ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুর
মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে
দীর্ঘদিন যাবদ চাকুরীরত তৃতীয়
শ্রেণীর পদ ধারী গার্ড
থেকে (ভারপ্রাপ্ত) ওয়ার্ড মাষ্টার পদে পাওয়া মোঃ
দিরাজ উদ্দিনের খুঁটির জোর কোথায়। হাসপাতালেটি
ভিতরে বাইরে মিলিয়ে নানা
ধরনের অপকর্ম করার পরেও বিশেষ
ক্ষমতা বলে রয়েছে বিশেষ
তদারুতিতে। হাসপাতালটির কৃতপক্ষ সহ দুদুক কমিশনের
কাছে তার বিরুদ্ধে একাধিক
অভিযোগ প্রমাণ সহ থাকা সত্ত্বেও
নেই কোন তার বিরুদ্ধে
আইনগত ব্যবস্থা।
কিছুদিন গতি হয়েছে তার অপকর্মের শাস্তি হিসাবে রাজবাড়ী জেলাতে বদলি করা হলেও তার কালো শক্তির বদলে আবার আগের জায়গায় ফিরে এসেছেন। তার কাছে ফরিদপুর মেডিকেল হাসপাতালটি যেন মধুর ভান্ডার। হাসপাতালটিতে থাকা একাধিক ষ্টাফসহ সাধারণ মানুষের অভিযোগ,বিছানা বরাদ্দে অনিয়ম টাকা বা ঘুষ ছাড়া রোগীকে বেড না দেওয়া।ভিআইপি বা পরিচিতদের জন্য গরীব রোগীর জায়গা আটকে রাখা। ওষুধপত্র ও সরঞ্জাম অপব্যবহার সরকারি সরবরাহকৃত ওষুধ বাজারে বিক্রি করা।
রোগীদের
দেওয়া চাদর, বালিশ, স্যালাইন, সিরিঞ্জ ইত্যাদি বাইরে বিক্রি করে দেওয়া। রোগীর
সেবায় ঘুষ আদায় আইসিইউ,
কেবিন, কিংবা স্পেশাল ওয়ার্ডে ভর্তি করাতে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া।ফ্রি সার্ভিসকেও
টাকার বিনিময়ে দেওয়া।ওয়ার্ড বয়, আয়া ইত্যাদির
কাছ থেকে মাসোহারা আদায়
করা।
ডিউটি
না করেও হাজিরা খাতায়
স্বাক্ষর করিয়ে দেওয়া। চিকিৎসা সেবায় দালালি, রোগীকে নির্দিষ্ট প্রাইভেট ক্লিনিক বা ডাক্তারের চেম্বারে
পাঠিয়ে কমিশন খাওয়া।রোগীর স্বজনদের হয়রানি রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে বিনা
কারণে টাকা দাবি করা।মৃতদেহ
হস্তান্তরের সময় টাকা ছাড়া
প্রক্রিয়া বিলম্বিত। এই সব কিছু জানার
পরেও নীরব ভূমিকা পালন
করে চরছে হাসপাতালটির কৃতপক্ষে।
দেখাযায়
হাসপাতালের ভিতর ও প্রধান
গেটের আশপাশে ৪০টির মত অবৈধ ভাবে
বিভিন্ন জাতের দোকান গড়ে উঠেছে। এবং
সেখানে সন্ত্রাসী গং এবং বিপদগামী
গ্রুপ ও প্রতারক চক্র আড্ডা
দেয়। এখান থেকে নিয়ন্ত্রণ
হয়, রক্ত ছিনতাই ও
রক্ত টানা গ্রুপ,মোবাইল
ছিনতাই গ্রুপ, মাতাল গ্রুপ,টানা গ্রুপ, (রোগীর
স্বজনদের কাছ থেকে মোবাইল
বা নগদ টাকা টান
দিয়েই দৌড়) গাট্টি গ্রুপ।কথিত
আছে এদের অনেকটা নিয়ন্ত্রণ
করেন মোঃ
দিরাজ উদ্দিন।
হাসপাতালটির
গার্ড দিরাজ উদ্দিন বর্তমানে নগদ টাকায় ওয়ার্ড মাষ্টার বনে গেছে, তার
রয়েছে হাসপাতালের মধ্যে বিশাল একটি ব্যক্তিগত রুম।
সেখানে তিনি বহু দাগী
ও দামী অপরাধী চক্রদের
নিয়ে গোপন বৈঠক করেন।
কথিত আছে
ওয়ার্ড মাষ্টার দিরাজ তার নিজে রাজবাড়ী
জেলা গোয়ালন্দ উপজেলার জামতলা এলাকার সাবেক শীর্ষ সন্ত্রাসী নায়েব আলী চক্রের কাছের
মানুষ।
অনুসন্ধানে আরও দেখাযায় বেশ কিছুদিন গত হয়েছে মোঃ দিরাজের উদ্দিনের বিরুদ্ধে হাসপাতালটিতে আউটসোর্সিং স্টাফ নিয়োগে কোটি টাকার আত্মসাৎ এর দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে দুদক। আউটসোর্সিং নিয়োগ সংক্রান্তে চাকুরী প্রত্যাশীদের নিকট থেকে ৫০ হাজার থেকে শুরু করে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত টাকা নেন ওয়ার্ড মাষ্টার (ভারপ্রাপ্ত) মো: দিরাজ উদ্দিন। এরমধ্যে বেশিরভাগ মানুষের চাকুরী হয়নি এবং টাকাও ফেরত দেয়া হয়নি।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিনা বেতনে চাকরি করছেন ৯০ জন ষ্টাফ, চাকরি পেতে দিতে হয়েছে জনপ্রতি দেড় লক্ষ টাকা। পরিচালকের জন্য ২৫ হাজার, কোম্পানির ৫০ হাজার আর বাকি ৭৫ হাজার ওয়ার্ড মাষ্টার দিরাজের। দুদকের কাছে এমনটাই জানিয়েছে দিরাজ। ফরিদপুর দুদক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন জানায় আউটসোর্সিং কমী নিয়োগে দুর্নীতিসহ অনেক অনিয়মের সত্যতা পেয়েছি। এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একজন ডাক্তার তৈরি হতে একযুগ সময় সহ কোটি টাকার অর্থ খরচ হয়, সেখানে তৃতীয় শ্রেণীর একজন কর্মচারী গার্ড থেকে ওয়ার্ড মাস্টারের দায়িত্ব পাওয়া মোঃ দিরাজ উদ্দিন নিজেকে বড় ডাক্তার পরিচয় দিয়ে রোগীদের চিকিৎসা করে যাচ্ছে। এই দিরাজের সকল ধরনের অপকর্ম হাসপাতালটির কৃতপক্ষ জানা সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে কোন ধরনের আইনগত ব্যবস্থা না নেয়ার কারণ জানতে চায় সচেতন মহল। সচেতন মহলের দাবি এই দিরাজ উদ্দিনের মত আরো অনেকেই এই মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল জুড়ে রয়েছে। এদেরকে প্রতিহত করতে পারলে দূর দুরান্ত থেকে আসা রোগীসহ আত্মীয়-স্বজন নিশ্চিন্তায় সেবা গ্রহণসহ হাসপাতালটির সকল ধরনের সুবিধা পাবে।
এ
বিষয়ে জানতে চাইলে মোঃ দিরাজ উদ্দিনের
মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি
ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য
জানা সম্ভব হয়নি।
আকাশজমিন/আরআর