যুগ্ম আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া দিপু বলেন, 'নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা সরকারের হামলা-মামলা প্রতিরোধে সামনের সারিতে ছিলাম। রূপগঞ্জে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনসহ তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে দলীয় কর্মসূচিতে নিয়মিতভাবে যোগ দিচ্ছেন। আশা করি দল আমাকে মনোনয়ন দিয়ে মূল্যায়ন করবে। বিএনপির জেলা আহবায়ক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ও দাউদপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শরিফ আহমেদ টুটুলের মতে, 'দুর্বৃত্ত হাসিনার অত্যাচার সহ্য করে সুখে-দুঃখে দলের প্রয়োজনে সবসময় ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব। 'ক্লিন ইমেজ' প্রার্থী হিসেবে দল যদি মনোনয়ন দেয় তবে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করে রূপগঞ্জের আসনটি পুনরুদ্ধার করে বিএনপির শক্তিকে আরো মজবুত করতে চাই।'
রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ূন বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ছিলাম। সকল মানুষের পাশে থেকে আওয়ানী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিএনপিকে সুসংগঠিত করেছি। দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনে জয়ী হয়ে সন্ত্রাস, মাদকমুক্ত ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য রূপগঞ্জ উপহার দিব। কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক নির্বাহী কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন বলেন,জেল-জুলুমের শিকার৷ হয়েছি।গত ১৬ বছর রূপগঞ্জে থাকতে পারিনাই। ভোটে নির্বাচিত হলে জনগণকে সাথে নিয়ে কাজ করবো। সাবেক বিআরটিসির চেয়ারম্যান এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, সংস্কার হলে নির্বাচন অংশ গ্রহণ করবো এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে মাদক, ভূমিদস্যুতা রক্ষা করবো।
শেষ হাসিনার ফ্যাসিস্ট আমলে নির্যাতিত একাধিক বিএনপি নেতার মতে, বর্তমান সময়ে রূপগঞ্জে বিএনপির শত্রু বিএনপি নিজেরাই। ভোটের আগেই নিজেদের মধ্যে কোন্দল মিটিয়ে আনতে না পারলে অন্যথায় বিএনপির পাঁচটি বলয়ে বিভক্তির সুযোগ নিবে জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী। '
আকাশজমিন/আরআর