গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর
গোয়ালন্দে দরবার শরীফে আগুন, পুলিশের গাড়ি ভাঙ্চুর, কবর থেকে লাশ তুলে পুড়িয়ে দিয়েছে
বিক্ষুব্ধ তৌহিদী জনতা। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ
উপজেলার নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগল নামের এক ব্যক্তিকে মাটি থেকে কয়েক ফুট উঁচু বেদি
তৈরি করে দাফন করা হয়। এটি ‘শরিয়ত পরিপন্থী’ দাবি করে করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের
অভিযোগে গোয়ালন্দ পাক দরবার শরীফে আগুন দিয়েছেন উত্তেজিত জনতা।
গতকাল শুক্রবার দুপুরের পর বিক্ষুব্ধ জনতা এ হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এসময় পুলিশের দুইটি ডাবল কেবিন পিকআপসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ির ভাঙ্চুর করা হয়। খরব পেয়ে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলামসহ সেনবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরীফ আল রাজীব এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গোয়ালন্দ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাড়িতে দরবার শরিফ গড়ে তোলেন নুরুল হক। আশির দশকের শেষ দিকে তিনি নিজেকে ইমাম মেহেদি দাবি করলে জনরোষ তৈরি হয়। পরে ১৯৯৩ সালের ২৩ মার্চ মুচলেকা দিয়ে তিনি এলাকা ছাড়েন। কয়েকদিন পর তিনি আবার দরবারে ফিরে কার্যক্রম শুরু করেন। গত ২৩ আগস্ট ভোরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় তাঁর মৃত্যু হয়। ওইদিন রাতে এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে প্রথম জানাজা ও ভক্তদের অংশগ্রহণে দ্বিতীয় জানাজা শেষে রাতে সাড়ে ১০ টার দিকে মাটি থেকে কয়েক ফুট উচুতে বিশেষ কায়দায় দাফন করা হয়। যে বেদির ওপর দাফন করা হয় সেখানে পবিত্র কাবার আদলে রং করা হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হন স্থানীয় আলেম সমাজ সহ ধর্মপ্রাণ মুসলমান।
ধর্মীয়
অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে ইমাম-আকিদা রক্ষা কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি গোয়ালন্দ
উপজেলা মডেল মসজিদসহ রাজবাড়ী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলন করে স্থানীয়
প্রশাসনসহ জেলা প্রশাসনের কাছে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান
চান। সংবাদ সম্মেলনে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অ্যাড. নুরুল ইসলাম বলেন, যেভাবে নুরুল
হককে কবর দেওয়া হয়েছে। এটা ইসলাম পরিপন্থী। দ্রুত সময়ের মধ্যে ধর্মীয় রীতি মেনে কবর
দেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি। ইমাম আকিদা রক্ষা কমিটি শুক্রবার জেলা ও উপজেলায় বিক্ষোভ
কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
দুপুরে উত্তেজিত জনতা দরবার শরীফে ভাঙ্চুর করে অগ্নিসংযোগ করেন। উত্তেজিত জনতা কবর থেকে নুরুল হকের লাশ উত্তোলন করে পদ্মার মোড় এলাকায় অগ্নিসংযোগ করেন। ৫ আগস্ট শুক্রবার দুপুরে দরবার শরীফের পক্ষ থেকে গোয়ালন্দ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলন থেকে দাবি করা হয় ইমাম-আকিদা রক্ষা কমিটি যেসব দাবি করেছেন। সেসব দাবি মানা হয়েছে। দরবারে হতাহতের ঘটনায় দরবারের রাসেল নামে এক ভক্তের মৃত্যু হয়।
মৃত
ব্যক্তির স্ত্রীর বড় ভাই রজব আলী বলেন, দরবারে হতাহতের ঘটনায় আমার ছোট বোন জামাই
গুরতর আহত হলে দ্রুত তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে
মৃত ঘোষণা করেন। এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আকাশজমিন/আরআর