ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে

শাপলা না দিলে রাজপথে নামবে এনসিপি: সারজিস


সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন এনসিপি নেতা সারজিস আলম

  • আপলোড সময় : রবিবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৫ সময় : ৬:২৯ পিএম

কিশোরগঞ্জ ব্যুরো 

নতুন জাতীয় নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও প্রতীক ব্যবহার নিয়ে ক্ষোভের মাত্রা বাড়ায় এনসিপি (ন্যাশনাল কনজারভেটিভ পার্টি)। দলের উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) যদি দলকে শাপলা প্রতীক না দেয়, তাহলে এনসিপি বাধ্য হয়ে রাজপথে নামবে এবং একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের আন্দোলন চালাবে।

রোববার দুপুর পৌনে দুইটায় কিশোরগঞ্জ জেলা শিল্পকলা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। সারজিস বলেন, “আমরা বিভিন্ন আইন প্রণেতা, আইনজ্ঞ ও আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তাদের পরামর্শ—শাপলা প্রতীক প্রদানে কোনো আইনী বাধা নেই। তবু ইসি প্রতীক দিচ্ছে না; যদি তাদের স্বাধীনতা না থাকে, তাহলে নির্বাচনে বিশ্বাস কিভাবে রাখা যাবে?” তিনি আরও বলেন, “শাপলা না দিলে এনসিপি শুধু প্রতীক নিয়ে নয়; নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে শক্তভাবে মঞ্চে দাঁড়াবে।”

সমন্বয় সভায় জেলা পর্যায়ের কর্মসূচি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলাপ হয়েছে। সভা শুরু হয় কোরআন তেলাওয়াত, জাতীয় সংগীত ও জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালনের মাধ্যমে। কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব আহনাফ সাঈদ খান সভাপতিত্বে ও জেলা সংগঠক ইকরাম হোসেন এর সঞ্চালনায় সভায় অংশ নেন ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দার, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির, দিদার শাহ প্রমুখ।

সারজিস জানান, পার্টির শক্তিকরণ ও নেটওয়ার্ক গঠনের লক্ষ্যে তারা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিটি জেলায় কমিটি করার পরিকল্পনা নিয়েছেন এবং ডিসেম্বরের মধ্যে সব উপজেলায় কমিটি করতে চায়। “প্রতিটি জেলায় আমরা কমিটি করে নিব—এটাই আমাদের লক্ষ্য,” তিনি বলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে সারজিস অভিযোগ করেন, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বড় দলের লোকজন সুবিধা নিচ্ছেন এবং প্রথাগত আঁতাত চলছে। তিনি বলেন, “কেউ কোনো দলের ওসি বা এসপির পরিচয় দিয়ে সুবিধা নেন—এই ধরনের অনিয়মের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এছাড়া, তিনি অভিযোগ আনেন—কিছু হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ও বিচারে অবিচারের কারণে বিচারপ্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে; হাইকোর্টেও অনিয়মজনিত জামিনের বিষয়টি উত্থাপন করেন তিনি এবং সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা দেন।

সারজিস আরও বলেন, এনসিপি মাত্র কয়েকটি আসনের জন্য কোনো অ্যালায়েন্সে যাবে না; যদি কোনো দল জুলাই সনদ বাস্তবায়নে নিবেদিত না থাকে, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ না থাকে কিংবা মৌলিক সংস্কার ও বিচারিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে অপরাগ—তাহলে তাদের সঙ্গে অ্যালায়েন্সকে তারা গ্রহণ করবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক অ্যালায়েন্স গড়ার ক্ষেত্রে এনসিপি নীতিগত অবস্থানই প্রথম শর্ত বিবেচনা করবে।

সমন্বয় সভার পর ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে জেলার আশপাশ ও শিল্পকলা একাডেমি এলাকায় নিরাপত্তারত ছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পার্টি সূত্র জানায়, জেলা–উপজেলা পর্যায়ে দ্রুত সংগঠন গঠন করে মাঠের প্রস্তুতি চূড়ায় পৌঁছে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় শক্ত অবস্থান দেখাবে এনসিপি।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর