ফেনী প্রতিনিধি:
ফেনীর
সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে আয়োজিত এই লংমার্চে নেতৃত্ব দেন জেলা স্বেচ্ছাসেবী পরিবারের
সমন্বয়ক ওসমান গনি রাসেল এবং নিশাত আদনান। এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ
অংশগ্রহণ করেছেন। পরশুরাম উপজেলা বিআরডিবির চেয়ারম্যান আবু তালেব রিপন এবং পরশুরামের
বল্লামুখার নিজ কালিকাপুর গ্রামের বাসিন্দা আবু সাঈদ এই লংমার্চে অংশ নেন ও দাবিনামা
পেশ করেন। এছাড়াও ফেনী প্রবাসী উদ্যোগের সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজনে ভূমিকা রাখা হয়েছে।
লংমার্চটি
ছিল প্রজন্মভিত্তিক টেকসই বাঁধ নির্মাণসহ আট দফা দাবিতে সংগঠিত একটি জনসমাবেশ ও পদযাত্রা।
আট দফা দাবিগুলো হলো— টেকসই ও প্রজন্মভিত্তিক বাঁধ নির্মাণ,
বাঁধ নির্মাণের দায়িত্ব সেনাবাহিনীকে প্রদান, নদীশাসন ও অবৈধ বালু উত্তোলন রোধ, মুসাপুর
ক্লোজার ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণ, খাল খনন ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, ফেনী
শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, দুর্যোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের
সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং ২০২৪ সালের বন্যায় সরকার ঘোষিত পুনর্বাসন প্রকল্পের প্রতিবেদন
ও ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতকরণ।
লংমার্চটি
বুধবার, ২৩ জুলাই সকালে শুরু হয় ফেনী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে এবং শহীদ শহীদুল্লা
কায়সার সড়ক হয়ে মহিপাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের সামনে গিয়ে সমাবেশে পরিণত হয়। পরে পানি
উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ও জেলা প্রশাসক বরাবর ৮ দফা দাবিসংবলিত স্মারকলিপি
পেশ করা হয়।
সাম্প্রতিক
বন্যায় ফেনীর হাজার হাজার মানুষ ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। লংমার্চে অংশ নেওয়া
ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তারা বারবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বাঁচতে চান না, চিরতরে এ
দুর্ভোগের সমাধান চান। বিশেষ করে, আবু তালেব রিপন বলেন, “আমরা আর বন্যার পানিতে মরতে
চাই না। আমরা টেকসই বাঁধ চাই। এরই মধ্যে আমাদের হাজার হাজার মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত
হয়েছে। সরকারকে বলব দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে সহযোগিতা করুন
এবং সেনাবাহিনীর মাধ্যমে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করুন।” আবু সাঈদ তার বক্তব্যে বলেন, “আমরা
আর চিড়া মুড়ি চাই না। আমাদের এগুলোর দরকার নাই। আমরা টেকসই বাঁধ চাই। দয়া করে আমাদেরকে
আর আতঙ্কের মধ্যে রাখবেন না, আমাদের বাঁচান।”
স্থানীয়
জনগণের ব্যানারে, বিশেষত তরুণ ও বিভিন্ন পেশাজীবীর অংশগ্রহণে এবং ফেনী প্রবাসী উদ্যোগের
সম্পৃক্ততায়, ওসমান গনি রাসেল ও নিশাত আদনানের যৌথ সঞ্চালনায় পুরো কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে
সম্পন্ন হয়।
আবু
তালেব রিপন সরকারি কার্যক্রমে দ্রুততা ও সেনাবাহিনীর মাধ্যমে টেকসই বাঁধ নির্মাণের
দাবি জানান। আবু সাঈদ তার এলাকার আতঙ্ক ও বারবার ক্ষতির কথা তুলে ধরে বলেন, ত্রাণের
প্রত্যাশা নয়, টেকসই বাঁধ চাই।
শেষে
একটি প্রামাণ্য স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর
কাছে হস্তান্তর করা হয়, যাতে সব দাবিসহ, বন্যাকবলিত মানুষের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনকে
গুরুত্ব দেওয়া আকাশজমিন/আরআর