সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটি এবং বিসমিল্লাহ এন এম জুলফিকার ফাউন্ডেশন। ৪ আগস্ট সোমবার দুপুরে সোনারগাঁও লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন (সোনারগাঁও জাদুঘর) প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় একটি পরিবেশবান্ধব কর্মসূচির। যেখানে গাছে গাছে মাটির হাঁড়ি ঝুলিয়ে পাখিদের নিরাপদ বাসস্থান বা 'নিবাস' তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁও লোক ও কারুশিল্প
ফাউন্ডেশনের পরিচালক কাজী মাহবুবুল আলম।
তাঁর বক্তব্যে বলেন— "এই মহৎ উদ্যোগ
নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। আজ যখন শহর
ও গ্রামে পাখিরা বসবাসের জায়গা হারাচ্ছে, তখন এমন প্রকল্প
পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যতের জন্য আলোর পথ
দেখাবে। শুধু এই হাঁড়িগুলো
ঝুলিয়ে দিলেই হবে না, আমাদের
সকলেরই দায়িত্ব পাখিদের নিরাপত্তা ও স্বস্তিকর পরিবেশ
নিশ্চিত করা। সোসাইটির এই
ব্যতিক্রমী চিন্তা ও বাস্তব উদ্যোগ
সত্যিই অনুকরণীয়।"
অনুষ্ঠানে
বিশেষ বক্তব্য রাখেন মানব কল্যাণ পরিষদ
চেয়ারম্যান এম এ মান্নান
ভূঁইয়া ।তিনি বলেন, "মানুষের পাশাপাশি প্রকৃতির প্রতিটি প্রাণীর বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। পাখি আমাদের জীবনের
অবিচ্ছেদ্য অংশ, যারা আমাদের
পরিবেশকে সজীব ও ভারসাম্যপূর্ণ
রাখে। আজকের এই পাখি নিবাস
কর্মসূচি শুধু একটি প্রতীকী
উদ্যোগ নয়, এটি একটি
মানবিক দায়বদ্ধতা। আমি মনে করি,
যারা প্রকৃতির কথা ভাবে, তারাই
প্রকৃত অর্থে মানবতার কথা ভাবে। পরিবেশ
রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির
এই মহৎ কাজকে আমি
আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানাই।"
এছাড়াও
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির
মহাসচিব মীযানুর, প্রতিবন্ধী শিশু ও যুব
কল্যাণ পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ মহিন,
বাংলাদেশ তথ্য ও আন্তর্জাতিক
মানবাধিকার সংস্থার নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক শাখার সভাপতি মোঃ শামীম হোসেন
ও সাধারণ সম্পাদক কাউসার আহমেদ প্রমুখ।
এসময়
আরো উপস্থিত ছিলেন বিজয় টেলিভিশনের সাংবাদিক এমডি অনিক, এনটিভির
সাংবাদিক কামরুল হাসান, ঢাকা পোস্ট এর
সাংবাদিক মীমরাজ, খ্যাতিমান কবি ও সাহিত্যিক
খন্দকার পনির, সোনারগাঁ জনকল্যাণ যুব সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা
ফয়সাল আহমেদ, পরিবেশকর্মী আল আমিন, সিফাত
সহ পরিবেশপ্রেমী ও তরুণ স্বেচ্ছাসেবকগণ।
উল্লেখ্য,
এ ধরনের উদ্যোগ শুধু একটি কর্মসূচি
নয়, এটি একটি সচেতনতা
সৃষ্টি ও প্রজন্ম গঠনের
কার্যকর পদক্ষেপ। পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটি
আশা করছে, ভবিষ্যতে এই কর্মসূচি সারা
দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে এবং পরিবেশের
প্রতি দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি পাবে।
আকাশজমিন/আরআর