ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,  ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডাব মার্কার কাগজ নিয়ে কেন্দ্রে জামায়াত এজেন্টরা: ফয়সল আমীন মানবতাবিরোধী অপরাধে হানিফের মৃত্যুদণ্ড, অন্য তিন নেতার আমৃত্যু কারাদণ্ড পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরেই মিলল সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার পরিচয় জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তুরাগ নদ থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার মিরপুর-১০ গোলচত্বরে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ মির্জাপুরে ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, বিভিন্ন স্টেশনে আটকা একাধিক ট্রেন বঙ্গোপসাগরে জাপানের ‘বিগ-বি’ ও বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক সমীকরণ ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড অন্ধ্র প্রদেশ, নিহত ৫ কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআর পরিচালককে মারধর, কাঠগড়ায় ড্যাব

পরিবারের দাবি হত্যা

পুরস্কারপ্রাপ্ত হাফেজ তৌফিকের রহস্যজনক মৃত্যু


  • আপলোড সময় : সোমবার ২১ জুলাই, ২০২৫ সময় : ৩:৫৬ পিএম

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. সালাউদ্দিন সরদারের বড় ছেলে, খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ে জাতীয় হিফজ প্রতিযোগিতায় একাধিকবার পুরস্কারপ্রাপ্ত হাফেজ মোহাম্মদ তৌফিক সিয়াম (১৭) ঢাকার একটি মাদ্রাসায় রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন। রবিবার (১৭ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে তৌফিকের মৃত্যুর খবর তার পরিবারকে ফোনে জানায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

 তৌফিক সিয়াম ঢাকার “মারকাজু ফয়জিল কোরআন আল ইসলামিয়া” মাদ্রাসার মেধাবী ছাত্র ছিলেন। পরিবার দাবি করছে, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে বাথরুমে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, যাতে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রচার করা যায়। তৌফিকের বাবা সালাউদ্দিন সরদার বলেন, “আমার ছেলে কখনো আত্মহত্যা করতে পারে না। সে ধর্মভীরু, শৃঙ্খলাপরায়ণ এবং পড়াশোনায় অত্যন্ত ভালো ছিল। বহুবার জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার পেয়েছে। এটা স্পষ্ট হত্যাকাণ্ড। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত চাই।”

তৌফিকের আত্মীয় এম শরিফ উদ্দিন বলেন, “কয়েকদিন আগে সালাউদ্দিন তার ছেলেকে দেখতে মাদ্রাসায় যান। আজ হঠাৎ জানানো হয়, ছেলেটি আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু ঢাকায় গিয়ে দেখা যায়, তার মরদেহ বাথরুমে ঝুলন্ত অবস্থায়। এক পা টয়লেটের প্যানের ভেতর, আরেক পা ভাঁজ হয়ে মেঝেতে ঠেকানো ছিল। এই অবস্থায় আত্মহত্যা কীভাবে সম্ভব? এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। নিশ্চয়ই এখানে রহস্য আছে।”

ঢাকায় অবস্থানরত তৌফিকের চাচা আকছেদ আলী বলেন, “ঘটনার পরপরই আমি মাদ্রাসায় যাই। দেখি পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করছে। একটি ছবিতে তার একটি পা মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। রহস্যজনক মনে হওয়ায় আমি নিজেই ময়নাতদন্তের অনুরোধ জানাই। পরে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়।”

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকার দারুস সালাম থানার এএসআই আজিজুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে আমরা মৃতদেহটি উদ্ধার করি। নিহতের শরীরের দুটি স্থানে বেতের আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরিবারের অনুরোধে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিবেদন এলে বিস্তারিত জানা যাবে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত কিছু বলা যাচ্ছে না।” তৌফিকের মৃত্যুর খবরে সাতক্ষীরার গাবুরা ও আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসী ও স্বজনদের একটাই দাবি, এই মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হোক, এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।

আকাশজমিন/আরআর

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর