ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ।।
পাবনা ও নাটোর জেলার ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া, চাটমোহর এবং লালপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অন্তত: শতাধিক গোপন কারখানায় নামিদামি ব্র্যান্ডের নকল পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করণের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। এসব অসাধু চক্র শুধু ভোক্তাদের ঠকাচ্ছে না, মানব সমাজ ধ্বংসের পাশাপাশি সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ও আয়কর ফাঁকি দিয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগারকে বঞ্চিত করছে।
আরও উদ্দ্যেগের বিষয় হলো এসব নিম্নমানের নকল পণ্যের কোনো বিএসটিআই (ইঝঞও) অনুমোদন নেই, যা জনস্বাস্থ্য, বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। সরকারি রাজস্বের ব্যাপক ক্ষতি এবং দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব গোপন কারখানায় উৎপাদিত নকল পণ্যের কারণে সরকার প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। উৎপাদনকারীরা কোনো প্রকার ট্যাক্স বা আয়কর পরিশোধ না করেই অবৈধভাবে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, নকল খাদ্যপণ্য উৎপাদনের এই অবৈধ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার গোপন আর্থিক লেনদেন রয়েছে, যা এই অবৈধ কার্যক্রমকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
দেশপ্রেমিক ও দুর্নীতিমুক্ত সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা
এবং দুদকের (দুদক) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সচেতন মহল। জনস্বাস্থ্য ও শিশুদের ভবিষ্যৎ
ঝুঁকির মুখে এসব নকল ও নিম্নমানের খাদ্যপণ্য খেয়ে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে শিশুরা মারাত্মক
স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, মানহীন ও নকল উপাদানে তৈরি এসব খাদ্যপণ্য
দীর্ঘমেয়াদী বিভিন্ন রোগের কারণ হতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদী বিভিন্ন রোগের
কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া,চোখে কম দেখা, পেটের
পীড়া, অ্যালার্জিসহ নানা স্বাস্থ্যগত সমস্যার জন্য এই নকল পণ্যগুলো দায়ী।
এলাকার
সচেতন নাগরিকরা অবিলম্বে এইসব নকল পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার
দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, "দেশপ্রেমিক, দুর্নীতিমুক্ত সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বশীল
কর্মকর্তা ও দুদক কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ ছাড়া এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ
পাওয়া সম্ভব নয়।" তারা অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে অভিযান, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক
শাস্তি এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন। জনস্বাস্থ্য ও রাষ্ট্রীয়
অর্থনীতির স্বার্থে অবিলম্বে এই নকল পণ্যের সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। সচেতন
মহল প্রশ্ন রেখে বলেছে, কঠোর পদক্ষেপ ও দৃষ্টান্তমূলক শা¯ির
ব্যবস্থা গ্রহনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে?
#