আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জেরুজালেমে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কঠোর বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। পলিটিকো এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের হতাশা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
ভ্যান্স ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা ও নীতির প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সূত্র জানায়, গত রোববার ইসরায়েলি হামলায় ৪০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এই ঘটনায় শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তারা গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং মনে করছেন, ইসরায়েল এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
একজন হোয়াইট হাউজ কর্মকর্তা পলিটিকোকে বলেন, “যা প্রকাশ্যে বলা হচ্ছে, সেটিই প্রেসিডেন্টের প্রকৃত অনুভূতি প্রকাশ করে।” এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তারা পশ্চিম তীর সংযুক্তিকরণ সংক্রান্ত ইসরায়েলি সংসদের নতুন বিলের সমালোচনা করেছেন।
বিশ্লেষকরা এটিকে দীর্ঘদিনের ইসরায়েলপন্থি নীতির সঙ্গে ওয়াশিংটনের অস্বাভাবিক দূরত্ব হিসেবে বর্ণনা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তন ইসরায়েলের নীতি এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি নতুন কূটনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিলিস্তিনিদের নিকট নেলসন মেন্ডেলা খ্যাত নেতা মারওয়ান বারঘুতিকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে ইসরায়েল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন। টাইম ম্যাগাজিনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, পরবর্তী ইসরায়েল সফরে বারঘুতির মুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ট্রাম্প সাক্ষাৎকারে আরও বলেছেন, “চুক্তির ক্ষেত্রে আমার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। হামাস নয়, বরং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এই চুক্তির সবচেয়ে বড় বাধা ছিলেন। এই যুদ্ধ বছরের পর বছর চলতে পারত, কিন্তু আমি নেতানিয়াহুকে থামালাম এবং সবাই তখন একত্রিত হলো।”
মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইসরায়েলের নতুন পদক্ষেপ ফিলিস্তিনি জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওয়াশিংটনের এই কূটনৈতিক পদক্ষেপ ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর বার্তা প্রকাশ করেছে, যে ইসরায়েলের অতিরিক্ত ও নিয়ন্ত্রণহীন পদক্ষেপ আর সহনীয় নয়। এতে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যত এবং মার্কিন নীতি যথেষ্ট প্রভাবিত হতে পারে।
ফিলিস্তিনি নেতা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই ঘটনা নজর রাখছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের পদক্ষেপ ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন মনোভাব প্রকাশ করছে এবং ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক চাপে রাখতে পারে।
আকাশজমিন / আরআর