ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

ভিয়েতনামে ভয়াবহ বন্যা: একদিনে ১০০০ মিমি বৃষ্টি


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৫ সময় : ৪:৩৩ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ভিয়েতনামে একদিনে রেকর্ড ১০০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাতের কারণে মধ্যাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। বন্যার কারণে দেশটির ঐতিহাসিক পর্যটন নগরী হুয়ে ও হোই আনসহ বহু এলাকা পানির তলায় তলিয়ে গেছে। এক প্রতিবেদনে বার্তাসংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে।

ভিয়েতনামের সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৬ জন দা নাং শহর ও হোই আন এলাকায় মারা গেছেন। উভয় স্থানই দেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্যে বলা হয়েছে, ১ লাখ ৩ হাজারেরও বেশি বাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে, যার অধিকাংশই হুয়ে ও হোই আন এলাকায়।

প্রতিবছরই ভিয়েতনামে বর্ষা মৌসুমে ঝড় ও বন্যায় প্রাণহানি এবং সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে থাকে। বিশেষ করে জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এই ধরনের পরিস্থিতি সাধারণ। এ বছর সোমবার রাত পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১০০০ মিলিমিটারের বেশি, যা স্থানীয় ইতিহাসে একদিনে সর্বোচ্চ।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, হোই আন শহরের বড় অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে, অনেক বাড়ির ছাদ পর্যন্ত ডুবে আছে। হুয়ে শহরের ৪০টি উপজেলার মধ্যে ৩২টিই এখন পানির নিচে। সেখানে পানির গভীরতা ১ থেকে ২ মিটার। দা নাং শহরের জলাধার ইতোমধ্যেই সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতায় পৌঁছেছে। নদীগুলোর পানির উচ্চতাও ক্রমেই বাড়ছে।

সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “নদী ও নগর এলাকার নিচু অংশে বিস্তৃত বন্যা চলছে। পাহাড়ি অঞ্চলে হঠাৎ বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়ে গেছে।” দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, কিছু এলাকায় ভূমিধসের কারণে যানবাহন চলাচল বন্ধ, বিদ্যুৎ সরবরাহও বিচ্ছিন্ন। রাজধানী হ্যানয় এবং বাণিজ্যিক নগরী হো চি মিন সিটির মধ্যে রেল যোগাযোগও মঙ্গলবার থেকে বন্ধ রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী দুই দিনও ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত কিছু এলাকায় ৪০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে নদী, শহর ও পাহাড়ি অঞ্চলে আরও বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি থাকবে।

স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জরুরি অবস্থায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সারা দেশে ত্রাণকর্মীরা তলিয়ে যাওয়া এলাকায় মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা, খাবার ও পানি সরবরাহের কাজ চালাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিয়েতনামের মধ্যাঞ্চল প্রতি বছর বর্ষার সময়ে ঝড় ও বন্যার ঝুঁকিতে থাকে। তবে এবার একদিনে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত এবং প্লাবিত এলাকার সংখ্যা অতীতের চেয়ে অনেক বেশি। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন এবং নাগরিকদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর