ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,  ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার পরিষদের নতুন সভাপতি মনজুর মোরশেদ মামুন আসামি হাজিরা ডিজিটাল করতে পারলে যুগান্তকারী পরিবর্তন হবে: আইনমন্ত্রী ময়নাতদন্ত ছাড়া তাহসিফের মৃত্যু নিয়ে মন্তব্য নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এটি সুইসাইড নয়, পরিকল্পিত হত্যাঃ পাইলট তাহসিফের বাবার বিস্ফোরক তথ্য পুলিশ বাহিনীকে দক্ষ ও আধুনিক করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এলপিজি সিলিন্ডারের দাম আরও ৩০০ টাকা বাড়াতে চান ব্যবসায়ীরা জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি, তিন উপসচিবকে ওএসডি ৭ নভেম্বরের কর্মসূচি ঘিরে শেরেবাংলা নগরের জাতীয় যুব মেলা স্থগিত কাতারের নতুন শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান

তিস্তার পানি কমলেও ভোগান্তি কমেনি ১০হাজারো পরিবারের


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৪ আগস্ট, ২০২৫ সময় : ৬:৩৭ পিএম

লালমনিরহাট প্রতিনিধি।।

উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তার পানি কমে  বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার  নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে ফের বন্যা শঙ্কায় তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের হাজারো মানুষ। সোমবার সকালে তিস্তার পানি বিপদ সীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে দুপুর ১২ টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ০০ মিটার যা বিপৎসীমার ১৫সেন্টিমিটার  নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

লালমনিরহাটে তিস্তার পানি কয়েকদিন ধরে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়া তিস্তার পানি আজ কমতে শুরু করেছে সোমবার (৪ আগস্ট) সকাল ৬টায় তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টে পানির পরিমাণ ছিল ৫২ দশমিক ১০ মিটার। যা বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচে।

এর আগে রোববার সকাল ৬টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপরে উঠে যায়। পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে ব্যারাজের সবগুলো জলকপাট খোলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

পাউবো সূত্র জানায়, ভারতের উজানে ভারী বর্ষণের ফলে নদীতে পানির প্রবাহ হঠাৎ বেড়ে যায়। রাতে পানি বাড়ায় লালমনিরহাটের তীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এতে হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ডুবে গেছে আমন ধান, সবজির মাঠ ও পুকুর। সড়কপথ যোগাযোগ বন্ধ থাকায় এখন নৌকা ও ভেলা হয়ে উঠেছে চলাচলের একমাত্র মাধ্যম।

এদিকে জেলার পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার বেশ কিছু নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। প্লাবিত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে পাটগ্রামের দহগ্রাম, গড্ডিমারী, দোয়ানী, ছয়আনী, সানিয়াজান, সিঙ্গামারি, সিন্দুর্না, হলদিবাড়ী ও ডাউয়াবাড়ী; কালীগঞ্জের ভোটমারী, শৈইলমারী ও নোহালী; আদিতমারীর মহিষখোচা, গোবর্ধন, কালমাটি, বাহাদুরপাড়া ও পলাশী; সদর উপজেলার ফলিমারী, খুনিয়াগাছ, কুলাঘাট, মোগলহাট, রাজপুর, বড়বাড়ী ও গোকুন্ডা ইউনিয়ন।

গোবর্ধন এলাকার বাসিন্দা সহিদুল ইসলাম  বলেন, গতকাল দিন থেকে পানি বাড়তে বাড়তে রাতেই ঢুকে গেছে। আমরা খুব কষ্টে আছি। গরু ছাগল নিয়ে বিপাকে পড়েছি। কোনো জনপ্রতিনিধি বা সরকারি লোক খোঁজও নেয়নি। আমরা কি স্থায়ী সমাধান কখনোই পাবো না?

খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের জালাল মিয়া বলেন, সারারাত পানি ঢুকেছে। রান্না-বান্না বন্ধ। কেউ দেখতেও আসছে না। বাচ্চারা স্কুলেও যেতে পারছে না। রাজনৈতিক নেতারা শুধু লিস্ট নিচ্ছে, ত্রাণ বা সহায়তা কিছুই দিচ্ছে না।

পাউবো লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী শুণীল কুমার বলেন, রোববার তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বর্তমানে পানি বিপৎসীমার নিচে নামলেও নিম্নাঞ্চলে সতর্কতা জারি রয়েছে। দুই-তিন দিন এই পরিস্থিতি স্থায়ী থাকতে পারে। তবে পানি আর বাড়বে কি না তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

আকাশজমিন/আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর