নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনা
জেলা শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে বাউলসাধক উকিল মুন্সির স্মরণানুষ্ঠান
হয়েছে কামাল পাশা নামক অপর
এক বাউলের ছবি দিয়ে! বুধবার
সন্ধ্যা ৭টায় জেলা শহরের
মোক্তারপাড়ায় শিল্পকলা একাডেমির ভবনে এ অনুষ্ঠান
হয়। অনুষ্ঠানে
উকিল মুন্সির জায়গায় অন্য আরেক বাউলের
ছবি ব্যবহার করায় স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীদের
ক্ষোভ দেখা দেয়। বিষয়টি
নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক লেখালেখি হয়।
জানা
গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির ভবনে প্রখ্যাত বাউলসাধক
উকিল মুন্সির স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে
প্রধান অতিথি ছিলেন নবাগত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ
আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক আরিফুল ইসলাম সরদারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন:
জেলা কালচারাল অফিসার সুজিত কুমার সাহা, রাজুর বাজার কলেজিয়েট স্কুলের অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা ও নেত্রকোনা সাহিত্য
সমাজের সাধারণ সম্পাদক কবি তানভীর জাহান
চৌধুরী। কিন্তু অনুষ্ঠানের ব্যানারে উকিল মুন্সির নামে
যে ছবিটি ব্যবহার করা হয় সেটি
মূলত সুনামগঞ্জের বাউল কামাল পাশার
নামে প্রচলিত একটি আঁকা ছবি।
অনুষ্ঠান চলাকালেই ব্যানারের ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মী
ও উকিল মুন্সির ভক্তরা
ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। কেউ
কেউ সরাসরি আয়োজকদেরকেও ভুল ছবিটির কথা
জানান। কিন্তু এরপরও ব্যানারটি সরানো হয়নি। ওই ব্যানার দিয়েই
পুরো অনুষ্ঠান শেষ করা হয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শিল্পকলা একাডেমির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি অনিচ্ছাকৃত ভুল।
ছবিটি গুগল করে নেয়া
হয়েছিল।’ লোকসংস্কৃতি গবেষক সুমনকুমার দাশ বলেন, ‘যে
ছবিটি ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় জন্মগ্রহণ করা বাউল কামাল
পাশার ছবি হিসেবে প্রচলিত,
কিন্তু সেটিও তাঁর মূল ছবি
নয়, হাতে আঁকা।’’ জেলার
সংস্কৃতিকর্মীদের অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘উকিল
মুন্সির জন্ম নেত্রকোনায়। তাঁর
ছবি আছে কি-না
এখানকার শিল্পকলা একাডেমিকে অবশ্যই জানতে হবে। তাদের আরও
সতর্ক হতে হবে।’
অনুষ্ঠানে
উপস্থিত থাকা কয়েকজন জানান,
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সূত্রে বিষয়টি জানার পর নবাগত জেলা
প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান
তাৎক্ষণিক উকিল মুন্সির দুই
স্বজনের সঙ্গে কথা বলেন। ওই স্বজনরা অনুষ্ঠানে
উপস্থিত ছিলেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি
সিদ্ধান্ত নেন, একজন শিল্পীকে
দিয়ে উকিল মুন্সির একটি
স্কেচ আঁকানো হবে। এর আগে
তাঁর (উকিল মুন্সির) পরিবারের
কাছ থেকে তাঁর বর্ণনা
জেনে নেয়া হবে। তাঁর
পরিবার সম্মত হলে তবেই সে
ছবিটি উকিল মুন্সির ছবি
হিসেবে ব্যবহার করা হবে। তিনি
আরও বলেন, উকিল মুন্সির কোনো
ছবি নেই, বিষয়টি আমার
আগে জানা ছিল না।
আমি এখানে সদ্য যোগদান করেছি।’
ব্যানার যে ভুলটি হয়েছে,
আশা করি ভবিষ্যতে এরকম
ভুলের অবকাশ আর থাকবে না।'
জানা গেছে, বাউলসাধক
উকিল মুন্সি ১৮৬৫ সালে নেত্রকোনার
খালিয়াজুরী উপজেলার নূরপুর বোয়ালি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি মোহনগঞ্জ উপজেলার
জৈনপুর গ্রামে থিতু হন। সেখানেই
১৯৭৮ সালে প্রয়াত হন।
জৈনপুর গ্রামে তাঁর নামে সাংস্কৃতিক
কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে। আষাঢ়
মাইসা ভাসা পানি/পূবালী
বাতাসেসহ উকিলের বেশকিছু গান ব্যাপক জনপ্রিয়।