দর্জির দোকানে কর্মচারী হিসেবে জীবনের শুরু, কিন্তু হঠাৎ করেই কোটিপতির খাতায় নাম লেখানো – এমনই চাঞ্চল্যকর গল্প চরভদ্রাসনের আলতাব হোসেনের। স্থানীয়দের কাছে তিনি এখন ‘ভূমিদস্যু’ হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়—মুক্তিযোদ্ধার ঘর ভেঙে দখল, সরকারি গাছ কাটা, মাটি ও বালুর অবৈধ ব্যবসা, মানি লন্ডারিং, জাল কাগজে জমি কেনাবেচা এবং ভারতীয় নাগরিকদের ভূয়া কাগজপত্র তৈরি করে জমি দখল পর্যন্ত রয়েছে।
জানা যায়, দর্জির দোকানের সামান্য একজন কর্মচারী হঠাৎ করে কোটিপতির বনে যাওয়া কে এই আলতাব হোসেন। ফরিদপুর উপজেলা চরভদ্রাসনে মানুষের কাছে যিনি ভূমি দুষ্য নামে পরিচিত। তার অপকর্মের কর্মকান্ড একাধিক পত্রিকায় বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ হলেও টাকা, অদৃশ্য কালো ছায়ার ক্ষমতার দাপটে রয়ে যায় আইনের ধরাছোঁয়ার বাইরে। অভিযোগ আছে মুক্তিযোদ্ধার ঘর ভেঙে নিয়ে যাওয়া, জবরদখল প্রভাব বিস্তার সরকারি গাছ কাটা, মুক্তিযোদ্ধার জায়গা ও ঘর বাড়ি দখল করা, অবৈধ মানির লন্ডারিং সাথে জড়িত থাকা। ঝামেলা যুক্ত জমি ক্রয় করা, আওয়ামী দখলদারদের সহযোগিতায় জমি দখল করা, ইন্ডিয়ান নাগরিকদের ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে জমি ক্রয় ও দখল করা,সহ অবৈধভাবে মাটি বালু ব্যবসা করা।
উক্ত এলাকার বিএস ডাঙ্গী গ্রামের মৃত ডাক্তার আবুল বাশার মোল্লার ছেলে শিক্ষক মোঃ মনির হোসেন (আব্দুল কাদের মোল্লা), হালিমা বেগম, মুক্তিযোদ্ধা সুবল শাহ জানায়, পূর্ব বি এস ডাঙ্গী গ্রামে বিশ্বাস পরিবার তারা পারিবারিকভাবে নিজেদের মধ্যে আপোষ বন্টন করে সুবিধামতো জমি ভোগ
কুটিশ্বর বিশ্বাস গং এর ওয়ারেস দ্বারদের মধ্যে কয়েকজন ভারতে চলে যান এবং সে দেশের নাগরিকত্ব নিয়ে কর্মজীবনে আছে । দুইজন ওয়ারিশ এ দেশে বসবাসরত আছেন ২২ বছর পরে ২০২২ সালে ভূমিদস্যু আলতাফ কুটিশ্বরের ওরিস দাড়দের কাছ থেকে কিছু জমি ক্রয় করে এবং ভারতীয় নাগরিকদের নামে ভুয়া জন্ম নিবন্ধন প্রদর্শন পূর্বক অন্য স্থানে গোপনে একাধিক দাগ উল্লেখ করে দলিল তৈরি করেন উক্ত দলিলের বলে বর্তমানে সে ২০ বছর যাবত বসবাস রত দের বাড়ির ঘরের ভিতরে তার জমি আছে বলে দাবি করে আসছেন।কিন্তু দাতাদের অন্য জমিও সে জবর দখলে আছেন। বসবাস রতরা তাদের বসত ঘর সংস্কার করতে গেলে তিনি তাতে বাধা প্রদান করেন।এই বিষয়ে চরভদ্রাসন থানায় অভিযোগ সহ একটি মামলা করা হয়েছে।
অবৈধ টাকা ও আওয়ামী দখল দার দের ক্ষমতা বলে অসহায় এর উপর জুলুম নির্যাতন ও জবরদখল চালিয়ে যাচ্ছে সরকারি অর্থে নির্মিত পুরো রাস্তার জমি দখল করে পাকা বাউন্ডারি নির্মাণ করেছে এ ব্যাপারে অভিযোগ করেও কোন সুরাহা পায়নি ভুক্তভোগী এলাকা বাসী। বর্তমানে রাস্তাটিতে যাতায়াত বন্ধ আছে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বিভিন্ন দপ্তরে গিয়েও তার টাকা ও দাপটের প্রভাবে সফল হতে পারেনি। সে পূর্ব বি এস ডাঙ্গী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাস্তার শেষ নদীর ভিতরে জায়গা ভরাট করে দখল নিয়েছে । সম্প্রতি সে শিক্ষক আব্দুল কাদের মোল্লা এর পুরনো ঘর ভেঙ্গে পাকা বাড়ি নির্মাণ কাজ শুরু করে। ৫ ই আগস্টের পরবর্তী সময় সে একটু দুর্বল ছিল তাই তার পাকা বাড়ি নির্মাণে বাধা প্রদান করতে পারেনি। আগস্টের এক বছর পার হয়ে যাওয়ায় পরিবেশ অনেকটাই সে নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছেন ।
তাই আবারো সেই পুরনো রূপে আবির্ভাব হয়ে শিক্ষক মনির হোসেন (আব্দুল কাদের মোল্লার ) ছাদ ঢালাই এর কাজ চলছিল সে সময় সে ফরিদপুরে আদালতে যায় চরভদ্রাসন আমলি আদালত এর বিচারক না থাকায় মধুখালী আদালত থেকে একই দিনের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করে এনে ছাদ ঢালাইতে বাধা প্রদান করেন । এসময় ছাদ ঢালাই এর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে । ছাদ ঢালাই এর মালামাল নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করতে এগুলো গুছিয়ে রাখতে গেলে সে তার পালিত লোকজন নিয়ে বাড়িতে হামলা করেন উক্ত ঘটনা
চরভদ্রাসন থানাকে অবগত করলে ঘটনা স্থল পরিদর্শন করে চরভদ্রাসন থানা অফিসার।স্থানীয়দের পরামর্শে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় সালিশ বৈঠকে মাধ্যমে বিগতমান সমস্যা সমাধানের পরামর্শে সকলের সম্মতিতে উভয় পক্ষের মানিত সালিশ বর্গদের নিয়ে সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও সে অমান্য করেন। তার দখলিয় জায়গা পরিমাপ করতে চাইলে সে তার দখলিয় জায়গা পরিমাপ করতে রাজি হননি। টাকার প্রভাব বিস্তার করে উপজেলা তৌহশিলদার কর্তৃক ১৪৪ এর তদন্তের মনগড়া রিপোর্ট প্রদানে প্রভাবিত করেন। অসহায় শিক্ষক মনির হোসেন তার প্রভাব ও টাকার কাছে অসহায় হয়ে অসম্পূর্ণ বাড়ি নির্মাণ কাজ নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আলতাম হোসেন জানায় কাগজপত্র ছাড়া তো কারো জমি দখল করা যায় না। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং মিথ্যা বানোয়াট কথা বলা হয়েছে। আমি একজন প্রবাসী। কোন রাজনীতির সাথে সম্প্রীতি ছিলনা। আমি তাদের কাছে জমি পাই। তারি পরিপেক্ষিতে ঘরতোলা বাধা প্রদান করি। তাছাড়া মানুষের জীবনে ভুল ত্রুটি থাকবে। এটাই স্বাভাবিক।
আকাশজমিন /আরজে