ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ

ওঝার চিকিৎসায় প্রাণ গেল ৮ম শ্রেণির ছাত্রীর


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৫ সময় : ৯:৫৫ পিএম

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

কথিত ওঝা আয়নাল হোসেনের ভুল চিকিৎসার কারণে প্রাণ গেল অষ্টম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী অহনা দাশের (১৫)। সাপে কামড়ানোর পর টানা চারদিন সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি ঘটেছে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের মুকুন্দপুর গ্রামে।

অহনা দাশ মুকুন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ধুলিয়াপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী নরেন্দ্রনাথ দাশের মেয়ে এবং শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. এনএল দাশের ভাতিজি। সে ধুলিয়াপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বিকেলে বাড়ির বারান্দায় বসে পড়াশোনা করছিল অহনা। সন্ধ্যার পূর্ব মুহূর্তে উঠোন থেকে একটি বিষধর সাপ একটি ব্যাঙকে তাড়া করে বারান্দার দিকে আসে। শিকার ধরতে ব্যর্থ হয়ে সাপটি অহনার পায়ের আঙুলে দুইবার ছোবল দিয়ে চলে যায়। যন্ত্রণায় কাতর অহনা তাৎক্ষণিকভাবে বাড়ির লোকজনকে বিষয়টি জানালে তারা ক্ষতস্থানের ওপর পরপর চারটি বাঁধন দিয়ে তাকে পার্শ্ববর্তী দেয়া গ্রামে কথিত ওঝা আয়নাল হোসেনের কাছে নিয়ে যান।

সেখানে আয়নাল হোসেন (৬৫) কবিরাজি চিকিৎসা দিতে গিয়ে অহনার পায়ের সব বাঁধন খুলে দিয়ে তাকে হাঁটাহাঁটি করান। এতে অহনার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে ওই ভণ্ড ওঝা নিজেই অপারগতা প্রকাশ করে অন্যত্র চিকিৎসা নিতে পরামর্শ দেন। বিষয়টি জানার পর অহনার কাকা ডা. এনএল দাশ দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ৪টি এন্টিভেনম দেয়া হয় এবং পরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে মারা যায় অহনা দাশ।

শনিবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে পিরোজপুর মহাশ্মশানে হৃদয়বিদারক পরিবেশে অহনাকে সমাধিস্থ করা হয়। বর্তমানে সাপে কামড়ানো রোগীর জন্য সরকারি হাসপাতালে এন্টিভেনমের ব্যবস্থা রয়েছে। অথচ গ্রামীণ মানুষের অজ্ঞতা ও সরল বিশ্বাসকে পুঁজি করে আয়নাল হোসেনের মতো ভণ্ড ওঝারা মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করছে। এ ধরণের প্রতারকদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি আইনগতভাবে কঠোর শাস্তি দেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

কালিগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান বলেন, এবিষয়ে আমাদের কাছে কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ আসলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

আকাশজমিন/আরআর


এ সম্পর্কিত আরো খবর