ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান

ওঝার চিকিৎসায় প্রাণ গেল ৮ম শ্রেণির ছাত্রীর


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৫ সময় : ৯:৫৫ পিএম

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

কথিত ওঝা আয়নাল হোসেনের ভুল চিকিৎসার কারণে প্রাণ গেল অষ্টম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী অহনা দাশের (১৫)। সাপে কামড়ানোর পর টানা চারদিন সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি ঘটেছে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের মুকুন্দপুর গ্রামে।

অহনা দাশ মুকুন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ধুলিয়াপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী নরেন্দ্রনাথ দাশের মেয়ে এবং শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. এনএল দাশের ভাতিজি। সে ধুলিয়াপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বিকেলে বাড়ির বারান্দায় বসে পড়াশোনা করছিল অহনা। সন্ধ্যার পূর্ব মুহূর্তে উঠোন থেকে একটি বিষধর সাপ একটি ব্যাঙকে তাড়া করে বারান্দার দিকে আসে। শিকার ধরতে ব্যর্থ হয়ে সাপটি অহনার পায়ের আঙুলে দুইবার ছোবল দিয়ে চলে যায়। যন্ত্রণায় কাতর অহনা তাৎক্ষণিকভাবে বাড়ির লোকজনকে বিষয়টি জানালে তারা ক্ষতস্থানের ওপর পরপর চারটি বাঁধন দিয়ে তাকে পার্শ্ববর্তী দেয়া গ্রামে কথিত ওঝা আয়নাল হোসেনের কাছে নিয়ে যান।

সেখানে আয়নাল হোসেন (৬৫) কবিরাজি চিকিৎসা দিতে গিয়ে অহনার পায়ের সব বাঁধন খুলে দিয়ে তাকে হাঁটাহাঁটি করান। এতে অহনার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে ওই ভণ্ড ওঝা নিজেই অপারগতা প্রকাশ করে অন্যত্র চিকিৎসা নিতে পরামর্শ দেন। বিষয়টি জানার পর অহনার কাকা ডা. এনএল দাশ দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ৪টি এন্টিভেনম দেয়া হয় এবং পরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে মারা যায় অহনা দাশ।

শনিবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে পিরোজপুর মহাশ্মশানে হৃদয়বিদারক পরিবেশে অহনাকে সমাধিস্থ করা হয়। বর্তমানে সাপে কামড়ানো রোগীর জন্য সরকারি হাসপাতালে এন্টিভেনমের ব্যবস্থা রয়েছে। অথচ গ্রামীণ মানুষের অজ্ঞতা ও সরল বিশ্বাসকে পুঁজি করে আয়নাল হোসেনের মতো ভণ্ড ওঝারা মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করছে। এ ধরণের প্রতারকদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি আইনগতভাবে কঠোর শাস্তি দেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

কালিগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান বলেন, এবিষয়ে আমাদের কাছে কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ আসলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

আকাশজমিন/আরআর


এ সম্পর্কিত আরো খবর