ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

সাদা বক আর মানুষের বন্ধুত্বের দৃষ্টান্ত


সাদা বক আর মানুষের বন্ধুত্বের দৃষ্টান্ত

  • আপলোড সময় : রবিবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৫ সময় : ৯:১৩ পিএম

বাউফল (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নুরাইনপুর বাজারের একটি ছোট দোকানের সামনে বাজারের কোলাহল আর মানুষের ভিড় উপেক্ষা করে নিশ্চিন্তে দাঁড়িয়ে থাকে একটি সাদা বক। কিছুক্ষণ পর এই বক দোকানের ভেতরে ঢুকে দোকানদার মো. হেমায়েত উদ্দিনের পাশে বসে যায়, যেন বহু দিনের সঙ্গী। এই অদ্ভুত দৃশ্য প্রত্যক্ষ করে লোকজন অবাক হয়ে যায়, কিন্তু বকটির সঙ্গে হেমায়েতের বন্ধুত্বের গল্প শুনলে তা খুব স্বাভাবিক মনে হয়।

হেমায়েত উদ্দিন (৩৮) নুরাইনপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি প্রায় চার বছর ধরে বাজারের মসজিদের পাশে স্টেশনারির ব্যবসা পরিচালনা করছেন। গত চার মাস ধরে তার দোকানেই বসবাস করছে এই বক। স্থানীয়রা জানায়, বকটি নুরাইনপুর বাজার সংলগ্ন খানবাড়ির একটি “বকের বাড়ি” থেকে ঝড়ে পড়ে আসে। তখন একটি গুইসাপ সেটিকে আক্রমণ করতে গিয়েছিল। হেমায়েত উদ্দিন তখন এগিয়ে এসে বকছানাটিকে উদ্ধার করেন। এরপর তিনি যত্ন সহকারে বকটিকে সুস্থ করে তোলেন এবং তার সন্তানদের মতোই দেখাশোনা করেন।

দোকানের আশেপাশে বকটি কখনও দাঁড়িয়ে থাকে, কখনও ছাউনিতে বসে। মাঝে মাঝে হেমায়েতের চেয়ারের হাতলে এসে বসে পড়ার দৃশ্যও দেখা যায়। মানুষের উপস্থিতি বকটিকে কোনোভাবে ভীত করে না। দোকানের জিনিসপত্রও নষ্ট করে না, এমনকি মলত্যাগও নির্দিষ্ট জায়গায় করে। যেন নিয়ম-শৃঙ্খলা জানা এক পরিবারের সদস্য।

হেমায়েত উদ্দিন জানান, “বকটি পাওয়ার পর থেকে কখনও বেঁধে রাখিনি। সব সময় দোকানের আশপাশেই থাকে। ওর ক্ষুধা পেলে বুঝতে পারি—টুপি বা পাঞ্জাবি ধরে খুনসুটি করে। তখন আমি ছোট মাছ দিয়ে খাওয়াই। ফ্রিজে কিছু মাছ রেখে পরে খাওয়াই। কখনও নিজেই জাল ফেলে মাছ ধরেও আনে। অসুস্থ হলে নাপা ট্যাবলেট খাইয়ে সুস্থ করি। রাতেও দোকানেই থাকে।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী মোঃ খলিল বলেন, “মানুষ আর বকের এমন বন্ধুত্ব আগে দেখিনি। প্রতিদিন বাজারে এলে বকটিকে হেমায়েতের দোকানে দেখা যায়। ওর যত্ন নেওয়ার ধরন সত্যিই অবাক করার মতো। মানুষের সঙ্গে বকটির বন্ধুত্ব একটি অনন্য উদাহরণ।”

বকটি ও হেমায়েতের সম্পর্ক শুধু স্থানীয়দের জন্যই নয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ভাইরাল হয়েছে। নুরাইনপুর বাজারের মানুষজন বলেন, “এভাবে বক আর মানুষের বন্ধুত্ব দেখলে সত্যিই মুগ্ধ হওয়া যায়। হেমায়েত ও বক একে অপরের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ জীবনযাপন করছে।”

এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, প্রাণীদের প্রতি সহমর্মিতা এবং যত্নের সম্পর্ক মানুষের জীবনে আনন্দ এবং শান্তি নিয়ে আসে। ঝড়ে পড়ে বাঁচানো বকটির জন্য হেমায়েত উদ্দিনই এখন অভিভাবক, সঙ্গী এবং পরিবার সমান।

আকাশজমিন / আরআর 





এ সম্পর্কিত আরো খবর