ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

বাবাকে হত্যার তিন দিন আগেই লাশ গুমে গর্ত খোঁড়েন ছেলে


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ২৮ আগস্ট, ২০২৫ সময় : ৭:২৪ পিএম

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ কোনোভাবেই মানতে পারছিলেন না কলেজ শিক্ষার্থী জামিউল হক খান জিসান। অনেক বোঝানোর পরও বাবা-মাকে নিয়ে আসতে পারেননি এক ছাদের তলে। এতে অবনতি হয় বাবা ছেলের সম্পর্কের। বাবাকে হত্যার পরিকল্পনা আঁটেন জিসান। লাশ গুম করতে তিন দিন আগে বাড়ির পাশে খুঁড়ে রাখেন গর্ত। অতিমাত্রায় ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বাবার মৃত্যু নিশ্চিত করতে পারলেও গর্তে পুঁতে রাখতে পারেননি জিসান। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এমনই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন তিনি। নিহত রাশিদুল হক খান সুমনের (৪৭) বাড়ি ঘাটাইল উপজেলার সন্ধানপুর ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামে। ঘটনায় বুধবার রাতে থানায় মামলা করেছেন তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক খান (৮২)

সুমন ছিলেন ওষুধ ব্যবসায়ী। তার ফার্মেসি ধলাপাড়া বাজারে। কলেজপড়ুয়া ছেলে জিসান (২৩) এগারো বছর বয়সী এক মেয়ে থাকা অবস্থায় বছরখানেক আগে স্ত্রী জুলিয়া খানমের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় সুমনের। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ কোনোভাবেই মানতে পারছিলেন না জিসান। মা-বাবাকে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনার অনেক চেষ্টা করেন তিনি। ব্যর্থ হন বাবার কারণে। গত ২০ আগস্ট মাকে ঘরে ফিরিয়ে আনার জন্য চাপ সৃষ্টি করে বাবার সঙ্গে তর্কে জড়ান জিসান। একপর্যায়ে বাবার মারধরের শিকার হন তিনি। মাকে ফিরিয়ে আনার কথা বললে বাবা ক্ষিপ্ত হতে পারেন ভেবে নিজেদের ফার্মেসি থেকে আগেই ২০টি ঘুমের ট্যাবলেট ঘরে এনে রেখেছিলেন জিসান। ঘরের পাশে যেখান দিয়ে মানুষের চলাচল নেই, সেখানে তিন দিন আগেই বাবার লাশ গুমের উদ্দেশ্যে গর্ত খুঁড়ে রেখেছিলেন তিনি।

এদিকে মারধরের শিকার হয়েও ওই রাতে বাবার সঙ্গে একই ঘরে ঘুমান জিসান। এক গ্লাস পানির মধ্যে ২০টি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে রাখেন তিনি। রাত পৌনে ১২টার দিকে জিসানের বাবা তার কাছে গ্যাস নিরাময়ের ওষুধ চান। গ্যাসের ট্যাবলেটের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মেশানো পানি দেন জিসান। কিছুক্ষণ পর ঘুমিয়ে পড়েন সুমন। এই ঘুমেই চলে যান চিরঘুমে। পরদিন দুপুরেও ঘুম থেকে না জাগার কারণে প্রতিবেশীরা গিয়ে দেখতে পান সুমন মারা গেছেন। স্বাভাবিক মৃত্যু ভেবে দাফন করা হয়।

অন্যদিকে জিসানের আচরণ অস্বাভাবিক মনে হলে তাকে কারণ জিজ্ঞাসা করেন দাদা নুরুল হক খান। ২৭ আগস্ট বিকেলে জিজ্ঞাসাবাদে বাবাকে হত্যার কথা দাদার কাছে খুলে বলেন জিসান। বিষয়টি স্থানীয়দের জানান নুরুল হক। স্থানীয়রা জিসানকে আটক করে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ গিয়ে থানায় নিয়ে যায় তাকে।

ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশাররফ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবাকে ঘুমের ওষুধ খায়িয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন জিসান। ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলে হাজাতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান।

আকাশজমিন/আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর