ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

সড়ক নির্মাণে ধীরগতি, দুর্ভোগ

বেহাল সড়কে হাঁটু সমান পানি, চলাচল অনুপযোগী


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৫ সময় : ৬:৪৫ পিএম

শফিকুল আলম ভূঁইয়া, রূপগঞ্জ প্রতিনিধি:

ডেমরা-রূপগঞ্জ-কালিগঞ্জ সড়কের দক্ষিণ নবগ্রাম থেকে মাঝিনা নদীর পাড় পর্যন্ত দুই কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ধীরগতিতে যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়েই চলছে। পরশি-মুড়াপাড়া জিসি ভায়া রূপগঞ্জ সড়ক ১৪ দশমিক ২৭০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এবং লিংক রোড হিসেবে ফজুরবাড়ি থেকে কাঞ্চন সেতু পর্যন্ত ৪ দশমিক ৩৫০ কিলোমিটারসহ ১৮ দশমিক ৬২০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ কাজ চলছে।

সড়ক নির্মাণে ধীরগতি থাকায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। এলজিইডির এ প্রকল্পের বাঘবের থেকে ফজুরবাড়ি ও ফজুরবাড়ি থেকে কাঞ্চন সেতু পর্যন্ত নির্মাণ কাজ এগিয়েছে। কিন্তু মুশুরি ফজুরবাড়ি থেকে রূপগঞ্জ খেয়াঘাট ও হাবিবনগর এলাকায় সৃষ্ট গর্তে হাঁটু সমান পানি জমে সড়কে চলাচল একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ২৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ সড়কের ছয়টি কালভার্ট নির্মাণ কাজও ধীরগতিতে চলছে। এলাকাবাসীর আবেদন-নিবেদনেও কোন কাজ হচ্ছে না।

সরেজমিনে জানা গেছে, দক্ষিন নবগ্রাম, ভিংরাবো, হাবিবনগর, ইছাখালী, ফজুরবাড়ি এলাকার বেহাল দশার কারণে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। তবে সড়ক নির্মাণে জমির জটিলতা, সড়কের মাঝখানে ৩০-৩২টি বৈদ্যুতিক খুঁটি, বাঘবের এলাকার বিএনপি নেতাকর্মীদের জমির ক্ষতিপূরণ বিল না দেওয়া এবং অতিবর্ষণে কাজ বিলম্বিত হওয়ায় নির্মাণ কাজে ধীরগতি দেখা দিচ্ছে বলে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান দাবি করেছে।

এ প্রকল্পে ১৮ দশমিক ৬২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য, ২৪ ফুট প্রস্থ এবং উভয় পাশে তিন ফুট করে মোট ছয় ফুট ফুটপাত সহ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া চারটি ইউড্রেন নির্মাণ, ৪ দশমিক ৫০ কিলোমিটার বক্স ড্রেন নির্মাণ, দুইটি বক্স কালভার্ট নির্মাণ এবং ১২ মিটার আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। এসব কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৫ কোটি টাকা।

সড়ক নির্মাণে ২০২৩ সালের ৭ জুন ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড দায়িত্ব পায়। তারা একই বছর ২৯ মে নির্মাণ কাজ শুরু করে। ২০২৪ সালের ২৮ মে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে জমির জটিলতা ও অতিবর্ষণসহ নানা প্রতিকূলতায় নির্মাণ কাজের সময় বৃদ্ধি করা হয়। সে অনুযায়ী ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। এরপরও নানা জটিলতায় নির্মাণ কাজের সময় বৃদ্ধি করা হয়। সে অনুযায়ী গত ৩০ জুন নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্মাণ কাজ ধীরগতিতে চলায় চলাচলে মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে রূপগঞ্জ থানা ভবনের দক্ষিণ পাশ থেকে মুশুরি কবরস্থান পর্যন্ত এই সড়ক চলাচলের জন্য একেবারেই অনুপযোগী।

রাতের আঁধারে মালবাহী ভারী যান চলাচলের কারণে সড়কটিতে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে থাকে। কোথাও হাঁটু সমান পানি জমে কাদা-মাটিতে পরিণত হয়। তখন যানবাহন চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এ সময় যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ে।


রূপগঞ্জের দক্ষিণ নবগ্রাম, মাইফরাসপাড়া, ইছাখালী, পাড়াগাঁও, বড়ালু, ডাক্তারখালী এলাকায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সৃষ্ট গর্তে কোথাও হাঁটু সমান পানি জমে। প্রতিদিন হালকা পরিবহন উলটে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। রাস্তার দুই পাশ দিয়ে পথচারীরা চলাচল করতে পারছে না। পাকা রাস্তার মাঝখানে কাঁদার ছড়াছড়ি। এতে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ বেড়েই চলছে। পাথরবাহী লরি ও মালবাহী ট্রাক অবাধে চলাচল করার কারণে সড়কের এমন বেহাল অবস্থা হয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ডেমরা-রূপগঞ্জ-কালিগঞ্জ সড়ক সংস্কার কাজের ঠিকাদারির গাফিলতি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরহীনতায় ভোগান্তি দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিনিয়তই এ সড়কে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত সড়কের সংস্কার কাজ শেষ করার দাবি করছেন এলাকাবাসী।

ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

রূপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আকতার হোসেন বলেন, “নানা প্রতিকূলতায় সড়ক নির্মাণ কাজ ব্যাহত হলেও শিগগিরই দ্রুত গতিতে কাজ চলবে।”

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, “সড়ক নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পূর্ণ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যেই এ সড়কের নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হবে বলে আশা করি।”

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর