গাজীপুর প্রতিনিধি:
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে প্রচারিত একটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভিডিও কনটেন্টকে কেন্দ্র করে গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকার দুইজনের বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকার মানহানি মামলা করেছেন। মামলায় ওই দুইজনকে আসামি করা হয়েছে।
শওকত হোসেন সরকার অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে প্রচারিত ভিডিওতে নানা ধরনের মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছে। এতে তার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক সম্মান গুরুতরভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তিনি বলেন, “আমার রাজনৈতিক অবস্থান ও সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এই অপপ্রচার চালানো হয়েছে। আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি যেন সত্য প্রকাশ পায় এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়।”
তিনি আরও বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার করে কাউকে হেয় করার প্রবণতা গণতন্ত্র ও সমাজের জন্য বিপজ্জনক। আমি চাই, এই ধরনের মিথ্যা প্রচারণার বিরুদ্ধে সবাই সচেতন হোক।”
মামলাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই ভিডিওটি জনমনে ভুল ধারণা সৃষ্টির পাশাপাশি তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সুনামকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার, হেয় ও মানহানিকর প্রচারণা একটি গুরুতর বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি আস্থা হ্রাস করতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক নেতাদের জন্য মামলা দায়ের করা একটি স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা। এটি অন্যদের জন্যও সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে। এছাড়া, এটি ডিজিটাল যুগে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দায়িত্বপূর্ণ ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
মামলাটি গাজীপুরের একটি আদালতে দায়ের করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে এ ঘটনায় নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে এই ধরনের আইনি পদক্ষেপ আগামীতে রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
বিএনপির নেতাদেরও এই ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলা হয়, সমাজে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য এমন পদক্ষেপ সময়োপযোগী। মিথ্যা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করলে রাজনৈতিক নেতারা তাদের সুনাম রক্ষা করতে পারবেন।
শওকত হোসেন সরকারের আইনজীবী জানান, মামলাটি শীঘ্রই আদালতের মাধ্যমে প্রক্রিয়াধীন হবে। মামলা সম্পূর্ণভাবে আইনের আওতায় পরিচালিত হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। অপপ্রচারের শিকার ব্যক্তিরা আইনের সাহায্য নিতে পারেন এবং সামাজিক দায়িত্বশীলতা বজায় রেখে তথ্য যাচাই করা উচিত।