ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

নড়াইল কৃষি ও কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৭ আগস্ট, ২০২৫ সময় : ৪:৫২ পিএম

নড়াইল প্রতিনিধি

নড়াইল সদর উপজেলার ইচড়বাহার নড়াইল কৃষি ও কারিগরি কলেজের ব্যবস্থাপনায় নানাবিধ অনিয়ম,দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক,একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।

অভিযোগের নথিসূত্রে জানা গেছে,২০০৫ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ২০১৯ সালে এমপিওভুক্ত হয়। শুরু থেকে নড়াইল কৃষি ও কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়ম না মেনে দায়িত্ব নেন নড়াইল আব্দুল হাই সিটি কলেজের সহকারী অধ্যাপক সসীম সরকার।

তিনি সিটি কলেজে নিজের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একাই এমপিওভুক্ত এই কলেজের প্রশাসন ও সোনালি ব্যাংকের রূপগঞ্জ শাখায় থাকা কলেজের হিসাব পরিচালনা করে আসছেন। যা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিধিবিধানের পরিপন্থি।

এরপর কলেজ পরিচালনা কমিটির একটি রেজুলেশনের মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রমেশ বিশ্বাসকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করেন। অথচ শিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী তিনি এই পদের যোগ্য নন এবং তার কোনো নিয়োগপত্রও নেই।

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়,এমপিওভুক্ত হওয়ার পূর্বে কলেজটি পরিচালিত হতো নামমাত্র একটি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে। যার ফলে ফাউন্ডেশনের সভাপতি ভগীরথ বিশ্বাস ও সিটি কলেজের শিক্ষক সসীম সরকার কলেজটি নিজেদের ইচ্ছামতো ও অবৈধ নিয়োগ এর মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। অধ্যক্ষ নিয়োগ সহ অন্যান্য নিয়োগ নিয়ে নানা ধরনের স্বেচ্ছাচারিতার রয়েছে। এসব ইচ্ছামতো কলেজে কখনোই ছাত্র-ছাত্রী বাড়েনি, এমনকি নানাভাবে বাইরে থেকে ছাত্র দেখিয়ে বিভিন্ন প্রোগ্রাম বা পরিদর্শন করানো হয়। প্রকৃত ছাত্রছাত্রী অনেক কম, সর্বশেষ ছাত্র-ছাত্রী ছিল ৪সেমিষ্টার মিলিয়ে ৮৭ জন। 

এছাড়া কলেজের জরুরি নথিপত্র-রেজুলেশন সব সসীম সরকারের বাড়িতে থাকে।সেখান থেকেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা হয়। সম্পূর্ণ অনিয়মের মাধ্যমে ফাউন্ডেশনের নামে চলছে কলেজটি।ফাউন্ডেশনের নামে কলেজ পরিচালনা হওয়ায় সরকারি ভাবে কোন ভবন নির্মাণ না। এমপিওভুক্ত কলেজ ফাউন্ডেশনের নামে চলছে।এই ফাউন্ডেশন বাতিল করে কলেজটির উন্নয়নের সব ধরনের পদক্ষেপ নেবার দাবি এলাকাবাসীর।

নড়াইল কৃষি ও কারিগরি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রমেশ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন,আমাকে কমিটি রেজুলেশন করে নিয়োগ দিয়েছেন। আমার কোন নিয়োগ পত্র নাই।কলেজ পরিচালনার জন্য আমি কাজ করছি। সোনালি ব্যাংক হিসাব আগে সসীম বাবুর নিকট ছিল এখন আমার নামে করা হয়েছে।

এবিষয়ে জানতে আব্দুল হাই সিটি কলেজের সহকারী অধ্যাপক সসীম সরকার বলেন,আমি ২০০৫ সালে স্থানীয়দের নিয়ে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেছি। এটাই আমার আত্মতৃপ্তি। বর্তমানে আমি কলেজের কোন কর্মকাণ্ডের ভিতর নাই। আমার নামে যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে সেটি যেহেতু তদন্তাথীন বিষয় সেহেতু এ বিষয়ে কোন কথা বলব না।

কৃষি ও কারিগরি কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ভগীরত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন,অধ্যক্ষ না থাকার কারণে কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রমেশ বাবুকে আমরা রাখছি। কলেজের ভবন জরাজীর্ণ হওয়ার কারণে কলেজের প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র সসীম বাবুর বাড়ি রাখা হয়। সসীম বাবু কলেজের একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( শিক্ষা ও আইসিটি)আহসান মাহমুদ রাসেল বলেন,নড়াইল কৃষি ও কারিগরি কলেজের নানাবিধ অনিয়মের একটি অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ তাদেরকে অফিস ডাকা হয়েছে।তদন্ত চলমান রয়েছে। 

আকাশজমিন/আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর