আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
পাকিস্তানের
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে তালেবানের জঙ্গিদের হামলায় দেশটির সামরিক বাহিনীর অন্তত ১২ সদস্য নিহত
হয়েছেন। শনিবার ভোরের দিকে দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের
প্রত্যন্ত এক এলাকায় সামরিক
বাহিনীর গাড়িবহরে হামলায় প্রাণহানির এই ঘটনা ঘটেছে
বলে দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, সেনাবাহিনীর সদস্যরা গাড়িবহর নিয়ে আফগানিস্তান সীমান্ত
লাগোয়া দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের দুর্গম বাদার এলাকায় পৌঁছানোর পর সেখানে হামলার
শিকার হন।
এক
বিবৃতিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বলেছে, তীব্র গোলাগুলির পর সংঘর্ষে অন্তত
১২ সৈন্য ও ১৩ জন
জঙ্গি নিহত হয়েছেন। এই
ঘটনায় আরও অন্তত চারজন
আহত হয়েছেন বলে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা
জানিয়েছেন।
সেনাবাহিনীর
গাড়িবহরে এই হামলার দায়
স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে
পাকিস্তানি তালেবান। গোষ্ঠীটি সেনাবাহিনীর সদস্যদের কাছ থেকে অস্ত্র
ও ড্রোন লুট করার দাবিও
করেছে। ইসলামাবাদ বলছে, নিষিদ্ধঘোষিত এই জঙ্গি গোষ্ঠীটির
ঘাঁটি আফগানিস্তানে অবস্থিত।
স্থানীয়
বাসিন্দারা বলেছেন, ভোরের দিকে হওয়া এই
হামলার পর কয়েক ঘণ্টা
ধরে আকাশে উড়োজাহাজ টহল দিয়েছে। এছাড়া
হামলায় আহতদের উদ্ধারের পর স্থানীয় বিভিন্ন
হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে
পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী।
সাধারণত
পাকিস্তানের ওই এলাকায় সেনাবাহিনীর
গাড়িবহর চলাচলের আগে কারফিউ জারি
করা হয়। জঙ্গিদের সক্রিয়
অবস্থান থাকায় স্থানীয় প্রশাসন প্রায়ই এই ধরনের পদক্ষেপ
গ্রহণ করে।
ইসলামাবাদ
অভিযোগ করে বলেছে, পাকিস্তানি
তালেবানকে আফগান তালেবান প্রশাসন ভারতের সমর্থনে আশ্রয় দিচ্ছে। তবে কাবুল ও
নয়াদিল্লি উভয়ই এই অভিযোগ অস্বীকার
করেছে। পাকিস্তানি তালেবান গোষ্ঠী আফগানিস্তানের তালেবানের অনুসারী।
২০২১
সালে আফগান তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে
পাকিস্তানি তালেবান দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা বৃদ্ধি
করেছে।
পাকিস্তান
সেনাবাহিনী বলেছে, আফগান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের দায়িত্ব পালন করবে এবং
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানোর জন্য তাদের ভূখণ্ড
ব্যবহার করতে দেবে না
বলে প্রত্যাশা করছে ইসলামাবাদ।