টাঙ্গাইল প্রতিনিধি॥
টাঙ্গাইলের
ধুলটিয়ার সাগর-সৈকত মিষ্টান্ন
ভান্ডারের মিষ্টি মানেই নতুন স্বাদের সৃষ্টি।
ধুলটিয়ার মিষ্টি মানেই বিলপাড়ার মিষ্টি। বিলপাড়ার মিষ্টির চাহিদা পূরণে ধুলটিয়ার মিষ্টি পূরনে ব্যস্ত। এই মিষ্টির সর্বত্র
প্রচারে দোকানে বিক্রি বাড়ছে, বাড়ছে মিষ্টি খাওয়ার চাহিদা। ধুলটিয়া গ্রামের ইদ্রিস মিয়ার দুই ছেলে সাগর
ও সৈকত এখন ব্যস্ত
মিষ্টিপ্রিয় মানুষের মিষ্টির চাহিদা পূরণে।
পোড়াবাড়ির চমচমের গুনে সারা দেশে পরিচিতি লাভ করেছে টাঙ্গাইল। তারপর বাসাইলের বিলপাড়ার নেওয়াজ আলীর তৈরী চমচম আস্তে আস্তে সারা বাংলাদেশ ছাড়িয়ে দুবাই, সিঙ্গাপুরের মানুষের মন জয় করেছে। বিলপাড়ার নেওয়াজ আলী চমচমকে সরাসরি চমচম না বলে ছানার চমচম বলা যেতে পারে। স্বাদে ও গন্ধে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। অতুলনীয় স্বাদ, মোহনীয় গন্ধ,পুষ্টিগুন থাকায় এই ছানার চমচম এখন বিখ্যাত। সারা বাংলাদেশের মানুষের মতো বিলপাড়ার চমচম খেতে অনেক দূরদূরান্ত অঞ্চল মির্জাপুরের সীমান্ত এলাকা বাসাইলের বিলপাড়ায় অনেক কষ্ট করে যেতে হয়। যে কারনে এই চমচমের চাহিদা থাকা স্বত্ত্বেও দূরত্ব বা জার্নি সমস্যার কারনে মিষ্টিপ্রিয় মানুষগুলো এই চাহিদা পূরন করতে পারে না।
টাঙ্গাইল শহরে বিলপাড়া চমচম নামে কয়েকটি দোকান রয়েছে, তারাও বিলপাড়া থেকে এনে কিংবা বিকল্প পদ্ধতি চমচম বিক্রি করছেন। তবে দীর্ঘদিনের চাহিদা পূরণ করতে এগিয়ে এসেছে করটিয়া ইউনিয়নের ধুলটিয়া বাজারে সাগর-সৈকত মিষ্টান্ন ভান্ডার। দুই বছর যাবত চালু হয়েছে বিলপাড়ার মতো স্বাদে গন্ধে অতুলনীয়। এই মিষ্টিতে রয়েছে অন্যরকম স্বাদ। একেবারে মাত্রামতো মিষ্টি, ঘন রস আর টাটকা ছানার গন্ধমাখা ধুলটিয়ার মিষ্টি তৈরী করছেন সাগর ও সৈকত নামে দুই ভাই। তারা দু’জনই বিলপাড়া নেওয়াজ আলীর দোকানে দীর্ঘদিন থেকে মিষ্টি তৈরীর কাজ শিখেছেন। এবার তারা সাফল্য পাচ্ছেন। তাদের মিষ্টির প্রচারে দূরদূরান্ত থেকে মিষ্টি খেতে এবং প্যাকেট প্যাকেট মিষ্টি নিয়ে যাচ্ছেন।
সাগর-সৈকত মিষ্টান্ন ভান্ডারের
সাগর বলেন ‘তাদের তৈরী মিষ্টি এখন
ভালো চলছে। বিলপাড়ার চমচমের মতো স্বাদ আমরা
দিচ্ছি। প্রায় প্রতিদিনই ২০ থেকে ৩০
কেজি মিষ্টি বিক্রি হচ্ছে। তবে শুক্রবারে বিক্রি
একমন বা ৪০ কেজি ছাড়িয়ে।
যাত্রা পথে মিষ্টিপ্রিয় মানুষ
জন মিষ্টি খায় এবং প্যাকেটে
করে মিষ্টি নিয়ে যায়। মানুষ
আত্মীয় বাড়ি যায়, বিয়ে
বাড়িতে মিষ্টি দরকার, যে কোন সভা
সমিতি কিংবা অনুষ্ঠানে মিষ্টি দরকার। ওনারা চলে আসে আমাদের
দোকানের মিষ্টির খোঁজে। আমাদের এখন প্রতিদিনই মিষ্টির
অর্ডার বাড়ছে।’
নলশোধা
এলাকার মাদ্রাসার শিক্ষক ও রেফারী সুলতান
মাহমুদ বলেন, আমি মাদ্রাসায় যাত্রা
পথে ওদের মিষ্টি খেয়েছি।
ওদের মিষ্টি খুবই স্বাদ। বিলপাড়ার
মিষ্টির মতোই। আমি প্রায়ই ওদের
দোকান থেকে মিষ্টি ক্রয়
করে ছেলেমেয়ের জন্য বাসায় নিয়ে
যাই। টাঙ্গাইল জেলা বাসকোচ শ্রমিক
ইউনিয়নের প্রচার সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিলপাড়ার মিষ্টি তৈরীর কারিগর আমাদেরই ছোট্র ভাই। ওরা দীর্ঘদিন
বিলপাড়ার দোকানে কাজ শিখে এখন
ধুলাটিয়ার বাজারে মিষ্টির দোকান দিয়েছে। বিলপাড়ার মিষ্টি আর ধুলাটিয়ার মিষ্টি
একই রকম স্বাদ।
কাপড়
ব্যবসায়ী সালেহীন হোসেন হামবট বলেন, আমি বিলপাড়ার মিষ্টির
ভক্ত ছিলাম। যে কারনে মাঝে
মাঝে অনেক দূর থেকে
মিষ্টি আনতে যেতে হতো।
এখন আর যেতে হয়
না। বাড়ীর পাশে ধুলটিয়া বাজারে
সেই একই রকম মিষ্টি।
আমি খুশি ওদের তৈরী
মিষ্টি খেয়ে।
কদবানু
নামে একজন মহিলা ধূলটিয়ার
মিষ্টি কিনে খুবই খুশী।
কারন এই মিষ্টির জন্য
এখন আর বাসাইল যেতে
হয় না। বাড়ির নিকটেই
প্রিয় মিষ্টির দোকান।
মিষ্টি
তৈরীর কারিগর সাগরের ভাই সৈকত বলেন,
আমরা সকাল নলশোধা এবং
বিভিন্ন বাজার থেকে ভালো মানের
গরুর দুধ কিনি। সেই
দুধ আগুনে জ¦াল দেই।
তারপর দুধ ঠান্ডা হলে
সেই দুধ থেকে ছানা
তৈরী করি। এই মিষ্টিতে
হালকা পরিমানে এলাচ এবং অল্প
ময়দা দিতে হয়, যাতে
মিষ্টি ভেঙে না যায়।
তবে মিষ্টির পুরোটাই ছানার তৈরী। যে কারণে অন্যরকম
স্বাদ।
আকাশজমিন/আরআর