গোয়ালন্দ(রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের বিতর্কীত গোয়ালন্দ পাক-দরবার শরীফের পীর মরহুম নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলের কবর ১২ ফুট উঁচুতে দেয়া, কফিনসহ কবর দেয়া এবং কবরের আকৃতি ইসলাম বিরোধী হওয়া, নিজেকে ইমাম মেহেদী দাবি করে প্রচার করার বিষয়ে প্রতিবাদ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে এ প্রতিবাদ ও মতবিনিময় সভা এবং ৫ টি দাবি জানিয়ে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
গোয়ালন্দ উপজেলা ইমাম কমিটির সভাপতি
মাওলানা মোঃ জালাল উদ্দিন প্রামাণিকের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ী জেলা
ইমাম কমিটির সভাপতি মাওলানা ইলিয়াস মোল্লা, আল জামিয়া নিজামিয়া আরাবিয়া কাওমী মাদ্রাসার
অধ্যক্ষ মাওলানা মুফতি শামসুল হুদা।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারি গোয়ালন্দ
কামরুল ইসলাম কলেজের অধ্যক্ষ (অবসরপ্রাপ্ত) কেএম মুহিত হিরা, গোয়ালন্দ পৌর বিএনপির
সভাপতি আবুল কাশেম মন্ডল, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ আয়উব আলী, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক
সম্পাদক মোঃ আমজাদ হোসেন, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান প্রমুখসহ গোয়ালন্দ
ইমাম কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ, তৌহিদী জনতা , শিক্ষক মন্ডলী, বিভিন্ন প্রিন্ট ও
ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদ কর্মীসহ সুধীজনেরা।
বক্তারা এসময় বলেন, রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার পৌর ৫ নং ওয়ার্ড জুড়ান মোল্লার পাড়ায় গোয়ালন্দ পাক-দরবার শরীফের নামে নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগল বিভিন্ন সময় নিজেকে ইমাম মেহেদী দাবি করে এবং ইসলামের নামে শিরকী কর্মকাণ্ড করে আসছিল। তার ধর্ম বিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি দেশে পরিচিত লাভ করেন। এরকম বিতর্কীত কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে বহুবার পালিয়ে থাকতে হয়েছে। তারা আরো বলেন, মৃত্যুর পর তার ভক্তরা ও পরিবারের সদস্যরা নতুন করে ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত হচ্ছেন।
তার মৃত্যুর পরে কবর মাটি থেকে ১২ ফুট উঁচুতে দেয়া, কবরের গায়ে কাবা
শরীফের মতো রং করা এবং কবরের গায়ে তাকে ইমাম মেহেদী হিসাবে দাবী করে নাম লেখেন। তবে
ইতিমধ্যে কবরের রং পরিবর্তন এবং ইমাম মেহেদী লেখা মুছে ফেলেছেন। তাদের পরিবারের পক্ষ
হতে প্রশাসনের কাছ থেকে কবর উঁচু থেকে নিচে নামানোর জন্য এক সপ্তাহ সময় নিয়েছেন।
এই সময়ের মধ্যে কবরের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত না নিলে আমাদের পক্ষ হতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ
করা হবে।
আকাশজমিন/আরআর