ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,  ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চার মাসেই ধসে গেল কোটি টাকার সড়ক


সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত এবং পাশ ভেঙে গেছে

  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৫ সময় : ৮:০২ পিএম

রেজাউল ক‌রিম ঝন্টু , সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার পাটবন্দর–সাতবাড়িয়া সড়কটি নির্মাণের মাত্র চার মাসের মধ্যেই ধসে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে দ্রুত নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে পথচারী ও যানবাহন চালকরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

 

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর অধীনে প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সড়কটি সম্প্রতি ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে এবং রাস্তার পাশ ভেঙে গেছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে পড়েছে।

 

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এশা অ্যান্ড মারিয়া এন্টারপ্রাইজ’ কাজের মান নিয়ে যথাযথ তদারকি করেনি। বেতবাড়ি গ্রামের আব্দুল আলিম বলেন, “রাস্তা নতুন হয়েছিল দেখে আমরা খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যে ধসে যাওয়ায় মনে হচ্ছে কোটি টাকা অপচয় হয়েছে।” অন্য স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেছেন, বৃষ্টির মধ্যেই তড়িঘড়ি করে পিচ ঢালাই করা হয়েছিল।

 

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী বিশ্বজিৎ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, “নিম্নমানের কাজের অভিযোগ সত্য নয়। বরং সম্প্রতি ভারী বর্ষণের কারণে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি প্রকৃতির অমিত প্রভাব।”

 

উল্লাপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. শহিদুল্লাহ বলেন, “প্রবল বর্ষণের কারণে অনেক জায়গায় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সড়কটি দ্রুত মেরামতের কাজ শুরু হবে।” তিনি আরও জানিয়েছেন, ঠিকাদারির মাধ্যমে নির্মাণকাজের তদারকি করা হচ্ছে এবং সমস্যাগুলো সমাধানে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

 

ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা দ্রুত মেরামতের পাশাপাশি নিম্নমানের নির্মাণের অভিযোগের তদন্ত দাবি করেছেন। তারা মনে করছেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দোষ স্বীকার করা উচিত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ত্রুটি প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

 

এ ঘটনায় পরিবহন শ্রমিকরা এবং যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। গাড়ি চালকদের জন্য বিপজ্জনক হয়েছে সড়কটি। বিশেষ করে রাতের সময় রাস্তার ধসের জায়গাগুলো পর্যবেক্ষণ করা কঠিন হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। স্থানীয়রা প্রশাসনকে ত্বরিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

সড়কটি নির্মাণের সময় এলজিইডি জানিয়েছিল, এটি উল্লাপাড়া ও সাতবাড়িয়ার মধ্যে যোগাযোগ সহজ করবে এবং এলাকার উন্নয়নে সহায়তা করবে। কিন্তু মাত্র কয়েক মাসের ব্যবহারের মধ্যে ধসের ঘটনা স্থানীয়দের হতাশ করেছে।

 

উল্লাপাড়া উপজেলার অন্যান্য সড়কগুলোরও দ্রুত তদারকির প্রয়োজন রয়েছে। এলজিইডি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে নির্মাণকাজে মান নিয়ন্ত্রণ এবং তদারকি আরও শক্তিশালী করা হবে। এর ফলে সড়কের দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং কোটি টাকার অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর