ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

চরবাসীর স্বপ্নপূরণ: নতুন ব্রিজে তৃপ্তির হাসি


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৫ সময় : ৬:৪০ পিএম

মো. সাজ্জাদ হোসেন, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)

“আমাগো একটা ব্রিজ চাই, একটা ব্রিজ পেলেই তৃপ্তির হাসি ফুটবে হাজার পরিবারের মুখে”—এই শিরোনামে দুই বছর আগে দৈনিক আকাশ জমিন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল।


“আমাগো কষ্ট দেহনের কেউ নাই। জীবনডা কষ্ট করেই পার করলাম”—বেশ আক্ষেপ ও চাপা কষ্ট নিয়ে প্রায় বছর দুয়েক আগে কথাগুলো বলেছিলেন মাঝি সুজন শেখসহ মজলিশপুর চরাঞ্চলের মানুষ।


রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শেষ প্রান্তে অবস্থিত প্রত্যন্ত দুর্গম চরাঞ্চল মজলিশপুর ও মহিদাপুর। যাত্রী পারাপারে পদ্মার মাঝি সুজন শেখ, স্থানীয় বাসিন্দা শাজাহান শেখ, জহিরুল শেখ, মালেক বেপারী ও ৩১ নম্বর মজলিশপুর জয়নাল মৃধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সদ্য বিদায়ী শিক্ষক জহির রায়হানসহ অনেকে খুব কষ্ট নিয়ে বলেছিলেন কথাগুলো।


বছরের প্রায় ছয় মাস পানিতে ভরে থাকে মজলিশপুর ও মহিদাপুর গ্রাম। সেখানকার অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল, অনেকে মাছ ধরেন বা অন্য পেশায় যুক্ত। শহরের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। রাস্তা-ঘাটের বেহাল দশায় কৃষিপণ্য আনা-নেয়ার একমাত্র মাধ্যম ছিল ঘোড়ার গাড়ি।


উপজেলা শহর থেকে প্রায় ৫-৭ কিলোমিটার চিপা রাস্তা দিয়েই যাতায়াত করতেন এলাকার ৮-১০ হাজার মানুষ। শুকনো মৌসুমে ভ্যান-রিকশা কখনো চললেও বর্ষায় চলাচল একেবারেই বন্ধ হয়ে যেত। শহরের সঙ্গে একমাত্র সংযোগ রাস্তাটির প্রায় অর্ধ কিলোমিটার অংশ নিচু থাকায় বর্ষায় পারাপারের একমাত্র উপায় ছিল নৌকা। তবে এবার সেই কষ্টের অবসান ঘটেছে। ব্রিজ নির্মাণ হওয়ায় চরবাসীর মুখে এখন তৃপ্তির হাসি। এলাকার বাসিন্দারা জানান, বছর দুয়েক আগেও বর্ষায় নদী পার হতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হতো। এখন ব্রিজ নির্মাণের ফলে সহজেই চলাচল করা যাচ্ছে।


সরেজমিনে দেখা যায়, মজলিশপুর ও মহিদাপুর গ্রামে প্রবেশের পথে নির্মিত হয়েছে প্রশস্ত একটি কংক্রিট ব্রিজ। আগে যেখানে নৌকায় পার হতে হতো, সেখানে এখন সহজেই যানবাহন চলাচল করছে। শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি আশীর্বাদস্বরূপ।


৩১ নম্বর মজলিশপুর জয়নাল মৃধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় দুইশ শিক্ষার্থী রয়েছে, এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী আগে নৌকায় পারাপার হতো। এখন আর কোনো ঝুঁকি ছাড়াই স্কুলে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে।


চর দৌলতদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “মজলিশপুর চরে প্রায় ৮-৯ শত পরিবারের বসবাস। এই চরে ফসল খুব ভালো উৎপাদন হয়, কিন্তু আগে যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকরা ন্যায্য দাম পেত না। এখন ব্রিজ হওয়ায় কৃষিপণ্য সহজেই বাজারজাত করা যাচ্ছে।”



উজানচর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শেখ রাসেল আহমেদ বলেন, “আগে পুরো চরে যাতায়াতের জন্য কোনো রাস্তাই ছিল না। তিন-চার বছর আগে মাটির রাস্তা নির্মাণ হলেও বর্ষায় তা পানিতে ডুবে যেত। এখন বড় একটি ব্রিজ নির্মাণ হওয়ায় রিকশা, ভ্যান, অটোসহ বড় যানবাহন সহজেই চলাচল করছে। এতে চরবাসীর জীবনযাত্রায় এসেছে স্বস্তি ও উন্নয়ন।”

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর