মোহনগঞ্জ (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি:
নেত্রকোণা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অনিক মাহবুব চৌধুরীর বিরুদ্ধে সারোয়ার জাহান নামের এক ঠিকাদারকে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নেত্রকোণা জেলা কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ঠিকাদার সারোয়ার জাহানের বাড়ি জেলার মদন উপজেলার চানগাও গ্রামে। তিনি মদন উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও মদন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি একজন প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার।
ভুক্তভোগী
ও জেলা এলজিইডি অফিস
সূত্রে জানা গেছে, বুধবার
দুপুরে ঠিকাদার সারোয়ার জাহান এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর রুমে বসে তার
সঙ্গে কথা বলছিলেন। এমন
সময় সুমন নামের এক
যুবক এসে ঠিকাদার সারোয়ার
জাহানকে ডেকে বাহিরে নিয়ে
যান। বাহিরে যেতেই জেলা ছাত্রদলের সভাপতি
অনিক মাহবুব চৌধুরী ঠিকাদার সারোয়ার জাহানকে কিল, ঘুষি ও
লাথি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে ভবনের
দুতলা থেকে মারপিট করে
নিচ তলায় নিয়ে আসে।
অফিসের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও আনসার সদস্যরা
পরে তাকে একটি রুমে
নিয়ে যান। খবর পেয়ে
নেত্রকোণা মডেল থানার পুলিশ
ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ
করে।
এ
বিষয়ে ঠিকাদার সারোয়ার জাহান বলেন, আমি অফিসে এসে
নির্বাহী প্রকৌশলী স্যারের সঙ্গে কথা বলছিলাম। সুমন
নামের একজন এসে ডাক
দিলে বাহিরে যাই। কিছু বুঝে
ওঠার আগেই জেলা ছাত্রদলের
সভাপতি অনিক মাহবুব চৌধুরী
আমাকে মারধর শুরু করে। এর
সঙ্গে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং জেলা
বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ারকে অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করে।
তিনি
আরও বলেন, আমি একজন ঠিকাদার।
অফিসে আসলেও যদি আমাদের নিরাপত্তা
না থাকে তাহলে যাবো
কোথায়। ছাত্র দলের নাম ভাঙিয়ে
এমন সন্ত্রাসী কার্যক্রমের চালিয়ে যাচ্ছে সে। আমি এ
ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। তবে তাকে
কেন মারধর করা হয়েছে, এর
কারণ তিনি জানেন না
বলেও জানান।
স্থানীয়
সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নেত্রকোণা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম
বলেন, ঠিকাদার সারোয়ার জাহান আমার রুমে বসে
কথা বলছিল। এমন সময় ছাত্রদল
নেতা সুমন তাকে ডেকে
বাহিরে নিয়ে যায়। পরে
তাকে মারধর করা হয়। ওখানে
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অনিক মাহবুব ও
সুমন ছিলো বলে জেনেছি।
আমি তাৎক্ষণিক বিষয়টি পুলিশ ও ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে
জানিয়েছি। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানতে চাইলে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অনিক মাহবুব চৌধুরী জানান, ঠিকাদার সারোয়ার জাহানের সঙ্গে সুমন নামের একজনের কথা কাটাকাটি হয়। বিষয়টি শুনে আমি এগিয়ে যাই। এখানে আমাকে অহেতুক জড়ানো হচ্ছে। নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী শাহ নেওয়াজ বলেন, বিষয়টি শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়েছিল। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।