দশমিনা(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি
দশমিনা
উপজেলার ০৩ নম্বর বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের অর্থিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে অপসারনের
দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে সাধারণ জনগন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে
সময় বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়ন কমপ্লেক্স এর সামনে ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল
করেছে সাধারণ জনগণ।
জানা
যায়, গত বছর জুলাইয়ের গণভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর
বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্বভার প্রহন করেন অন্তবর্তীকালীন সরকার। সেই থেকে দশমিনা উপজেলায়
বিভিন্ন ইউনিয়র পরিষদের চেয়ারম্যারা অনুপস্থিত, কর্তব্যে অবহেলা ও পলাতক থাকায় সাধারণ
জনগন সেবাথেকে বঞ্চিত হয়।পরে ইউনিয়ন পরিষদের
সেবা সচল রাখায় স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের প্রজ্ঞাপনের আলোকে পটুয়াখালী জেলা
প্রশাসক বিভিন্ন সময়ের আদেশ বলে উপজেলায় বিভিন্ন ইউইনয়নে আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব
উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের প্রদান করেন।
পটুয়াখালী
জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন এর আদেশ বলে চলতি বছর ২৯ মে উপজেলার ৩ নম্বর
বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়ন পরিষদের আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা
মোঃ জাফর আহমেদ। দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়মিত না আসা, সাধারন জনগন
জন্ম ও মৃত্যু সনদ, পরিচয় পত্রের জন্য তার উপজেলা কার্যালয় বসে থাকে, কখনো জন্ম ও মৃত্যু
সনদ,পরিচয় পত্র আনতে গিয়ে না পেয়ে ফিরে আসতে হয়। এত করে সাধারণ জনগনের আর্থিক ও মানসিক
ভোগান্তি মধ্যে পড়ে।
মানববন্ধনে
ভুক্তভোগীরা বলেন,দায়িত্বভার গ্রহন করার পর থেকে তিনি ইউনিয়ন পরিষদে নিয়মিত আসেন না,
পরিচয় পত্র, ওয়ারিশ, জন্মসনদ, মৃত্যুসনদ গ্রহনে তার উপজেলা কার্যালয় ঘন্টার পরঘন্টা
বসে থাকতে হয়। এত করে আমাদের ১৫০-২০০ টাকা খরচ করে অফিসে গিয়ে না পেয়ে ফিরে আসতে হয়।
সরকার জনসাধারনের উপকারের জন্য প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছেন সেখানে আমার সঠিক সেবা না পেয়ে
ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছি। তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে বিনীত
অনুরোধ অপসারন করে নতুন প্রশাসক নিয়োগের আবেদন জানাই। এ বিষয়ে ওই ইউনিয়নের আর্থিক
ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (কৃষিবিদ)
মো:
জাফর আহমেদ বলেন, আমি প্রতি সপ্তাহে ওই ইউনিয়নে গিয়ে অফিস করি, কিন্তু আমার ধারা
কারো ভোগান্তি হয় এ বিষয়টি কেউ আমাকে অভিযোগ করেনি বা বলে নাই।
তিনি
আরো বলেন। আমি কৃষি অফিসারের দায়িত্ব পালন করে আসছি বিদায় দু'একদিন দাপ্তরিক কাজের জন্য হয়তো যেতে পারি না। কিন্তু
সেই জন্য আমি কাউকে ভোগান্তি দেইনি। আর এরকমের যে ভোগান্তি হয়েছে এ বিষয়ে আমাকে কেউ
বলেনি।
পটুয়াখালী
জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু হাসনাত
মোহাম্মদ আরিফিন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ জনগণের কোন ভোগান্তি সংক্রান্ত বিষয়
উঠে আসলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথে আলাপ করলে সে ব্যবস্থা নেবে।
আকাশজমিন/আরআর