সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 156
রেজাউল করিম ঝন্টু
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার দেলুয়া নদীর ওপর ৬ কোটি টাকার ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি চার বছর ধরে পড়ে আছে অকেজো অবস্থায়। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে অনেক আগেই, কাজ হয়েছে প্রায় ৯৫ শতাংশ। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি ব্যবহার করতে পারছেন না স্থানীয়রা। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন আশপাশের ১০ গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।
খোঁজ
নিয়ে জানা গেছে, জমি
অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এখনো সেতুর সংযোগ
সড়ক তৈরি হয়নি। স্থানীয়রা
জানান, যমুনার এই খাল পার
হয়ে বেলকুচি সদর ইউনিয়নের দেলুয়া,
চর দেলুয়া, মধ্য দেলুয়া, রতনকান্দি,
সোহাগপুর, বড়ধুলসহ ৮–১০ গ্রামের
মানুষ চলাচল করে। আগে বর্ষায়
নৌকা, পানি কমলে বাঁশের
সাঁকো, আর শুকনো মৌসুমে
হেঁটে যাতায়াত করতে হতো।
এতে
অসুস্থ রোগী ও স্কুল–কলেজগামী শিক্ষার্থীরা নানাভাবে ভোগান্তিতে পড়তেন। কৃষিপণ্য পরিবহনে সময় ও টাকা
দুটোই নষ্ট হতো।
প্রকল্পের তথ্য :
স্থানীয়
সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ২০২০–২১ অর্থবছরে চরদেলুয়া
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে দেলুয়া বক্কার
প্রামাণিকের বাড়ি পর্যন্ত খালের
ওপর ৭২ মিটার দৈর্ঘ্যের
আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ প্রকল্প
গ্রহণ করা হয়। নির্মাণকাজ
শুরু হয় ২০২০ সালের
১৫ অক্টোবর, শেষ হওয়ার কথা
ছিল ২০২১ সালের ১৪
মার্চ। প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়
৬ কোটি ২৫ লাখ
৯৭ হাজার ৬৭৭ টাকা, আর
চুক্তিমূল্য ছিল ৫ কোটি
৯২ লাখ টাকা। কাজের
দায়িত্ব পায় মঈনুদ্দীন (বাশি)
লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
জমি অধিগ্রহণে জটিলতা:
সংযোগ সড়কের পথে সরকারি জায়গা দখল করে বাড়ি তৈরি করেছে প্রায় ২৫–৩০টি পরিবার। আবার কিছু জায়গা স্থানীয়রা নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি বলে দাবি করছেন। স্থানীয় ইমরান আলী বলেন, “এটা আমাদের পৈতৃক জমি। সরকার চাইলে দিতে পারি, তবে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।” আরেক বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন বলেন, “নদীভাঙনে বাড়িঘর গেছে। পরে সরকারি জায়গায় ঘর তুলেছি। এখন যদি রাস্তার জন্য জায়গা নেয়, তাহলে থাকার জায়গা থাকবে না।” সালেহা বেগম নামে এক পথচারী বলেন, “ব্রিজে হেঁটে পার হওয়া ছাড়া কোনো সুবিধা নেই। রাস্তা না হলে ব্রিজ দিয়ে কি হবে? তিন বছর ধরে মই দিয়ে উঠতে হচ্ছে।” শিক্ষক আব্দুল আলীম বলেন, “প্রথমে ঠিকাদার মাটি ফেলেছিল, কিন্তু সেগুলো ভেসে গেছে। পরে এলাকাবাসী নিজেরাই হাঁটার মতো রাস্তা বানিয়েছে। এখনো যানবাহন চলাচল সম্ভব নয়।”
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, “দেলুয়া ব্রিজটির মূল কাঠামোর কাজ শেষ হয়েছে। তবে সংযোগ সড়কের কাজ স্থগিত রয়েছে জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে। জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলে ঠিকাদার বাকি কাজ শেষ করবে।”
তিনি আরও জানান, “পরবর্তী ডিপিপিতে এ্যাপ্রোচ রোড থেকে একটি সংযোগ সড়ক অন্তর্ভুক্ত করা হবে।” স্থানীয়দের মতে, সড়ক নির্মাণ হলে ২০–৩০ হাজার মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। শুধু ক্ষতিপূরণ দিলেই জমির মালিকরা জায়গা ছেড়ে দিতে রাজি আছেন।
আকাশজমিন/আরআর