ফরিদপুর সংবাদাতা
ফরিদুপুর শহরতলী টেপাখোলা ডিগ্রীচর ইউনিয়ন মুন্সিডাঙ্গী এলাকায় শুকুর সরদার পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে পরকীয়ার সাথে জড়িত থাকার পরে মহা তদারকিতে স্কুলে বহাল থাকার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।
ঘটনাটি স্থানীয় কিছু নেতার মাধ্যমে ধামাচাপা দেয়ায় অত্র এলাকা জুড়ে একটি সচেতন মহল মানুষের মাঝে উত্তেজনা পরিবেশ সহ ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এবং স্কুল থেকে শিক্ষকে অবসরণ করা সহ বিচারে দাবিতে জানায়।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দারা জানায় স্কুলের সহকারী শিক্ষক বাদশা খাঁ(৫০) স্কুলটির পাশে থাকা একটি বাড়ির মালিক ভ্যানচালক শেখ বিল্লাল এর স্ত্রী জেনমিন বেগম (৩৭) এর সাথে দীর্ঘ ধরে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িত ছিল। এই অবৈধ সম্পর্ক কেন্দ্র করে এলাকাবাসী বাদশা খাঁকে বোরকা পরা অবস্থায় বেশ কিছু গত হয়ে আটক করে। তবে অত্র এলাকার কিছু লোকজনকে হাতে করে তাৎক্ষণিক ঘটনা স্থান থেকে মুক্তি পায় বাদশা খাঁ ।
পরে ঘটনাটি লোক মুখে জোড়ালো ভাবে ছড়াছড়ি হলো এলাকার জুড়ে থমথমে পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এবং এ ঘটনার পর থেকে বাদশা খাঁ অসুস্থর কথা বলে মেডিকেল সার্টিফিকেট জমা দীর্ঘ সময়ের জন্য স্কুলটিতে অনুপস্থিত থাকেন। পরে এলাকার পরিস্থিতি একটু স্বাভাবি হলে স্থানীয় কিছু লোকের সহায়তায় আবারও স্কুলটিতে শিক্ষকতা করেন।
স্থানীয়ও এলাকাবাসী একাধিক ব্যক্তি জানায়,ওই শিক্ষকের মেয়ে ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে পরে। এই বয়সে এমন একটি জঘন্যতম কাজ করতে পারে ভাবতে কষ্ট হয়। তার কাছে আমাদের ছেলেমেয়েরা কি শিখবে। তার কাছে তো আমাদের ছেলেমেয়েরা নিরাপদ না। এর সঠিক বিচার না হলে শিক্ষকদের প্রতি কারো শ্রদ্বা সন্মান থাকবেনা। এই স্কুলটিতে তাকে আমরা দেখতে চাই না।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত স্কুলটির সহকারী শিক্ষক বাদশা খাঁ এর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোনটি না ধরায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মাহফুজা বেগমের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথম সব কিছুর অস্বীকার করলে পরে বলেন বিষয়টি আমি লোক মূখে শুনেছি। এবং পরে স্কুল কমিটি সহ উদ্ধতম কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ মহিউদ্দিন জানায় এই ব্যপারে আমি অবগত নয়। তবে আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।
সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার( ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন জানায়,বিষয়টি আমি মৌখিক ভাবে জেনেছি তবে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি আমি তদন্ত করে দেখবো।
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইমরান বলেন, ঘটনাটি সত্য পেয়েছি, তবে যতটুকু জানতে পেরেছি স্থানীয় কিছু লোকের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি বাদশা খাঁ মিমাংসা করেছেন। এই ব্যপারে শিক্ষা অফিসারা অবগত আছেন। তারা কি পদক্ষেপ নিবে সেটা তারাই ভাল জানেন।
স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতার ছেলে ডিগ্রিচর ৯ নং ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান খান জলিল জানায়,এ রকম একটি বাজে ঘটনা স্কুল শিক্ষকের ধারায় ঘটতে পারে আমরা সেটা চিন্তাও করতে পারি নাই। তাকে নিয়ে স্কুল সহ এলাকা জুড়ে একটি বাজে পরিবেশ তৈরী হয়েছে। এলাকার মানুষ তাকে স্কুলটিতে দেখতে চাচ্ছেনা। আমি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাকে এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব দিয়েছি। তবে এতো দিনে তিনি কেন কোন ব্যবস্থা নেয় নাই সেটা আমি বুঝতে পারছিনা। তবে আমরা স্থানীয় ভাবে এর একটি ব্যবস্থা গ্রহণ করে আপনাকে জানাবো।
আকাশজমিন / আরআর