ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

সরকারি সহায়তার টিন নাই অন্ধ খুকির ভাগ্যে


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৫ সময় : ৪:২৪ পিএম

মোহনগঞ্জ (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি

নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে অন্ধ খুকি (২৬) জন্মের পর দুনিয়ার আলো বাতাস রং দেখতে পেতেন। কিন্তু মাত্র তিন-থেকে চার মাস বয়সে টায়পয়েড বা হাম নামের এক অজানা রোগে হারিয়ে ফেলেন দৃষ্টিশক্তি। সেই অন্ধত্বই হয়ে ওঠে খুশির সারাজীবনের সঙ্গী। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ মধ্যও অন্ধ জেনেও খুকিকে  উপজেলার গাড়াউন্দ গ্রামের মোঃ কুদ্দুছ মিয়ার ছেলে মোঃ কামাল মিয়ার সাথে দশ বছর আগে বিয়ে দেওযা হয়।

এদিকে বিয়ের পর থেকে খুকির স্বামীর হাতে হাত রেখে চলছিল তাদের সংসার। খুকির দুই ছেলে এক মেয়ে। তিন থেকে চার বছর আগে স্বামী মোঃ কামাল মিয়া তার স্ত্রী খুকিকে ফেলে রেখে চলে যায়। এর পর থেকে ঘুরে ঘুরে তিন সন্তানকে নিয়ে ভিক্ষা করতে শুরু করেন। দিনের বেলায় গ্রাম থেকে শহরে ঘুরে ঘুরে ভিক্ষা কুড়নো,সন্ধ্যায় মোহনগঞ্জ পৌর শহরের রাস্তার মোড়ে সামনে বসে থাকা এটাই খুকির জীবিকার একমাত্র পথ। অন্ধ খুকি মোহনগঞ্জ উপজেলার ৫নং সমাজ সহিলদেও ইউনিয়নের ৬নং ওর্য়াড সাকরাজ গ্রামের মুতি লালের মেয়ে।

দিন দিন বয়সের ভারে খুকির শরীর এখন আর আগের মতো চলে না। মায়ের হাত ধরে চলেন খুকি। সকাল ৮টায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে, রাত ৯ টার পর ছোট্ট কাগজের ভাঙ্গা ঘরে ফেরেন খুকি। অন্ধ খুকি রান্না করে খেতে পারেনা। তার মা হাজেরা আক্তার মেয়ে খুকি-সহ খুকির তিন সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেন।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একে তো অন্ধ খুকির কাগজের ঘর, তার ওপর আবার স্বামী তাঁকে ফেলে চলে যান।  খুকির আসল নাম কী, সেটা এমনকি খুকি নিজেও জানেন না, মানুষ স্নেহ করে ডাকতে ডাকতে ‘খুকি নামটাই স্থায়ী হয়ে গেছে। তার প্রতি মায়া করে পথচারী সহ কিছু মানুষ নিয়মিত ৫ থেকে ১০ টাকা করে ভিক্ষা দেন।

খুকি বলেন, কিছুদিন আগে ঘরের টিনের জন্য মোহনগঞ্জ ইউএনও স্যারের কাছে গেছিলাম। তাও টিন পেলাম'না ইউএনও স্যার আমাকে বলেছেন এর আগে নাকি আমাকে টিন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আসলে এর আগে আমাকে কোনো টিন দেওয়া হয়নি। পরে আবার ইউএনও স্যার কইলো পরে দেখা যাবে। একটি ঘর পেলে আবুধোবাইনডি নিয়ে থাকতে পারতাম। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক হৃদয়ের মানুষেরা খুকির পাশে দাঁড়ালে, হয়তো বদলে দিতে পারে এই অসহায় অন্ধ খুকি সহ তার তিন সন্তানদের শেষ জীবনের গল্প।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুয়েল আহমেদ বলেন,আমার কাছে এমন কেউ আবেদন করেননি,করলে অবশ্যই পেত।

আকাশজমিন/আরআর


এ সম্পর্কিত আরো খবর