পাবনা প্রতিনিধি:
পাবনার বেড়া উপজেলার চাকলা ইউনিয়নের তারাপুর গ্রামে মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে সংঘাতের সম্ভাবনা থাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। সোমবার সকাল ১০টা পর্যন্ত প্রকার আগ্নেয়াস্ত্র ও লাঠিসোঁটা বহন ও প্রদর্শন, যেকোনো ধরণের মাইকিং বা শব্দযন্ত্র ব্যবহার, পাঁচ বা অধিক সংখ্যক ব্যক্তির একত্রে চলাফেরা, সভা-সমাবেশ ও মিছিল ইত্যাদি নিষিদ্ধ থাকবে।
রবিবার (২৭ জুলাই) সকালে
বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোরশেদুল ইসলাম
স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ
তথ্য জানানো হয়। এর আগে
শনিবার দফায় দফায় সংঘর্ষে
একজন নিহত ও ৩০জন
আহত হয়। বেশ কয়েকটি
বাড়িঘরে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা
ঘটে। এ ঘটনায় তারাপুর
গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এলাকায়
পুলিশ ও সেনাবাহিনী
টহল জোরদার করা হয়েছে।
রবিবার (২৭ জুলাই) সকালে বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোরশেদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলা হয়, শনিবার চাকলা ইউনিয়নের তারাপুর গ্রামে নতুন মসজিদের বারান্দা নির্মাণকে কেন্দ্র করে দেশীয় অস্ত্রসহ মারামারি, অগ্নিসংযোগ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও অস্ত্র প্রদর্শনীসহ দাঙ্গা হাঙ্গামা ঘটছে। পুনরায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে বলে বেড়া থানার ওসির মারফতে জানা যায়।
এমতাবস্থায়
ওই এলাকায় রবিবার (২৭ জুলাই) সকাল
১০টা থেকে ২৮ জুলাই
সকাল ১০টা পর্যন্ত ১৪৪
ধারা জারি করা হলো।
এ সময় সব প্রকার
আগ্নেয়াস্ত্র ও লাঠিসোঁটা বহন
ও প্রদর্শন, যেকোনো ধরণের মাইকিং বা শব্দযন্ত্র ব্যবহার,
পাঁচ বা অধিক সংখ্যক
ব্যক্তির একত্রে চলাফেরা, সভা-সমাবেশ ও
মিছিল ইত্যাদি নিষিদ্ধ থাকবে।
জানা
যায়, কয়েক বছর আগে
বেড়া উপজেলায় পুরোনো মসজিদে মিলাদ মাহফিলে কিয়াম পড়া নিয়ে একটি
ঝামেলা হয়। মসজিদের তৎকালীন
ক্যাশিয়ার মতিনসহ একটি পক্ষ কিয়াম
পড়ার পক্ষে অবস্থান নিয়ে নতুন মসজিদ
নির্মাণ করেন।
সম্প্রতি
এ মসজিদের বারান্দা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু একই
গ্রামে দুটি মসজিদ নির্মাণে
আপত্তি জানায় আরেকটি পক্ষ। এ নিয়ে গত
শুক্রবার (২৫ জুলাই) সকালে
নতুন মসজিদের বারান্দা নির্মাণ করতে গেলে তাতে
বাধা দেয় ওই পক্ষ।
এ সময় উভয়পক্ষ রক্তক্ষয়ী
সংঘর্ষে জড়ায়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত
৩০ জন আহত হন।
শনিবার (২৬ জুলাই) আগতদের
মধ্যে হাদিস নামের একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায়
হাসপাতালে মারা যায়। তার
মৃত্যুর খবরে তারাপুর গ্রামে
১২টি বাড়িতে ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা
ঘটে।
পাবনার
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেড়া সার্কেল) আবুল
কালাম আজাদ ঘটনার সত্যতা
নিশ্চিত করে বলেন, এঘটনায়
বেড়া মডেল থানা মামলা
দায়ের হয়েছে। এলাকার পরিস্তিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।
আকাশজমিন/আরআর