ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

হুমকির মুখে পরিবেশ

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে টায়ার পুড়িয়ে জ্বালানি তেল তৈরি


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৮ আগস্ট, ২০২৫ সময় : ৪:০৬ পিএম

রেজাউল ক‌রিম ঝন্টু, সিরাজগঞ্জঃ

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে গাড়ির পরিত্যক্ত টায়ার রাবার জাতীয় বর্জ্য পুড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে জ্বালানি তেল কার্বন। কৃষি জমিতে গড়ে তোলা কারখানার কালো ধোঁয়া, দুর্গন্ধ বিষাক্ত গ্যাস বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের আবাসিক এলাকায়। এতে বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ এবং মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছেন স্থানীয়রা। কারখানাটি রায়গঞ্জ উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়নের বাকাই গ্রামের কৃষি জমিতে অবস্থিত।

সরেজমিনে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে বাস, ট্রাক, সাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের পুরনো টায়ার। এগুলো কাঠের আগুনের তাপে গলিয়ে তৈরি করা হচ্ছে এক ধরনের কালো তেল কালি। এসব টায়ার পোড়ানোয় বিষাক্ত ধোঁয়া দুর্গন্ধে বিপর্যস্ত হচ্ছে এলাকার পরিবেশ। বাতাসের সঙ্গে বিষাক্ত ধোঁয়া কালি মিশে পড়ছে আশপাশের বসতবাড়ি, গাছ ফসলি জমিতে। এতে ফসল উৎপাদন কমে যাওয়াসহ এলাকার শিশু বৃদ্ধরা কাশি, অ্যাজমা হাঁপানি-সহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনুমতি ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। এতে ওই এলাকার গাছপালা নষ্ট হচ্ছে। পরিবেশ পড়েছে হুমকির মুখে।

স্থানীয়রা জানান, কারখানাটিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা বাস, ট্রাক, সাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের পুরনো টায়ার আগুনের তাপে গলিয়ে তৈরি করা হয় জ্বালানি তেল এবং কালি। এর পাশাপাশি পোড়ানো টায়ারের ভেতর থেকে বের করা হয় লোহা তৈরির কাঁচামালও।

তারা আরও জানান, প্রতিদিন থেকে ঘণ্টা টায়ার আগুনের তাপে গলানোর সময় এর বিষাক্ত কালো ধোঁয়া মিশে যাচ্ছে বাতাসে। ফলে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে কার্বন মনোঅক্সাইড, নাইট্রোজেন মিথেনসহ ক্ষতিকর রাসায়নিক গ্যাস। এতে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। প্রশাসনের কাছে পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত এমন কারখানা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় কৃষক সোবহান আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাস্তার অবস্থা ভয়াবহ, মানুষ ঠিকমতো চলাচল করতে পারে না। পুকুরে ডিম দিয়েছিলাম রেনু করার জন্য। সব মরে গেছে। এর আগে এলাকাবাসীর কঠোর ভূমিকায় বন্ধ ছিল কারখানাটি। কিছুদিন পরেই আবার তা চালু হয়েছে। সুরেশ চন্দ্র মাহাতো নামে আরেক কৃষক বলেন, “মাঠে কাজ করতে গেলেই দুর্গন্ধে মনে হয় বমি হয়ে যাবে। বিষাক্ত বর্জ্যের দুর্গন্ধে শ্রমিকরা মাঠে কাজ করতে চায় না। পানিতে নামলে চর্মরোগ হচ্ছে। ধানের ফলন ভালো হচ্ছে না।

প্রশাসনের অনুমোদনহীন অবৈধ কারখানা দ্রুত বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।কোম্পানিটির ম্যানেজার স্বপন শেখ বলেন, পুরনো টায়ার পুড়িয়ে ফার্নেস ওয়েল কালি তৈরি করা হয়। যা বিভিন্ন ফায়ারিং কাজে ব্যবহার হয়। আর কালি ইটভাটায় বিক্রি করি। অনুমোদন সংক্রান্ত কাগজপত্রের বিষয়ে স্যারের সঙ্গে কথা বলতে হবে বলে জানান তিনি। রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হুমায়ূন কবির বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. তুহিন আলম জানান, ধরনের কোন কোম্পানিকে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড় পত্র দেওয়া হয়নি। তবে, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্তা নেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, ফার্নেস অয়েল হলো এক ধরনের তরল জ্বালানিযা বয়লার গরম করতে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি পাতন প্রক্রিয়ার পরে অপরিশোধিত তেল থেকে প্রাপ্ত একটি অবশিষ্ট জ্বালানি।

আকাশজমিন/আরআর

 


এ সম্পর্কিত আরো খবর