অনলাইন ডেস্ক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার বড় হুজুর বাড়ি দারুল নাজাত মহিলা মাদ্রাসায় একটি বিদ্যুতের ট্রান্সফর্মার বিস্ফোরণ ঘটেছে। বুধবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল পৌনে চারটার দিকে এই ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের ফলে আট শিক্ষার্থী দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছাড়ানো হয়েছে, আর তিনজনকে জরুরি বিভাগে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান নিশ্চিত করেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ট্রান্সফর্মার বিস্ফোরণ থেকে দগ্ধ ৮ মাদ্রাসা শিক্ষার্থী এসেছে। তাদের মধ্যে দগ্ধের মাত্রা ভিন্নভাবে হয়েছে। সাদিয়া আক্তারের ১৩ শতাংশ, রুবাইয়ার ৫ শতাংশ, আয়মানের ২ শতাংশ, নুসরাতের ৩ শতাংশ, তুইবার ৩ শতাংশ, রওজার ৩ শতাংশ, আলিয়ার ১৪ শতাংশ এবং আফরিনের ৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পাঁচজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, বাকি তিনজন এখনও জরুরি বিভাগে অবজারভেশনে রয়েছেন।
আহত আফরিনের মামা মো. আনোয়ার জানান, বিকেলের দিকে হঠাৎ মাদ্রাসার পাশে ট্রান্সফর্মার বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় চতুর্থ তলায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছিল। আগুনের ফুলকি মাদ্রাসার ভিতরে প্রবেশ করলে শিক্ষার্থীরা দগ্ধ হন। পরে রাতেই তাদের দ্রুত উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়।
মাদ্রাসার অন্যান্য শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে ছুটে বের হন এবং স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনেন। স্থানীয়রা জানান, বিস্ফোরণের সময় বিদ্যুতের বড় গোলমাল হয়, যা এলাকাবাসীকে আতঙ্কিত করে।
এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে স্থানীয় প্রশাসন মাদ্রাসা ও আশপাশের বিদ্যুৎ সরবরাহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার ঘোষণা দিয়েছে। স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের কারণ নিয়ে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পুরনো ট্রান্সফর্মার এবং অতিরিক্ত লোডের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
শিক্ষা কর্মকর্তারা বলেন, মাদ্রাসায় শিক্ষা কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে বিদ্যুৎ সংযোগ, ট্রান্সফর্মার রক্ষণাবেক্ষণ এবং জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই ঘটনার পর এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন হয়ে স্কুল ও মাদ্রাসায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত বিদ্যুৎ নিরাপত্তা চেক এবং জরুরি প্রস্তুতি রাখা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
আকাশজমিন / আরআর